ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু বিক্রির কালো চক্র ভেঙে দিল র‍্যাব: ফরিদপুরে উদ্ধার ৮ মাসের তানহা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
  • / 507

ফরিদপুরে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া আট মাস বয়সী শিশু তানহা আক্তারকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। সোমবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুর র‍্যাব ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) শামীম হাসান সরদার।

এর আগে রোববার (১১ মে) সন্ধ্যায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের তৎপরতায় উদ্ধার, থানায় হস্তান্তর

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী পরিচালক শামীম হাসান সরদার জানান, শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটিকে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম জানান, র‍্যাবের মাধ্যমে শিশুটি উদ্ধারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে অভিভাবকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া

বাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন জানান, আজ (১২ মে) বিকেলে ফরিদপুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির অভিভাবকত্ব নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে শিশুটির মা পপি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি আমার বাচ্চাকে ফিরে পেতে চাই। যারা আমার মেয়েকে বিক্রি করেছে, তাদের বিচার চাই। আমার কাছে সব কাগজপত্র আছে। আমি ন্যায্যভাবে আমার সন্তানকে চাই। একজন মা সন্তানের জন্যই লড়াই করে যায়।”

বিয়ের পর থেকেই চলছিল দাম্পত্য কলহ

ভুক্তভোগী পপি বেগম জানান, তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে। প্রায় তিন বছর আগে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামপাশা গ্রামের কাইয়ুম বিশ্বাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল। এই দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

তবে পারিবারিক কলহের জেরে পাঁচ মাস আগে কাইয়ুম মৌখিকভাবে তাকে তালাক দেন। তালাকের সময় আট মাস বয়সী কন্যাশিশু তানহাকে জোরপূর্বক রেখে দেন কাইয়ুম।

বিক্রি করা হয় দেড় লাখ টাকায়

পপি বেগম অভিযোগ করেন, কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, তার শিশু কন্যা তানহাকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। শিশুটি বিক্রি করা হয় নগরকান্দারই শাখরাইল গ্রামের কুবাদ শেখের মেয়ে কোহিনুর বেগমের কাছে। এই বিক্রির মধ্যস্থতা করেন নগরকান্দা উপজেলার দলিল লেখক আলমগীর তালুকদার।

পরবর্তীতে তিনি মেয়েকে নিতে গেলে কোহিনুর তাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করেন পপি বেগম।

ট্যাগস :

শিশু বিক্রির কালো চক্র ভেঙে দিল র‍্যাব: ফরিদপুরে উদ্ধার ৮ মাসের তানহা

আপডেট সময় : ১০:২২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

ফরিদপুরে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া আট মাস বয়সী শিশু তানহা আক্তারকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। সোমবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুর র‍্যাব ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) শামীম হাসান সরদার।

এর আগে রোববার (১১ মে) সন্ধ্যায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের তৎপরতায় উদ্ধার, থানায় হস্তান্তর

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী পরিচালক শামীম হাসান সরদার জানান, শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটিকে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম জানান, র‍্যাবের মাধ্যমে শিশুটি উদ্ধারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে অভিভাবকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া

বাদীপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন জানান, আজ (১২ মে) বিকেলে ফরিদপুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির অভিভাবকত্ব নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে শিশুটির মা পপি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি আমার বাচ্চাকে ফিরে পেতে চাই। যারা আমার মেয়েকে বিক্রি করেছে, তাদের বিচার চাই। আমার কাছে সব কাগজপত্র আছে। আমি ন্যায্যভাবে আমার সন্তানকে চাই। একজন মা সন্তানের জন্যই লড়াই করে যায়।”

বিয়ের পর থেকেই চলছিল দাম্পত্য কলহ

ভুক্তভোগী পপি বেগম জানান, তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে। প্রায় তিন বছর আগে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামপাশা গ্রামের কাইয়ুম বিশ্বাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল। এই দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

তবে পারিবারিক কলহের জেরে পাঁচ মাস আগে কাইয়ুম মৌখিকভাবে তাকে তালাক দেন। তালাকের সময় আট মাস বয়সী কন্যাশিশু তানহাকে জোরপূর্বক রেখে দেন কাইয়ুম।

বিক্রি করা হয় দেড় লাখ টাকায়

পপি বেগম অভিযোগ করেন, কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন, তার শিশু কন্যা তানহাকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। শিশুটি বিক্রি করা হয় নগরকান্দারই শাখরাইল গ্রামের কুবাদ শেখের মেয়ে কোহিনুর বেগমের কাছে। এই বিক্রির মধ্যস্থতা করেন নগরকান্দা উপজেলার দলিল লেখক আলমগীর তালুকদার।

পরবর্তীতে তিনি মেয়েকে নিতে গেলে কোহিনুর তাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করেন পপি বেগম।