ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সদরপুরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন ঝুঁকি, আতঙ্কে স্থানীয়রা

মিজানুর রহমান সদরপুর
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৩
  • / 175

ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙন ঝুঁকিতে দিন পার করছে স্থানীয়রা । চলতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে নদীতে তীব্র ¯্রােতের কারণে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের শত শত একর ফসলি জমি, বসত বাড়ি ও কোটি টাকা ব্যয়ের নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর। স্থানীয়রা মনে করছেন, ভাঙন রোধে ঝঁকিপূর্ন এলাকায় জিও ব্যাগ দেয়া হলেও হচ্ছে না স্থায়ী সমাধান।

সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ কালে দেখা যায়, নদী ভাঙন ঝঁকিতে আছে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোটের হাট সংলগ্ন খোকারাম সরকারের ডাঙ্গী। এখানে রয়েছে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে মাত্র ৫শ গজ দূরেই পদ্মানদীর অবস্থান।

এছাড়া উপজেলার নাড়িকেল বাড়ীয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর, কাচিকাটা গ্রাম, ফকির কান্দি, তালপট্টির চর, কাড়ালকান্দি, জঙ্গিকান্দি, জামাল শিকদার কান্দি গ্রাম।

অপরদিকে আড়িয়াল খাঁ নদীর স্রোতে উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়ন ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী ঘাট, কাজীরসুরা, দূর্বারটেক, মফিজদ্দিনের কান্দি, হাফেজ কান্দি, চরগজারিয়া, গিয়াস উদ্দীন মুন্সীর কান্দি গ্রাম ভাঙছে।

খোকারাম সরকারের ডাঙ্গীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রিনা বেগম জানান,  সরকার আমাদের ভালই দিয়েছে, ভাল ছিলাম। কিন্তু পদ্মায় তো সব নিয়া যাইব। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার কিছু কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়।

উপজেলার দিয়ারা নাড়িকেলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন সরদার জানান, প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মায় ভাঙন শুরু হয়েছে।  গত ২ বছরে ইউনিয়নের ১ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছি। আমি ভাঙন রোধে স্থায়ী ভাবে পদক্ষেপ নিতে জনগণের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি যানাচ্ছি।

চরনাসিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রোকন উদ্দিন জানান, সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নদী শাসন না করলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। আমি ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান প্রার্থনা করছি।

উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ আবু এহসান মিয়া জানান, পানি বিপদসীমার নীচে আছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি- এই কাজ চলমান রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :

সদরপুরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন ঝুঁকি, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৩

ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙন ঝুঁকিতে দিন পার করছে স্থানীয়রা । চলতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে নদীতে তীব্র ¯্রােতের কারণে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের শত শত একর ফসলি জমি, বসত বাড়ি ও কোটি টাকা ব্যয়ের নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর। স্থানীয়রা মনে করছেন, ভাঙন রোধে ঝঁকিপূর্ন এলাকায় জিও ব্যাগ দেয়া হলেও হচ্ছে না স্থায়ী সমাধান।

সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ কালে দেখা যায়, নদী ভাঙন ঝঁকিতে আছে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোটের হাট সংলগ্ন খোকারাম সরকারের ডাঙ্গী। এখানে রয়েছে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে মাত্র ৫শ গজ দূরেই পদ্মানদীর অবস্থান।

এছাড়া উপজেলার নাড়িকেল বাড়ীয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর, কাচিকাটা গ্রাম, ফকির কান্দি, তালপট্টির চর, কাড়ালকান্দি, জঙ্গিকান্দি, জামাল শিকদার কান্দি গ্রাম।

অপরদিকে আড়িয়াল খাঁ নদীর স্রোতে উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়ন ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী ঘাট, কাজীরসুরা, দূর্বারটেক, মফিজদ্দিনের কান্দি, হাফেজ কান্দি, চরগজারিয়া, গিয়াস উদ্দীন মুন্সীর কান্দি গ্রাম ভাঙছে।

খোকারাম সরকারের ডাঙ্গীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রিনা বেগম জানান,  সরকার আমাদের ভালই দিয়েছে, ভাল ছিলাম। কিন্তু পদ্মায় তো সব নিয়া যাইব। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার কিছু কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়।

উপজেলার দিয়ারা নাড়িকেলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন সরদার জানান, প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মায় ভাঙন শুরু হয়েছে।  গত ২ বছরে ইউনিয়নের ১ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছি। আমি ভাঙন রোধে স্থায়ী ভাবে পদক্ষেপ নিতে জনগণের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি যানাচ্ছি।

চরনাসিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রোকন উদ্দিন জানান, সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নদী শাসন না করলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। আমি ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান প্রার্থনা করছি।

উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ আবু এহসান মিয়া জানান, পানি বিপদসীমার নীচে আছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি- এই কাজ চলমান রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।