ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সদরপুরে অবাধে চলছে মা মাছ ও রেনু পোনা নিধন

মিজানুর রহমান সদরপুর
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩
  • / 526

ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা-আড়িয়াল খাঁসহ বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে আড়াআড়ি বাধ দিয়ে চলছে অবাধে মা মাছ ও রেনু পোনা নিধনের মহোৎসব। আড়াআড়ি বাঁধ ও চায়না দোয়ারি, টোনাজাল, মশারিজাল, সুতিজাল, রাক্ষুসীজালসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে প্রজননে প্রস্তুত মা মাছ ও রেণু পোনা ধরে বাজারে বিক্রি করছে জেলেরা। এতে জেলেরা লাভবান হলেও চলতি বর্ষা মৌসুমে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের প্রজনন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, উপজেলার ভুবনেশ্বর নদে সামান্য এলাকায় বাঁশ দিয়ে ঘিরে মৎস্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। এ ছাড়া আকোটেরচর হাট সংলগ্ন সুইচগেট, চর রামনগর, শিমুলতলি বাজার, হাজীকান্দি খাল, কাটাখালি, লোহারটেক, মুন্সীরচর মরা আড়িয়াল খাঁয়, শয়তানখালী পদ্মার পাড়ঘেঁষে, চন্দ্রপাড়া ঘাট, চরনাছিরপুর, চরমানাইর, নারিকেল বাড়িয়ার বিভিন্ন চরের জলাশয় যেখানে বর্ষার শুরুতেই মা মাছ প্রজননের জন্য আসে সেখানে মৎস্য অভয়ারণ্য না থাকায় নিধন হচ্ছে মা মাছ ও রেনু পোনা। মৌসুমী জেলেদের মাছ ধরা আইন বিষয়ক কোন প্রশিক্ষণ ও প্রশাসন কর্তৃক প্রচার প্রচারণা না থাকায় প্রতিনিয়ত ধরা হচ্ছে মা মাছ ও রেণু পোনা। এতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সদরপুর উপজেলায় তা প্রয়োগ নিষ্কিয়।

উপজেলার চন্দ্রপাড়া ঘাট এলাকার দোকানিরা জানান, প্রতিদিন সকালে এখানে রেনু পোনার বাজার বসে। জেলেরা আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে রেনু পোনা সংগ্রহ করে এখানে বিক্রি করে। প্রতিদিন এখান থেকে রেনু পোনা ছোট পিক-আপ ভ্যানে করে অন্যান্য জেলায় যায়। প্রশাসন মা মাছ ও রেনু পোনা শিকারী জেলেদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম. জাহাঙ্গীর কবির এর সাথে কথা হলে তিনি জানান- আমি এখানে নতুন এসেছি। মৎস্য বিভাগে লোকবল কম তা সত্বেও আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে অতিশীঘ্রই রেনু পোনা ধরার ওপর অভিযান পরিচালনা করব ।

ট্যাগস :

সদরপুরে অবাধে চলছে মা মাছ ও রেনু পোনা নিধন

আপডেট সময় : ১১:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩

ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা-আড়িয়াল খাঁসহ বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে আড়াআড়ি বাধ দিয়ে চলছে অবাধে মা মাছ ও রেনু পোনা নিধনের মহোৎসব। আড়াআড়ি বাঁধ ও চায়না দোয়ারি, টোনাজাল, মশারিজাল, সুতিজাল, রাক্ষুসীজালসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে প্রজননে প্রস্তুত মা মাছ ও রেণু পোনা ধরে বাজারে বিক্রি করছে জেলেরা। এতে জেলেরা লাভবান হলেও চলতি বর্ষা মৌসুমে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের প্রজনন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, উপজেলার ভুবনেশ্বর নদে সামান্য এলাকায় বাঁশ দিয়ে ঘিরে মৎস্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। এ ছাড়া আকোটেরচর হাট সংলগ্ন সুইচগেট, চর রামনগর, শিমুলতলি বাজার, হাজীকান্দি খাল, কাটাখালি, লোহারটেক, মুন্সীরচর মরা আড়িয়াল খাঁয়, শয়তানখালী পদ্মার পাড়ঘেঁষে, চন্দ্রপাড়া ঘাট, চরনাছিরপুর, চরমানাইর, নারিকেল বাড়িয়ার বিভিন্ন চরের জলাশয় যেখানে বর্ষার শুরুতেই মা মাছ প্রজননের জন্য আসে সেখানে মৎস্য অভয়ারণ্য না থাকায় নিধন হচ্ছে মা মাছ ও রেনু পোনা। মৌসুমী জেলেদের মাছ ধরা আইন বিষয়ক কোন প্রশিক্ষণ ও প্রশাসন কর্তৃক প্রচার প্রচারণা না থাকায় প্রতিনিয়ত ধরা হচ্ছে মা মাছ ও রেণু পোনা। এতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সদরপুর উপজেলায় তা প্রয়োগ নিষ্কিয়।

উপজেলার চন্দ্রপাড়া ঘাট এলাকার দোকানিরা জানান, প্রতিদিন সকালে এখানে রেনু পোনার বাজার বসে। জেলেরা আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে রেনু পোনা সংগ্রহ করে এখানে বিক্রি করে। প্রতিদিন এখান থেকে রেনু পোনা ছোট পিক-আপ ভ্যানে করে অন্যান্য জেলায় যায়। প্রশাসন মা মাছ ও রেনু পোনা শিকারী জেলেদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম. জাহাঙ্গীর কবির এর সাথে কথা হলে তিনি জানান- আমি এখানে নতুন এসেছি। মৎস্য বিভাগে লোকবল কম তা সত্বেও আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে অতিশীঘ্রই রেনু পোনা ধরার ওপর অভিযান পরিচালনা করব ।