মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও জ্বালানি ঝুঁকি: কতটা বিপদে বাংলাদেশ?
- আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 86
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা যেমন দ্রুত শুরু হয়েছিল, তেমনি দ্রুত প্রশমিত হয়েছে। তবে এই স্বল্পকালীন সংঘাত বিশ্বশক্তির ভারসাম্যে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপবাদের সীমাবদ্ধতা এবং অন্যদিকে চীনের কূটনৈতিক ও স্থিতিশীল শক্তির উত্থান এখন বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট।
মার্কিন সংঘাত ও জ্বালানি বিপর্যয়:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বারবার ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
চীনের ‘স্থিতিশীলতা’ কৌশল:
যুক্তরাষ্ট্র যখন আক্রমণের পথে হেঁটেছে, চীন তখন বেছে নিয়েছে ভিন্ন পথ। ২ এপ্রিল বেইজিং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে নিজেকে স্থিতিশীলতার প্রবক্তা হিসেবে উপস্থাপন করে। সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের বিপরীতে চীনের কৌশল ছিল কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সকল পক্ষের সাথে অন্তরালে সমন্বয় বজায় রাখা। চীনের এই ‘বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ’ মূলত অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা:
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। বর্তমানে বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬৩ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সাম্প্রতিক সংকটের ফলে ঢাকাকে ইতোমধ্যেই কঠোর জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হয়েছে এবং বৈদেশিক অর্থায়নের জন্য দ্বারস্থ হতে হয়েছে বিভিন্ন সংস্থার। উন্নত দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজে নিলেও বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতিগুলোকে উচ্চমূল্য ও বাজার অস্থিরতার ধাক্কা সইতে হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও কৌশল:
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি কেবল একটি সংঘাতের অবসান নয়, বরং এটি বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের সংকেত। মার্কিন সামরিক মডেলের বিপরীতে চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতার মডেল এখন অনেক দেশের কাছেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করা। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ এবং অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ঝুঁকি কমাতে পারে।
তথ্যসূত্র:
রয়টার্স, উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যম।


























