ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে স্কুলে তালাবদ্ধ শিক্ষকরা, ছাত্রদের দাবিতে উত্তপ্ত ময়না ইনস্টিটিউশন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
  • / 514

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না এসিবোস ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীরা সোমবার (১২ মে) সকালে শিক্ষকদের অফিস কক্ষে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ক্লাস বর্জন করে। পরে ময়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক মৃধা ও পুলিশের সহযোগিতায় শিক্ষকরা মুক্ত হন।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোকলেসুর রহমান অরুণের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরীর নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের তদন্ত এসএসসি পরীক্ষার পর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ভাঙচুর ও প্রতিবাদ মিছিল

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে শিক্ষকরা তাদের বসার কক্ষে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। একই সময়ে তারা প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবিতে মিছিল করে এবং স্কুলের সীমানার টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। শিক্ষকরা পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং তালা খুলে দেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষকদের অভিমত

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মৃধা আবুল হাশেম ও সহকারী শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসাইন বলেন, “আমরা শিক্ষকরা রুমে ঢোকার পর শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর তারা মিছিল করে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করে। পরে ইউপি চেয়ারম্যান এসে তালা খুলে দেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের রুমেও জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ক্লাস বর্জনের কারণে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়।”

প্রশাসনের বক্তব্য

প্রধান শিক্ষক মোকলেসুর রহমান অরুণ বলেন, “স্কুলে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের রুমে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ক্লাস বর্জন করেছে।”

ময়না ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক মৃধা বলেন, “কয়েকজন শিক্ষক ফোন করে জানান যে শিক্ষার্থীরা তাদের রুমে তালা দিয়ে রেখেছে। পরে আমি এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তালা খুলে দিই।”

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, “বিদ্যালয়ের সমস্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পৌঁছার আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।”

ইউএনও-এর প্রতিক্রিয়া

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “বিদ্যালয়ে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, তবে পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।”

ট্যাগস :

ফরিদপুরে স্কুলে তালাবদ্ধ শিক্ষকরা, ছাত্রদের দাবিতে উত্তপ্ত ময়না ইনস্টিটিউশন

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না এসিবোস ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীরা সোমবার (১২ মে) সকালে শিক্ষকদের অফিস কক্ষে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ক্লাস বর্জন করে। পরে ময়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক মৃধা ও পুলিশের সহযোগিতায় শিক্ষকরা মুক্ত হন।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোকলেসুর রহমান অরুণের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরীর নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের তদন্ত এসএসসি পরীক্ষার পর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ভাঙচুর ও প্রতিবাদ মিছিল

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে শিক্ষকরা তাদের বসার কক্ষে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। একই সময়ে তারা প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবিতে মিছিল করে এবং স্কুলের সীমানার টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। শিক্ষকরা পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং তালা খুলে দেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষকদের অভিমত

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মৃধা আবুল হাশেম ও সহকারী শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসাইন বলেন, “আমরা শিক্ষকরা রুমে ঢোকার পর শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর তারা মিছিল করে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করে। পরে ইউপি চেয়ারম্যান এসে তালা খুলে দেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের রুমেও জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ক্লাস বর্জনের কারণে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়।”

প্রশাসনের বক্তব্য

প্রধান শিক্ষক মোকলেসুর রহমান অরুণ বলেন, “স্কুলে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের রুমে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ক্লাস বর্জন করেছে।”

ময়না ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক মৃধা বলেন, “কয়েকজন শিক্ষক ফোন করে জানান যে শিক্ষার্থীরা তাদের রুমে তালা দিয়ে রেখেছে। পরে আমি এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তালা খুলে দিই।”

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, “বিদ্যালয়ের সমস্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পৌঁছার আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।”

ইউএনও-এর প্রতিক্রিয়া

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “বিদ্যালয়ে কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, তবে পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।”