ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাশুড়ির ছোড়া দৃষ্টি, জামাইয়ের গুলি: ফরিদপুরে কাঁদছেন সুস্মিতার বাবা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫
  • / 696

র‌্যাব কর্মকর্তা পলাশ সাহার আত্মহত্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক স্ট্যাটাসে তার স্ত্রী সুস্মিতাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তবে ফরিদপুর শহরের চৌধুরীপাড়ায় গিয়ে পাওয়া গেল একেবারে বিপরীত চিত্র—সেখানে উঠে এলো শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের করুণ বর্ণনা।

বিয়ে, বয়স আর বাস্তবতা

ভরত সাহা, ফরিদপুরের চৌধুরীপাড়ার ৬১ বছর বয়সী বাসিন্দা, তার একমাত্র মেয়ে সুস্মিতাকে মাত্র ২০ বছর বয়সে পলাশ সাহার সঙ্গে বিয়ে দেন। দু’বছর আগে ভালোবাসার টানে এই বিয়ে হলেও এখন সেই স্মৃতি বিষাদে পরিণত।

ভেঙে পড়া পিতা, কান্নাজড়িত গলা

ভরত সাহা বিলাপ করতে করতে বলেন, “পলাশ আমার মেয়েকে খুব ভালোবাসতো, কিন্তু সেটা তার মা সহ্য করতে পারতো না।”

সাদাসিধে পরিবার, স্বপ্ন ভাঙার বেদনা

প্রতিবেশী চান্দু সরকার জানান, “সুস্মিতাদের পরিবার অত্যন্ত সাধারণ। ভাই সৌরভ কুয়েটের শেষ বর্ষের ছাত্র। মেয়েটার জামাই চলে গেল, টাকার অভাবে বাঁচতে পারলো না সে।”

তিন দিন আগে রান্নার প্রশংসা, এরপরই আত্মঘাতী চেষ্টা!

গৃহবধূ দীপা সরকার বলেন, “সেদিন ডাল রান্না করে পলাশের প্রশংসা পায় সুস্মিতা। কিন্তু শাশুড়ি আরতি সাহা রেগে গিয়ে খাবার ছুড়ে ফেলেন। সেই রাতেই সুস্মিতা আত্মহত্যার চেষ্টা করে, ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেয়, পরে শাশুড়ির চাপে তা মুছে ফেলে।”

অপমান, অবহেলা আর সংসারের যন্ত্রণার বিবরণ

সাধনা সাহা, সুস্মিতার কাকাতো চাচি বলেন, “ওকে ঠিকমতো খেতেও দিত না শাশুড়ি। শুধু তাড়িয়ে দেওয়ার ফন্দি করতো। পলাশ ভালোবাসলেও, সংসারে শান্তি ছিল না।”

যৌতুকের অভিযোগ, ভাঙা সম্পর্কের প্রমাণ

সুস্মিতার ভাই সৌরভ জানান, “দুই বছরে একবারও আমাদের ওখানে যেতে দেয়নি তারা। মা (আরতি সাহা) আমাদের সহ্য করতো না। পলাশ খুব ভালো মানুষ ছিল, কিন্তু তার মায়ের কাছে সেটাই ছিল অপরাধ।”

ভর্তা সাহার কান্না: ‘আমার মেয়েটা নিজেকেও না শেষ করে’

বাবা ভরত সাহা বলেন, “ছেলেটা (পলাশ) খুব শখ করে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু শাশুড়ির নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। এখন আমি ভয় পাচ্ছি—মেয়েটা নিজেকেও না শেষ করে।”

তার ভাষ্য, “মেয়ের শাশুড়ি টাকা না পেয়ে সারাক্ষণ নির্যাতন করতো। আমি তো ওষুধ কিনতেই পারি না, মেয়েকে টাকা দেবো কীভাবে? কোটিপতির স্বপ্ন দেখে মেয়েকে শেষ করে দিল।”

শেষ চিঠিতে সবকিছু নিজের দোষ বললেও…

৭ মে সকালে চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭ অফিসে পলাশ সাহাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধার করা সুইসাইড নোটে তিনি বলেন, “আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী।” তবু এই চিঠি অনেক প্রশ্ন রেখে গেছে।

শ্বশুরপক্ষের নীরবতা

এই ঘটনায় পলাশ সাহার মা বা অন্য শ্বশুরপক্ষের কেউ এখনও মুখ খোলেননি। সমাজে চলছে দোষারোপ, কিন্তু ভেতরের নিরব কান্নাগুলোও শুনতে হবে।

