ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে পৈতৃক বাড়ি দখলের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • / 1384

পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় বসবাসের পৈতৃক বাড়ি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারেক আহমেদ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজিব মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার (৮ মার্চ ২০২৫) দুপুরে ফরিদপুর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারেক আহমেদ। বর্তমানে তিনি ঢাকার শান্তিনগরের মালিবাগ বাগান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ভাঙ্গা পৌরসভার কোর্টপাড় এলাকার শামসুদ্দিন আহমেদের পুত্র।

বাড়ি দখলের বিবরণ ও আইনি পদক্ষেপ:

তিনি জানান, কোর্টপাড় এলাকার প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল সড়কে প্রায় ১১ শতাংশ জায়গা নিয়ে বাড়িটির অবস্থান। ১৯৯৩ সালে বাড়িটি মর্গেজের মাধ্যমে পূবালী ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে লোন নেন তার বাবা। এরপর বাড়িটি ওই ব্যাংকের আওতায় চলে যায়। এরমধ্যে স্থানীয় বেলায়েত হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখলে নেয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের দিকে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা সুদ মওকুফ করেন তারেক আহমেদের পরিবার। এরপর ২০২২ সালের দিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে বাড়িটি তাঁদের বুঝিয়ে দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমার পরিবারের সবাই পেশাগত কারণে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। আমরা ঢাকায় অবস্থানের কারণে পৈতৃক ওই জমিতে মালিকানাধীন ভবনে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করে আসছে। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট রাতে ভাঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজিব মাতুব্বরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বাড়ি দখল করে নেয়। তখন ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দেয় এবং মালামালও লুটপাট করে নেয়।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে সজিব মাতুব্বরের নাম থাকায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে আমি বিজ্ঞ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) আদালতে মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলেও দলীয় প্রভাবের কারণে ভাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রেফতার করছেন না। এছাড়া মামলা করার পর থেকে সজিব মাতুব্বর আমার কাছে টাকা দাবি করছে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।”

অভিযুক্তের বক্তব্য ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা:

তবে দখলের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজিব মাতুব্বর জানান। তিনি বলেন, “একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। যতটুকু জানি, বাড়িটি পূর্বে আওয়ামী লীগের কাজী জাফরউল্যার সমর্থক বেলায়েতের দখলে ছিল এবং পরে ব্যাংকের একটি ঝামেলার কারণে নিক্সন চৌধুরীর প্রভাবে সমর্থক তারেক আহমেদকে বুঝিয়ে দেয়। এখানে আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। আমি কেন তাঁদের মাঝে যাব বা শেল্টার দেব।” জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন মিঠু জানান, “যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে এবং তা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা বেরিয়ে আসলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।” এদিকে আদালতের কোনো আদেশ থানা পুলিশ পায়নি বলে ভাঙ্গা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানান। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, “আদালত থেকে আদেশ আসলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, সে যে দলেরই হোক।”

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ফরিদপুরে পৈতৃক বাড়ি দখলের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০১:০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় বসবাসের পৈতৃক বাড়ি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারেক আহমেদ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজিব মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার (৮ মার্চ ২০২৫) দুপুরে ফরিদপুর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারেক আহমেদ। বর্তমানে তিনি ঢাকার শান্তিনগরের মালিবাগ বাগান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ভাঙ্গা পৌরসভার কোর্টপাড় এলাকার শামসুদ্দিন আহমেদের পুত্র।

বাড়ি দখলের বিবরণ ও আইনি পদক্ষেপ:

তিনি জানান, কোর্টপাড় এলাকার প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল সড়কে প্রায় ১১ শতাংশ জায়গা নিয়ে বাড়িটির অবস্থান। ১৯৯৩ সালে বাড়িটি মর্গেজের মাধ্যমে পূবালী ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে লোন নেন তার বাবা। এরপর বাড়িটি ওই ব্যাংকের আওতায় চলে যায়। এরমধ্যে স্থানীয় বেলায়েত হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখলে নেয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের দিকে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা সুদ মওকুফ করেন তারেক আহমেদের পরিবার। এরপর ২০২২ সালের দিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে বাড়িটি তাঁদের বুঝিয়ে দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমার পরিবারের সবাই পেশাগত কারণে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। আমরা ঢাকায় অবস্থানের কারণে পৈতৃক ওই জমিতে মালিকানাধীন ভবনে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করে আসছে। কিন্তু গত ৫ই আগস্ট রাতে ভাঙ্গা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজিব মাতুব্বরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে বাড়ি দখল করে নেয়। তখন ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দেয় এবং মালামালও লুটপাট করে নেয়।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে সজিব মাতুব্বরের নাম থাকায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে আমি বিজ্ঞ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) আদালতে মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলেও দলীয় প্রভাবের কারণে ভাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রেফতার করছেন না। এছাড়া মামলা করার পর থেকে সজিব মাতুব্বর আমার কাছে টাকা দাবি করছে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।”

অভিযুক্তের বক্তব্য ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা:

তবে দখলের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজিব মাতুব্বর জানান। তিনি বলেন, “একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। যতটুকু জানি, বাড়িটি পূর্বে আওয়ামী লীগের কাজী জাফরউল্যার সমর্থক বেলায়েতের দখলে ছিল এবং পরে ব্যাংকের একটি ঝামেলার কারণে নিক্সন চৌধুরীর প্রভাবে সমর্থক তারেক আহমেদকে বুঝিয়ে দেয়। এখানে আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। আমি কেন তাঁদের মাঝে যাব বা শেল্টার দেব।” জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন মিঠু জানান, “যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে এবং তা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা বেরিয়ে আসলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।” এদিকে আদালতের কোনো আদেশ থানা পুলিশ পায়নি বলে ভাঙ্গা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানান। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, “আদালত থেকে আদেশ আসলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, সে যে দলেরই হোক।”

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।