ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ ঘর ছাই, নারীরা ছুটে পালায়: ফরিদপুরে প্রভাষকের নেতৃত্বে সহস্রাধিক লোকের তাণ্ডব!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:০০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 999

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক কলেজ প্রভাষকের নেতৃত্বে সহস্রাধিক বহিরাগত লোক এনে প্রতিপক্ষের বসতবাড়িতে ভয়াবহ হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১০ মে) সকালে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে সংঘটিত এ হামলায় অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আকিকার মাংসকে কেন্দ্র করে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে আকিকার মাংস ভাগাভাগি নিয়ে রাঙ্গারদিয়া গ্রামের উজ্জল মোল্যা ও তার ভাই ফারুক মোল্যার মধ্যে তীব্র বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে ফারুক উজ্জলের ছেলেকে জুতা দিয়ে মারধর করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিরোধের পেছনে রাজনৈতিক বিভাজনও দেখা দেয়—উজ্জল মোল্যা ছিলেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফরহাদ মোল্যার সমর্থক, আর ফারুক মোল্যা সমর্থন করেন জালাল মাতুব্বরকে।

সহস্রাধিক সশস্ত্র লোক এনে চালানো হয় তাণ্ডব

এই বিরোধের সুযোগে সালথা সরকারি কলেজের বাংলা প্রভাষক ও বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত শাখাওয়াত হোসেন জয়নালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি পাশের খারদিয়া, সোনাপুর ও রঙ্গরায়েরকান্দী গ্রাম থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ সহস্রাধিক লোক ভাড়া করে এনে জালাল মাতুব্বরপন্থীদের বাড়িঘরে হামলা চালান। আব্দুল হাই নামে এক বাসিন্দার একতলা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তাণ্ডবে পুড়ে ছাই হয় জীবনভর সাজানো ঘর

এই হামলায় রাঙ্গারদিয়া গ্রামের খোকন, রোকন, মান্নান, রফিক, মাসুদ, নুরুল ইসলাম, লিয়াকত, ইলিয়াস, ইদ্রিস ও ওবায়দুর খার পরিবারের মোট ৩০টির বেশি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। নারীরা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গরু-ছাগল, মালামাল এমনকি নগদ টাকাও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

ক্ষতিগ্রস্তদের আর্তনাদ ও বিচার দাবি

ভুক্তভোগী মান্নান মাতুব্বর জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল করতেন না, তবে একবার বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ তার বাড়ি এসেছিলেন—সেই থেকেই হামলার লক্ষ্য হন তিনি। শনিবারের ঘটনায় তার ঘর ছাড়াও আরও ৪০টি বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুল হাই বলেন, “হামলাকারীরা আমার একতলা বাড়িতে আগুন দেয়। পরিবার নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হই। এতগুলো ঘর পুড়িয়ে, লুটপাট করে গেছে—এর বিচার চাই।”

প্রভাষক জয়নালের অস্বীকৃতি

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কলেজ প্রভাষক শাখাওয়াত হোসেন জয়নাল। তিনি বলেন, “আমি কোনো হামলায় জড়িত নই। হামলার ঘটনাটি আকিকার মাংসকে কেন্দ্র করে হয়েছে। আমি বিএনপির পদে নেই, শুধু সমর্থক।”

পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান জানান, সহিংসতা রোধে তাৎক্ষণিক পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ট্যাগস :

৩০ ঘর ছাই, নারীরা ছুটে পালায়: ফরিদপুরে প্রভাষকের নেতৃত্বে সহস্রাধিক লোকের তাণ্ডব!

আপডেট সময় : ০৫:০০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক কলেজ প্রভাষকের নেতৃত্বে সহস্রাধিক বহিরাগত লোক এনে প্রতিপক্ষের বসতবাড়িতে ভয়াবহ হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১০ মে) সকালে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে সংঘটিত এ হামলায় অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আকিকার মাংসকে কেন্দ্র করে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে আকিকার মাংস ভাগাভাগি নিয়ে রাঙ্গারদিয়া গ্রামের উজ্জল মোল্যা ও তার ভাই ফারুক মোল্যার মধ্যে তীব্র বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে ফারুক উজ্জলের ছেলেকে জুতা দিয়ে মারধর করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিরোধের পেছনে রাজনৈতিক বিভাজনও দেখা দেয়—উজ্জল মোল্যা ছিলেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফরহাদ মোল্যার সমর্থক, আর ফারুক মোল্যা সমর্থন করেন জালাল মাতুব্বরকে।

সহস্রাধিক সশস্ত্র লোক এনে চালানো হয় তাণ্ডব

এই বিরোধের সুযোগে সালথা সরকারি কলেজের বাংলা প্রভাষক ও বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত শাখাওয়াত হোসেন জয়নালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি পাশের খারদিয়া, সোনাপুর ও রঙ্গরায়েরকান্দী গ্রাম থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ সহস্রাধিক লোক ভাড়া করে এনে জালাল মাতুব্বরপন্থীদের বাড়িঘরে হামলা চালান। আব্দুল হাই নামে এক বাসিন্দার একতলা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তাণ্ডবে পুড়ে ছাই হয় জীবনভর সাজানো ঘর

এই হামলায় রাঙ্গারদিয়া গ্রামের খোকন, রোকন, মান্নান, রফিক, মাসুদ, নুরুল ইসলাম, লিয়াকত, ইলিয়াস, ইদ্রিস ও ওবায়দুর খার পরিবারের মোট ৩০টির বেশি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। নারীরা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গরু-ছাগল, মালামাল এমনকি নগদ টাকাও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

ক্ষতিগ্রস্তদের আর্তনাদ ও বিচার দাবি

ভুক্তভোগী মান্নান মাতুব্বর জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল করতেন না, তবে একবার বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ তার বাড়ি এসেছিলেন—সেই থেকেই হামলার লক্ষ্য হন তিনি। শনিবারের ঘটনায় তার ঘর ছাড়াও আরও ৪০টি বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুল হাই বলেন, “হামলাকারীরা আমার একতলা বাড়িতে আগুন দেয়। পরিবার নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হই। এতগুলো ঘর পুড়িয়ে, লুটপাট করে গেছে—এর বিচার চাই।”

প্রভাষক জয়নালের অস্বীকৃতি

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কলেজ প্রভাষক শাখাওয়াত হোসেন জয়নাল। তিনি বলেন, “আমি কোনো হামলায় জড়িত নই। হামলার ঘটনাটি আকিকার মাংসকে কেন্দ্র করে হয়েছে। আমি বিএনপির পদে নেই, শুধু সমর্থক।”

পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান জানান, সহিংসতা রোধে তাৎক্ষণিক পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।