বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৯:৩৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 490
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মঞ্চসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে তানজিন আহমেদ মিঠু নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: প্রাথমিক ধারণা স্ট্রোক
সংঘর্ষ চলাকালীন নিহত ছাত্রদল নেতার নাম তানজিন আহমেদ মিঠু। তিনি উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেনের সমর্থক ছিলেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য: যদিও সংঘর্ষ চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত মিঠুর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
সংঘর্ষের মূল কারণ: মনোনয়ন বিতর্ক
ময়মনসিংহ-৩ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ক্ষুব্ধ ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরনের সমর্থকরা।
হামলার বিবরণ: রোববার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেনের সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর হিরন সমর্থকরা হামলা চালায়।
পাল্টা হামলা: এতে বিক্ষুব্ধ ইকবাল সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালিয়ে হিরন পক্ষের মহিলা সমাবেশের মঞ্চে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এরপর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নেতাদের বক্তব্য ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
মনোনীত প্রার্থীর দাবি: মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি পক্ষ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।” তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হিরনের নীরবতা: উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তায়েবুর রহমান হিরনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পুলিশের বক্তব্য: গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, “এখনো থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মাঠে কাজ করছে।”
এসপি’র নিশ্চিতকরণ: ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অস্ত্র ও গ্রেফতার
এদিকে, শনিবার রাতে জেলা উত্তর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পাপ্পুর কার্যালয়ে হামলা ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৪০টি রামদাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।











