ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশেষ অভিযান চললেও থামছে না মব ও অপরাধের মহড়া

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 49

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চললেও কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না অপরাধের। দেশজুড়ে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, মব জাস্টিস, ডাকাতি, অপহরণ ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়া উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি অপরাধীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। খোদ পুলিশ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

পুলিশের দাবি, সাধারণ মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং পুলিশকে ‘ফ্যাসিস্ট আমলের ট্যাগ’ দেওয়ার চেষ্টার কারণে সারা দেশে পুলিশিং ব্যবস্থা অনেকটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আর এই মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতার সুযোগটিই পুরোদমে নিচ্ছে অপরাধী চক্র।

৩ মাসের ভয়াবহ পরিসংখ্যান:

পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে মে— এই তিন মাসেই দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ড, ৪৬১টি ছিনতাই, ১৩২টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ২ হাজার ৪৬৬টি চুরি এবং ৩৯৬টি অস্ত্র আইনের মামলা হয়েছে। এই তিন মাসে অপরাধীদের দ্বারা পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে ১৮৪ বার।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য বলছে, কেবল মে মাসেই মব সহিংসতায় ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬৮ জন। এছাড়া ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭ জন।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মুক্তিতে অস্ত্রের ঝনঝনানি:

কারাগার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মুক্তির পর অপরাধ অর্থনীতিতে আধিপত্যের লড়াই শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার পশ্চিম রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ কারামুক্তির মাত্র এক মাসের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। চট্টগ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন ও টিটন হত্যাকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতিশোধপরায়ণতা, অপরাধ অর্থনীতিতে আধিপত্যের লড়াই এবং সাধারণ মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারকেই এখানে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।’

এই বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর পুলিশের ওপর আস্থা কমে যাওয়া এবং মাঠ পর্যায়ের পুলিশের মধ্যে এক ধরনের অজানা ভীতি কাজ করছে, এটা সত্যি। তবে আমরা নিয়মিত মোটিভেশন ও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অভিযানে যাওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছি। গাড়িসংকট ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।’

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চেকপোস্ট ও প্যাট্রলিং জোরদার করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে আরও জোরালো অ্যাকশন নেওয়া হবে। পুলিশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের পুরোনো রূপে ফিরবে না, বরং সমাজকে সাথে নিয়েই অপরাধ দমন করবে।

বিশেষ অভিযান চললেও থামছে না মব ও অপরাধের মহড়া

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চললেও কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না অপরাধের। দেশজুড়ে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, মব জাস্টিস, ডাকাতি, অপহরণ ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়া উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি অপরাধীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। খোদ পুলিশ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

পুলিশের দাবি, সাধারণ মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং পুলিশকে ‘ফ্যাসিস্ট আমলের ট্যাগ’ দেওয়ার চেষ্টার কারণে সারা দেশে পুলিশিং ব্যবস্থা অনেকটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আর এই মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতার সুযোগটিই পুরোদমে নিচ্ছে অপরাধী চক্র।

৩ মাসের ভয়াবহ পরিসংখ্যান:

পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে মে— এই তিন মাসেই দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ড, ৪৬১টি ছিনতাই, ১৩২টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ২ হাজার ৪৬৬টি চুরি এবং ৩৯৬টি অস্ত্র আইনের মামলা হয়েছে। এই তিন মাসে অপরাধীদের দ্বারা পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে ১৮৪ বার।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য বলছে, কেবল মে মাসেই মব সহিংসতায় ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬৮ জন। এছাড়া ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭ জন।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মুক্তিতে অস্ত্রের ঝনঝনানি:

কারাগার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মুক্তির পর অপরাধ অর্থনীতিতে আধিপত্যের লড়াই শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার পশ্চিম রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ কারামুক্তির মাত্র এক মাসের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। চট্টগ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন ও টিটন হত্যাকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতিশোধপরায়ণতা, অপরাধ অর্থনীতিতে আধিপত্যের লড়াই এবং সাধারণ মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারকেই এখানে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।’

এই বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর পুলিশের ওপর আস্থা কমে যাওয়া এবং মাঠ পর্যায়ের পুলিশের মধ্যে এক ধরনের অজানা ভীতি কাজ করছে, এটা সত্যি। তবে আমরা নিয়মিত মোটিভেশন ও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অভিযানে যাওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছি। গাড়িসংকট ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।’

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চেকপোস্ট ও প্যাট্রলিং জোরদার করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে আরও জোরালো অ্যাকশন নেওয়া হবে। পুলিশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের পুরোনো রূপে ফিরবে না, বরং সমাজকে সাথে নিয়েই অপরাধ দমন করবে।