অন্তর্বর্তী সরকার চলে গেলে আমরা যাবো কোথায়?- এ কে আজাদ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
- / 905
ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৫ (রোববার) – গত ৪০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে রপ্তানি খাতে এমন ভয়াবহ সংকট কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতা, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে আজাদ। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমরা ব্যবসায়ীরা এই খাতকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন হতাশ ও ক্ষুব্ধ।”
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের মুখে বাংলাদেশ: ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
আজ প্রথম আলোর আয়োজনে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গবেষকেরা অংশ নেন। সেখানেই এ কে আজাদ দেশের রপ্তানি খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সম্প্রতি এক ব্র্যান্ড অংশীদারের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে হা-মীম গ্রুপের এমডি এ কে আজাদ বলেন, তার এক বড় ব্র্যান্ড হেড অফিসে ডেকে জানায় যে, তারা নিজ দেশের সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেছে। তাদের ভাষ্য ছিল—”তোমাদের অবস্থান দুর্বল, ভালো ফল আশা করা যাচ্ছে না।” এই কথা শুনে তিনি ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েন।
সরকারের তৎপরতা ও ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসা
এই পরিস্থিতিতে এ কে আজাদ একাধিক উপদেষ্টাকে ফোন করেন এবং জানান, সবাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। পরদিন বাণিজ্য উপদেষ্টা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ কে আজাদ জানান, উপদেষ্টা বলেছেন, ৯৫ শতাংশ সমস্যা তাঁরা সমাধান করেছেন এবং বাকি ৫ শতাংশ নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। তার যুক্তি ছিল, যদি ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কমও আসে, কিন্তু ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত রপ্তানি হলে দেশের লাভই বেশি হবে। এই উদ্যোগে তিনি সফল হবেন বলে মনে করেন।
তবে এ কে আজাদ ক্রেতাদের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তার এক ক্রেতা ই-মেইলে জানিয়েছেন, ১ তারিখ থেকে বাংলাদেশের ওপর যে শুল্ক বসবে, তা সরানো না গেলে শুল্কের ৩৫ শতাংশ তাকে (ব্যবসায়ীকে) বহন করতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এখন প্রশ্ন হলো, আমি সেই শুল্ক কীভাবে বহন করব?”
লবিংয়ে দুর্বলতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন
বক্তব্যে এ কে আজাদ ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, তার ইন্দোনেশিয়ায় এক যৌথ উদ্যোগ রয়েছে। সেখানে সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করছেন, লবিস্ট নিয়োগ করেছেন এবং প্রতিটি স্তরে আলোচনা করেছেন। অথচ বাংলাদেশে ব্যবসায়ীরা এমন সুযোগ পাননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা বলছেন, সাত-আট মাসের জন্য দায়িত্বে আছেন। এরপর চলে যাবেন। কিন্তু তখন আমরা যাব কোথায়? আমাদের কার কাছে ফেলে রাখছেন?”
এ কে আজাদ মনে করেন, “সবার ধারণা, আমাদের মাথার ওপর একজন আছেন। তিনি এটা ফুঁ দিয়ে দেবেন আর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যার জন্য আমাদের কোনোরকম মূল্যায়ন করা হচ্ছে না; কোনো লবিস্ট নিয়োগের চিন্তা করা হচ্ছে না।”
গতকাল শনিবার সরকার থেকে জানানো হয়েছে, ইউএসটিআর বা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর শুল্ক নির্ধারণ করবে না, করবে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের উদ্দেশে এ কে আজাদ বলেন, “আপনারা যদি পারেন, ওই পর্যায়ে কিছু চেষ্টা করেন।”
সরকার বলেছে, তাড়াতাড়ি করে লবিস্ট নিয়োগসহ অন্যান্য কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু এ কে আজাদ বলেন, “এখন আমরা লবিস্ট নিয়োগ করে কত দূর কী করা যাবে, তা আমাদের জানা নাই। বাংলাদেশ এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”


























