ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন-বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠতা: ভারতের অস্বস্তি কেন?

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 194

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য চীন বিশেষভাবে আগ্রহী এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনে আগে থেকেই পরিচিত হওয়ায় তাকে সেখানে সম্মানের সাথে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 ইউনূসের চীন সফর নিয়ে মূল্যায়ন:

অধ্যাপক ইউনূসের চীন সফর নিয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ড. ইউনূস পশ্চিমা বিশ্বে অত্যন্ত পরিচিত এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তবে চীনেও তার যথেষ্ট পরিচিতি ও সম্মান রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার আগেই চীনে তার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের প্রয়োগ দেখা গেছে এবং তিনি বেশ কয়েকবার চীন সফর করেছেন। ফলে চীনা নেতৃত্বের সাথে তার একটি সম্পর্ক রয়েছে।

 ভারত ও চীনের সাথে সম্পর্ক:

ভারত ও চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, এই প্রশ্নের উত্তরে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, চীন ও ভারত দুটিই আমাদের বিশাল প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তবে দেশ দুটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কে কিছু ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে সীমান্ত নিয়ে। তাইওয়ান ইস্যুতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি চীনের জন্য অস্বস্তিকর। তবে চীন ও ভারত উভয়েই বিশাল বাণিজ্য সম্পর্কের কারণে একে অপরের উপর নির্ভরশীল।

 ভারতের মনোভাব:

তিনি মনে করেন, ভারত চায় বাংলাদেশ যেন চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ না হয়ে তাদের তাঁবেদারিতে থাকে, যা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে কাম্য নয়। চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, ১৯৭৬ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুদেশের সম্পর্ক ৫০ বছর পার করছে। তাই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের স্বার্থে চীনের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া উচিত এবং এক্ষেত্রে ভারতের অসন্তুষ্টি দেখার বিষয় নয়।

 ইউনূসের সম্মানে চীনের পদক্ষেপ:

ড. মাহবুব উল্লাহ উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ইউনূসের চীন সফরের জন্য চীনের প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যা চীনের পক্ষ থেকে ইউনূসকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনার প্রমাণ।

ভারতের মাথাব্যথার কারণ:

চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর হলে ভারতের মাথাব্যথা কেন, এই প্রশ্নের উত্তরে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ভারত মনে করে চীনের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক বাড়লে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভারতের ‘চিকেন নেক’ অবস্থিত। ভারত আশঙ্কা করে, বাংলাদেশের সাথে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হলে এই চিকেন নেক তাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 ভবিষ্যৎ সম্পর্কের আভাস:

তিনি মনে করেন, বিশ্ব শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন মেরুকরণ ঘটবে, যেখানে আমেরিকা বিরোধী শক্তিগুলো একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করবে এবং এর ফলে চীন ও ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে, তবে তা সহজে বা নিকট ভবিষ্যতে নয়।

চীন-বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠতা: ভারতের অস্বস্তি কেন?

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য চীন বিশেষভাবে আগ্রহী এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনে আগে থেকেই পরিচিত হওয়ায় তাকে সেখানে সম্মানের সাথে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 ইউনূসের চীন সফর নিয়ে মূল্যায়ন:

অধ্যাপক ইউনূসের চীন সফর নিয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ড. ইউনূস পশ্চিমা বিশ্বে অত্যন্ত পরিচিত এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তবে চীনেও তার যথেষ্ট পরিচিতি ও সম্মান রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার আগেই চীনে তার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের প্রয়োগ দেখা গেছে এবং তিনি বেশ কয়েকবার চীন সফর করেছেন। ফলে চীনা নেতৃত্বের সাথে তার একটি সম্পর্ক রয়েছে।

 ভারত ও চীনের সাথে সম্পর্ক:

ভারত ও চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, এই প্রশ্নের উত্তরে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, চীন ও ভারত দুটিই আমাদের বিশাল প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তবে দেশ দুটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কে কিছু ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে সীমান্ত নিয়ে। তাইওয়ান ইস্যুতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি চীনের জন্য অস্বস্তিকর। তবে চীন ও ভারত উভয়েই বিশাল বাণিজ্য সম্পর্কের কারণে একে অপরের উপর নির্ভরশীল।

 ভারতের মনোভাব:

তিনি মনে করেন, ভারত চায় বাংলাদেশ যেন চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ না হয়ে তাদের তাঁবেদারিতে থাকে, যা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে কাম্য নয়। চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, ১৯৭৬ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুদেশের সম্পর্ক ৫০ বছর পার করছে। তাই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের স্বার্থে চীনের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া উচিত এবং এক্ষেত্রে ভারতের অসন্তুষ্টি দেখার বিষয় নয়।

 ইউনূসের সম্মানে চীনের পদক্ষেপ:

ড. মাহবুব উল্লাহ উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ইউনূসের চীন সফরের জন্য চীনের প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যা চীনের পক্ষ থেকে ইউনূসকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনার প্রমাণ।

ভারতের মাথাব্যথার কারণ:

চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর হলে ভারতের মাথাব্যথা কেন, এই প্রশ্নের উত্তরে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ভারত মনে করে চীনের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক বাড়লে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভারতের ‘চিকেন নেক’ অবস্থিত। ভারত আশঙ্কা করে, বাংলাদেশের সাথে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হলে এই চিকেন নেক তাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 ভবিষ্যৎ সম্পর্কের আভাস:

তিনি মনে করেন, বিশ্ব শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন মেরুকরণ ঘটবে, যেখানে আমেরিকা বিরোধী শক্তিগুলো একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করবে এবং এর ফলে চীন ও ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে, তবে তা সহজে বা নিকট ভবিষ্যতে নয়।