ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মঞ্চ এক, কিন্তু সুর আলাদা!’ ক্ষমতার ছয় মাসেই গণ-অভ্যুত্থানের ঐক্যে ফাটল

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 101

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ওপর ভর করে যে জাতীয় ঐক্যের বার্তা নিয়ে নতুন পথচলা শুরু হয়েছিল, মাত্র ছয় মাসের মাথায় সেই ঐক্যের দেওয়ালে ফুটে উঠল স্পষ্ট ফাটল! রাজপথের সতীর্থরা আজ পরষ্পরের মুখোমুখি প্রতিপক্ষ। একদিকে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসা বিএনপি সরকার, আর অন্যদিকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় বহাল রাখার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির বদলে তা ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের মতো উত্তপ্ত কর্মসূচিতে। আর এই সংঘাত ও প্রকাশ্য বিভক্তিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে দেশের রাজনীতিতে—যার ফায়দা নিতে উৎ পেতে রয়েছে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।

‘ছয় দফা না মানলে এক দফা!’ রাজপথে লংমার্চ, হুঙ্কার বিরোধীদের

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের দুটি অধিবেশন পার হয়ে তৃতীয় অধিবেশন চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই রাজপথে গড়িয়েছে বিরোধী দলের আন্দোলন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে গত শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে বিশাল লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোট।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম কড়া হুশিয়ারি দিয়ে সাফ জানিয়েছেন—

“ছয় দফা দাবি না মানলে এক দফা হতে সময় লাগবে না।”

মূলত সংবিধান পরিবর্তনের পদ্ধতি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করলেও জামায়াত ও এনসিপি বলছে, সংশোধন নয়—গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। এছাড়া সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলকে সভাপতির পদ না দেওয়া রাজনৈতিক দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তারেক রহমানের সতর্কবার্তা, পাল্টা তোপ শফিক রহমানের

চলমান এই আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। শনিবার এক বক্তব্যে তিনি বলেন—

“দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আইনেই রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন—

“আগের সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটছে। তবে আমাদের আন্দোলন সরকারকে বিদায় করার জন্য নয়। কিন্তু কেউ যদি বিদায় নেওয়ার আমল করে, তখন আমাদের কী করার আছে!”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা না করে মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিরোধী দল রাজপথে ‘লংমার্চের’ নামে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে এবং ব্যক্তিগত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্পষ্ট দাবি—সংসদে নোটিশ দিয়েও কাজ না হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন।

‘মঞ্চ এক, কিন্তু সুর আলাদা!’ ক্ষমতার ছয় মাসেই গণ-অভ্যুত্থানের ঐক্যে ফাটল

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ওপর ভর করে যে জাতীয় ঐক্যের বার্তা নিয়ে নতুন পথচলা শুরু হয়েছিল, মাত্র ছয় মাসের মাথায় সেই ঐক্যের দেওয়ালে ফুটে উঠল স্পষ্ট ফাটল! রাজপথের সতীর্থরা আজ পরষ্পরের মুখোমুখি প্রতিপক্ষ। একদিকে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসা বিএনপি সরকার, আর অন্যদিকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় বহাল রাখার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির বদলে তা ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের মতো উত্তপ্ত কর্মসূচিতে। আর এই সংঘাত ও প্রকাশ্য বিভক্তিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে দেশের রাজনীতিতে—যার ফায়দা নিতে উৎ পেতে রয়েছে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।

‘ছয় দফা না মানলে এক দফা!’ রাজপথে লংমার্চ, হুঙ্কার বিরোধীদের

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের দুটি অধিবেশন পার হয়ে তৃতীয় অধিবেশন চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই রাজপথে গড়িয়েছে বিরোধী দলের আন্দোলন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে গত শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে বিশাল লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোট।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম কড়া হুশিয়ারি দিয়ে সাফ জানিয়েছেন—

“ছয় দফা দাবি না মানলে এক দফা হতে সময় লাগবে না।”

মূলত সংবিধান পরিবর্তনের পদ্ধতি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করলেও জামায়াত ও এনসিপি বলছে, সংশোধন নয়—গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। এছাড়া সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলকে সভাপতির পদ না দেওয়া রাজনৈতিক দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তারেক রহমানের সতর্কবার্তা, পাল্টা তোপ শফিক রহমানের

চলমান এই আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। শনিবার এক বক্তব্যে তিনি বলেন—

“দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আইনেই রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন—

“আগের সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটছে। তবে আমাদের আন্দোলন সরকারকে বিদায় করার জন্য নয়। কিন্তু কেউ যদি বিদায় নেওয়ার আমল করে, তখন আমাদের কী করার আছে!”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সংসদে গঠনমূলক আলোচনা না করে মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিরোধী দল রাজপথে ‘লংমার্চের’ নামে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে এবং ব্যক্তিগত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্পষ্ট দাবি—সংসদে নোটিশ দিয়েও কাজ না হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন।