‘ভণ্ডামি গণতন্ত্র’ ভারতের: মুসলিম নির্যাতনে নীরব কেন মধ্যপ্রাচ্য?
- আপডেট সময় : ১২:৫৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 261
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মুসলিমদের প্রতি ক্রমাগত বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। মিডল ইস্ট মনিটর-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে লেখক রনি পি সাসমিতা মত দিয়েছেন যে, ভারতকে ‘ভণ্ডামি গণতন্ত্র’ থেকে বের করে প্রকৃত গণতন্ত্রের দিকে আনতে মধ্যপ্রাচ্যের উচিত নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা এবং কৌশলগত চাপ তৈরি করা।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণ করে লেখক দেখিয়েছেন, ভারতের গণতন্ত্র তার নৈতিকতার ভিত্তি থেকে সরে গেছে, বিশেষত মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের ঘটনাগুলো এখন আর বিচ্ছিন্ন বা দুর্ঘটনাজনিত হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
গণতন্ত্রে বৈষম্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলো
নিবন্ধে ভারতের মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে:
গণপিটুনি ও বিচারহীনতা: গরু রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলে গণপিটুনি কিংবা গবাদি পশু পরিবহনের তুচ্ছ অভিযোগে মুসলিম পিটিয়ে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে নিয়মিত ঘটেছে, অথচ এসব ঘটনা খুব কমই আইনি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA): নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের শিকার হচ্ছেন কেবল মুসলিমরা। লেখক বলেন, ভারত বিদেশে নিজেদের বহুত্ববাদী দেশ বলে প্রচার করে, কিন্তু ঘরে বৈষম্যকে সমর্থন করে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীরবতা: ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মুসলিমদের এই নির্যাতন সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে সচেতন, কিন্তু তারা সেগুলোকে ছোট করে দেখছেন। অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা তদন্তে ধীরগতি বা অনীহা দেখিয়েছে।
মোদি সরকারের আমলে বৈষম্যের তীব্রতা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আমলে এই বৈষম্য নাটকীয়ভাবে তীব্রতর হয়েছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। মোদির বক্তৃতাতে প্রায়শই ঐক্য এবং উন্নয়নের কথা বলা হলেও, তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি এখনও হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদ দ্বারা পরিচালিত, যা মুসলমানদের সরাসরি সন্দেহ বা শত্রুতার চোখে দেখে।
লেখকের মতে, ভারত বিশ্ব মঞ্চে সম্মান দাবি করে, অথচ তারা নিজেদের নাগরিকদের মৌলিক সুরক্ষা দিতে সমর্থ নয়—তাদের এই ভণ্ডামি স্পষ্ট।
মধ্যপ্রাচ্যের করণীয় ও কৌশলগত চাপ
যেসব মধ্যপ্রাচ্যের দেশ নয়াদিল্লির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য আগ্রহী, তাদের এখনই জেগে ওঠা উচিত বলে নিবন্ধে জোর দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বাজারে সুবিধা হ্রাস: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির উচিত ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বিশেষত জ্বালানির বাজারে সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার হ্রাস করা এবং অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা।
ধর্মীয় স্বাধীনতার শর্ত: ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সহযোগিতা দেওয়ার শর্তে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। ইসলামী ঐতিহ্যের দেশগুলির কখনোই এমন দেশকে পুরস্কৃত করা উচিত হবে না, যা মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে।
বিনিয়োগে সংস্কারের শর্ত: মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতীয় অবকাঠামো এবং রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতীয় রাজনীতিবিদরা বৈশ্বিক মর্যাদার প্রমাণ নিরূপণ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের উচিত সার্বভৌম সম্পদগুলিকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমান নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে এমন নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগ করা।


























