ছাত্রলীগ নেতা এখন ছাত্রদল সভাপতি
- আপডেট সময় : ১০:০০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 525
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (জেসিডি) আংশিক কমিটি অনুমোদন নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নির্বাচিত সভাপতি তাহমিদ আলম সফি অতীতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ ও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ তড়িঘড়ি করে এই কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
ছাত্রদল সভাপতি, কিন্তু অতীতে ছাত্রলীগ নেতা!
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছয় সদস্য বিশিষ্ট এই আংশিক কমিটি অনুমোদন হয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন সভাপতি তাহমিদ আলম সফি ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে অনুমোদিত বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার সমাজসেবা সম্পাদক পদে ছিলেন। এমনকি তিনি শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এবং ফেসবুকে প্রচারণাও করেছেন।
সফির আত্মপক্ষ সমর্থন: ‘নাম জোর করে যুক্ত হয়েছিল’
বিতর্কের মুখে সভাপতি তাহমিদ আলম সফি জানান, তার পরিবার বরাবরই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সফির দাবি, কলেজ জীবনে জোরপূর্বক তার নাম বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদে যুক্ত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন,
“আমার মননে সবসময় ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী আদর্শ কাজ করেছে। পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে আমি অন্য কিছু ভাবতে পারি না।”
তবে এই বিতর্কের কারণে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান নতুন সভাপতি সফিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমিটি অনুমোদন
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে গত ২৯ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ একাডেমিক কাউন্সিল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক ও ক্লাবের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এই কমিটি অনুমোদন দেয় এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, অনুমোদিত কমিটির ছয় সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই ইন্টার্নশিপের প্রায় শেষ পর্যায়ে আছেন। কেবল সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল সাবিত তাবিই এখনো তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় বর্তমানে কক্সবাজারের রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে।