শাশুড়ির ছোড়া দৃষ্টি, জামাইয়ের গুলি: ফরিদপুরে কাঁদছেন সুস্মিতার বাবা

আপডেট সময় : ১১:০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

র‌্যাব কর্মকর্তা পলাশ সাহার আত্মহত্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক স্ট্যাটাসে তার স্ত্রী সুস্মিতাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তবে ফরিদপুর শহরের চৌধুরীপাড়ায় গিয়ে পাওয়া গেল একেবারে বিপরীত চিত্র—সেখানে উঠে এলো শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের করুণ বর্ণনা।

বিয়ে, বয়স আর বাস্তবতা

ভরত সাহা, ফরিদপুরের চৌধুরীপাড়ার ৬১ বছর বয়সী বাসিন্দা, তার একমাত্র মেয়ে সুস্মিতাকে মাত্র ২০ বছর বয়সে পলাশ সাহার সঙ্গে বিয়ে দেন। দু’বছর আগে ভালোবাসার টানে এই বিয়ে হলেও এখন সেই স্মৃতি বিষাদে পরিণত।

ভেঙে পড়া পিতা, কান্নাজড়িত গলা

ভরত সাহা বিলাপ করতে করতে বলেন, “পলাশ আমার মেয়েকে খুব ভালোবাসতো, কিন্তু সেটা তার মা সহ্য করতে পারতো না।”

সাদাসিধে পরিবার, স্বপ্ন ভাঙার বেদনা

প্রতিবেশী চান্দু সরকার জানান, “সুস্মিতাদের পরিবার অত্যন্ত সাধারণ। ভাই সৌরভ কুয়েটের শেষ বর্ষের ছাত্র। মেয়েটার জামাই চলে গেল, টাকার অভাবে বাঁচতে পারলো না সে।”

তিন দিন আগে রান্নার প্রশংসা, এরপরই আত্মঘাতী চেষ্টা!

গৃহবধূ দীপা সরকার বলেন, “সেদিন ডাল রান্না করে পলাশের প্রশংসা পায় সুস্মিতা। কিন্তু শাশুড়ি আরতি সাহা রেগে গিয়ে খাবার ছুড়ে ফেলেন। সেই রাতেই সুস্মিতা আত্মহত্যার চেষ্টা করে, ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেয়, পরে শাশুড়ির চাপে তা মুছে ফেলে।”

অপমান, অবহেলা আর সংসারের যন্ত্রণার বিবরণ

সাধনা সাহা, সুস্মিতার কাকাতো চাচি বলেন, “ওকে ঠিকমতো খেতেও দিত না শাশুড়ি। শুধু তাড়িয়ে দেওয়ার ফন্দি করতো। পলাশ ভালোবাসলেও, সংসারে শান্তি ছিল না।”

যৌতুকের অভিযোগ, ভাঙা সম্পর্কের প্রমাণ

সুস্মিতার ভাই সৌরভ জানান, “দুই বছরে একবারও আমাদের ওখানে যেতে দেয়নি তারা। মা (আরতি সাহা) আমাদের সহ্য করতো না। পলাশ খুব ভালো মানুষ ছিল, কিন্তু তার মায়ের কাছে সেটাই ছিল অপরাধ।”

ভর্তা সাহার কান্না: ‘আমার মেয়েটা নিজেকেও না শেষ করে’

বাবা ভরত সাহা বলেন, “ছেলেটা (পলাশ) খুব শখ করে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু শাশুড়ির নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। এখন আমি ভয় পাচ্ছি—মেয়েটা নিজেকেও না শেষ করে।”

তার ভাষ্য, “মেয়ের শাশুড়ি টাকা না পেয়ে সারাক্ষণ নির্যাতন করতো। আমি তো ওষুধ কিনতেই পারি না, মেয়েকে টাকা দেবো কীভাবে? কোটিপতির স্বপ্ন দেখে মেয়েকে শেষ করে দিল।”

শেষ চিঠিতে সবকিছু নিজের দোষ বললেও…

৭ মে সকালে চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭ অফিসে পলাশ সাহাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধার করা সুইসাইড নোটে তিনি বলেন, “আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী।” তবু এই চিঠি অনেক প্রশ্ন রেখে গেছে।

শ্বশুরপক্ষের নীরবতা

এই ঘটনায় পলাশ সাহার মা বা অন্য শ্বশুরপক্ষের কেউ এখনও মুখ খোলেননি। সমাজে চলছে দোষারোপ, কিন্তু ভেতরের নিরব কান্নাগুলোও শুনতে হবে।