আওয়ামী লীগের আশার আলো, বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে নিভছে
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / 63
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশবাসী রাজনৈতিক স্বস্তির প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে তা অধরাই রয়ে গেছে। বরং দেশের বর্তমান রাজনীতির মাঠে আধিপত্য বিস্তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং তরুণদের প্রতিনিধিত্বকারী দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে স্পষ্ট ‘বৈরিতা’ ও অনৈক্য দেখা যাচ্ছে। আর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই তিন দলের দূরত্বের সুযোগ নিয়ে মাঠ থেকে ছিটকে পড়া নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ফের রাজনীতিতে ঢোকার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটির এখন প্রধান লক্ষ্য হলো বর্তমান বিএনপি সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করা এবং তিন দলের বিরোধকে উসকে দিয়ে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে সেই সুযোগে তারা আবার মাঠ দখল করতে পারে।
মৌলিক ইস্যুতে ঐকমত্যের অভাব ও ফাটল:
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং বিগত সরকারের আমলানির্ভর সিন্ডিকেট ভাঙার মতো মৌলিক ইস্যুতে দলগুলো একক কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াতের মধ্যে জাতীয় ইস্যুতে দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলামের মতে, “জুলাই মুভমেন্টে যারা ছিল, তাদের মধ্যে ফাটল দেখা দিলেই আওয়ামী লীগ সুযোগ নেবে। জাতীয় স্বার্থে এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে দলগুলোর বেরিয়ে আসা উচিত।”
সামাজিক মাধ্যম ও চোরাগুপ্তা নেটওয়ার্কে তৎপরতা:
মাঠের রাজনীতিতে পুরোপুরি কোণঠাসা থাকলেও আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ‘চোরাগুপ্তা’ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তিন দলের বিরোধ উসকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা আকস্মিক ঝটিকা মিছিল করার সাহসও দেখাচ্ছে। গত কয়েকদিনে নোয়াখালী, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক), ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহের ভালুকা, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী এবং চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল করার খবর পাওয়া গেছে।
নেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ:
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এই পরিস্থিতির জন্য জামায়াতের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “যুক্তির বাইরে গিয়ে বিরোধিতার নেতিবাচক রাজনীতি বর্তমান সময়ে কাম্য নয়। ইসলামের নাম নিলেও দলটির শীর্ষ নেতারা ভেতরে-ভেতরে পুরোনো আওয়ামী লীগেরই উত্তরাধিকার বহন করছেন।”
পাল্টা জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের আমরা বিরোধিতা করি, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বিএনপি এখন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই আওয়ামী লীগকেই রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। দেশের এই নাজুক অবস্থায় বিএনপির ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয়।”
এদিকে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “দলগুলোর বিভেদের কারণেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ফেরার শক্তি পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও দল হিসেবে তাদের পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। দেশকে সঠিক ধারায় ফেরাতে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য প্রয়োজন, আর এজন্য সবার আগে বিএনপিকেই এগিয়ে আসতে হবে।”





















