পশ্চিম তীর দখলে ইসরায়েল, সার্বভৌমত্ব বিলের প্রাথমিক অনুমোদন
- আপডেট সময় : ১১:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 128
আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইসরায়েল। দেশটির পার্লামেন্ট (নেসেট) পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এটি কার্যকর হলে তা হবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের দখলে নেওয়ার সমতুল্য।
আল জাজিরার খবর অনুসারে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিতর্কিত এই ভোটটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি জোরদার করতে ইসরায়েল সফরে রয়েছেন।
পার্লামেন্টের ভোটাভুটি ও বিতর্ক
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে প্রথম ধাপে বিলটি মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে অনুমোদিত হয়েছে:
পক্ষে ভোট: ২৫টি
বিপক্ষে ভোট: ২৪টি
এটি আইন হিসেবে কার্যকর হতে আরও তিন ধাপের ভোটে অনুমোদন পেতে হবে।
নেতানিয়াহুর অবস্থান: বিলটির উত্থাপন করে উগ্র-ডানপন্থী নোয়াম পার্টির এমপি আভি মাওজ। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর দল লিকুদ পার্টি বিলটির বিরোধিতা করলেও, জোটের কয়েকজন সদস্য এবং বিরোধী এমপি এতে সমর্থন দেন।
নামকরণ: নেসেটের বিবৃতিতে বিলটিকে “জুডিয়া এবং সামেরিয়া (পশ্চিম তীর) অঞ্চলে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের জন্য” প্রথম ধাপে অনুমোদিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপ: বিলটি এখন আরও আলোচনার জন্য নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে যাবে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রতিক্রিয়া
এই বিল পাসের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিরোধিতা করেছিলেন। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টিও এই ভোটকে “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে বিরোধীদের আরেকটি উস্কানি” বলে অভিহিত করেছে।
পূর্ণ কর্তৃত্বের দাবি: এই বিলটি পাস হলে ইসরায়েল দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব দাবি করবে, যা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে অসম্ভব করে তুলবে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করে।
হামাসের প্রতিক্রিয়া: হামাস এক বিবৃতিতে এই ভোটকে “ঔপনিবেশিক দখলের জঘন্য মুখ” বলে অভিহিত করেছে এবং জোরপূর্বক সংযুক্তির প্রচেষ্টাকে অবৈধ ও বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছে।
এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


























