ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ৮ মাস মাস ধরে, অন্ধকারে ১৫০০ পরিবার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • / 436

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দিয়ারা নারিকেল বাড়িয়া ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার গত ৮ মাস ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলের ত্রুটির কারণে এসব ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী; ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা ও ব্যবসা।

জীবন বদলানো বিদ্যুৎ, আবার সেই চরম বাস্তবতা
পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীঘেরা চরাঞ্চল দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া ও চরনাসিরপুরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২০ সালে সাবমেরিন ক্যাবেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছায়। দুই যুগ পর বিদ্যুৎ পেয়ে বদলে গিয়েছিল প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই আনন্দ এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলটি বিকল হয়ে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

শিক্ষা ও ব্যবসায় ধস
বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা। দিয়ারা নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের এসএসসি পরীক্ষার্থী লিমা আক্তার বলেন, “বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। অন্ধকারে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এত গরমে ভালো ফল করার আশা করতেই পারি না। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ চাই।”

বাসিন্দাদের হতাশা ও ক্ষোভ
চরনাসিরপুরের আমেনা খাতুন বলেন, “স্বামী পরিশ্রম করে ঘরে ফিরে গরমে কষ্ট পায়। ফ্রিজ কিনেছি, লাইন নিয়েছি—সবই এখন বেকার হয়ে গেছে।” স্থানীয় রাজা মিয়া বলেন, “টেলিভিশন, ফ্রিজ, ডিস ও ইন্টারনেট সবই নষ্ট। মানুষ জানেই না আর কখন বিদ্যুৎ পাবে।”

ইউনিয়ন পরিষদের আহ্বান
দিয়ারা নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির সরদার বলেন, “আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি, যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হোক। মানুষ প্রচণ্ড গরমে কষ্টে আছে।”

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও উদ্যোগ
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, “আমি পল্লী বিদ্যুৎ এর জিএমকে পত্র ও ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে রেখেছি। উনি জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিকল্প পদ্ধতির চিন্তা
পল্লী বিদ্যুৎ-২ (ঢাকা অঞ্চল)-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি। সাবমেরিন ক্যাবলের উপর বালির স্তর জমেছে, ফলে সংযোগ বন্ধ। বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড একটি কমিটি গঠন করেছে।”

ফরিদপুরে ৮ মাস মাস ধরে, অন্ধকারে ১৫০০ পরিবার

আপডেট সময় : ০৭:০০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দিয়ারা নারিকেল বাড়িয়া ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার গত ৮ মাস ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলের ত্রুটির কারণে এসব ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী; ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা ও ব্যবসা।

জীবন বদলানো বিদ্যুৎ, আবার সেই চরম বাস্তবতা
পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীঘেরা চরাঞ্চল দিয়ারা নারকেলবাড়িয়া ও চরনাসিরপুরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২০ সালে সাবমেরিন ক্যাবেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছায়। দুই যুগ পর বিদ্যুৎ পেয়ে বদলে গিয়েছিল প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই আনন্দ এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলটি বিকল হয়ে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

শিক্ষা ও ব্যবসায় ধস
বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা। দিয়ারা নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের এসএসসি পরীক্ষার্থী লিমা আক্তার বলেন, “বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। অন্ধকারে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এত গরমে ভালো ফল করার আশা করতেই পারি না। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ চাই।”

বাসিন্দাদের হতাশা ও ক্ষোভ
চরনাসিরপুরের আমেনা খাতুন বলেন, “স্বামী পরিশ্রম করে ঘরে ফিরে গরমে কষ্ট পায়। ফ্রিজ কিনেছি, লাইন নিয়েছি—সবই এখন বেকার হয়ে গেছে।” স্থানীয় রাজা মিয়া বলেন, “টেলিভিশন, ফ্রিজ, ডিস ও ইন্টারনেট সবই নষ্ট। মানুষ জানেই না আর কখন বিদ্যুৎ পাবে।”

ইউনিয়ন পরিষদের আহ্বান
দিয়ারা নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির সরদার বলেন, “আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি, যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হোক। মানুষ প্রচণ্ড গরমে কষ্টে আছে।”

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও উদ্যোগ
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, “আমি পল্লী বিদ্যুৎ এর জিএমকে পত্র ও ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে রেখেছি। উনি জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিকল্প পদ্ধতির চিন্তা
পল্লী বিদ্যুৎ-২ (ঢাকা অঞ্চল)-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি। সাবমেরিন ক্যাবলের উপর বালির স্তর জমেছে, ফলে সংযোগ বন্ধ। বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড একটি কমিটি গঠন করেছে।”