বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য চীন থেকে ২০টি যুদ্ধবিমান কেনার খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে এই বিশাল অংকের সামরিক ক্রয়ের খবর নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
জানা গেছে, সরকার প্রায় ২৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা খরচ করে চীন থেকে ২০টি জে ওয়ানডিসিই (J-10CE) মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কিনছে। আগামী ১০ অর্থবছরে এই অর্থ থোক বরাদ্দ থেকে সংস্থান করার কথা রয়েছে।
ক্রয়ের বিস্তারিত তথ্য
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একটি নথি থেকে যুদ্ধবিমান কেনার খরচের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে:
বিমান ও মূল্য: প্রতিটি যুদ্ধবিমানের প্রাক্কলিত মূল্য ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসেবে ২০টি উড়োজাহাজের মোট দর দাঁড়াচ্ছে এক হাজার দুইশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।
অন্যান্য খরচ: শুধু বিমান নয়; স্পেয়ার পার্টস, অন্যান্য সরঞ্জাম, বীমা, ভ্যাট এবং এজেন্সি কমিশন—সব মিলিয়ে ২০টি উড়োজাহাজের জন্য মোট খরচ হবে ২৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা।
অর্থ উপদেষ্টার নীরবতা
সচিবালয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে এই বিশাল সামরিক ক্রয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।”
একজন সাংবাদিক যখন তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন, “আপনি তো বিষয়টা জানেন স্যার,” তখন অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জানলে যে সব বলে দিতে হবে, সেটা তো না।”
সালেহউদ্দিন আহমেদের এই মন্তব্য যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরে চরম গোপনীয়তা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়।