ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত হামলাকারীদের না ফেরালে সব ভারতীয় প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেব: মাহমুদুর রহমান

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 332

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি ঘোষণা করেছেন, ভারত যদি শেখ হাসিনা, কামাল ও হাদির ওপর হামলাকারীদের ফিরিয়ে না দেয়, তবে বাংলাদেশে অবস্থিত প্রতিটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে।

সোমবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে মাহমুদুর রহমান এই হুঁশিয়ারি দেন।

ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের দাবি

মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে দ্রুত বাংলাদেশে কর্মরত সকল ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের ১৬ মাস পরেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা দেশজুড়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের ‘টার্গেট কিলিংয়ে’ লিপ্ত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত দক্ষতা ও তৎপরতার ঘাটতি স্পষ্ট। শুধু এই সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের খুনের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

জননিরাপত্তার গণকমিটি গঠনের ডাক

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান এই হুমকি মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গণকমিটি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। আগামীকাল (১৬ ডিসেম্বর) থেকেই দেশের সব ওয়ার্ডে এই কমিটি গড়ার ঘোষণা দেন আমার দেশ সম্পাদক।

এই কমিটিগুলোর প্রধান কাজ হবে:

১. নেতাকর্মী পর্যবেক্ষণ: ফ্যাসিস্ট রাজনীতির নেতাকর্মী, সমর্থক ও অনুচরদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে এদের ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা। এক্ষেত্রে কোনো শারীরিক নির্যাতন থেকে বিরত থাকতে হবে। ২. প্রশাসনের ওপর নজরদারি: স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা। কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও পতিত সরকারের সহযোগী হিসেবে সক্রিয় এবং তারা যেনো কোনোভাবেই সন্দেহভাজন অপরাধীকে ছেড়ে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। ৩. আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ: স্থানীয় আদালতের আইনজীবীদের অনুরোধ করা, যেন তারা টাকার বিনিময়ে অপরাধীর জামিন বা মামলা দুর্বল করার মতো কোনো অসৎ কার্যকলাপে জড়িয়ে না পড়েন।

হাসিনাকে ফেরাতে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম

মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আদালতে প্রমাণিত অপরাধী শেখ হাসিনাকে ভারত যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে, তা বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাকে ফিরিয়ে এনে আইন, বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি করা না গেলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে না।

তিনি দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে ভারতীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে খুনি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই দাবিতে আজ থেকেই সারা দেশে সভা, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে নালিশের আহ্বান

আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা’ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে অন্য দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মানে সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ উত্থাপন করার আহ্বান জানান।

তিনি রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যদি ক্ষমতায় টিকে থাকা যেত, তাহলে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হতো না।

ভারত হামলাকারীদের না ফেরালে সব ভারতীয় প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেব: মাহমুদুর রহমান

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি ঘোষণা করেছেন, ভারত যদি শেখ হাসিনা, কামাল ও হাদির ওপর হামলাকারীদের ফিরিয়ে না দেয়, তবে বাংলাদেশে অবস্থিত প্রতিটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে।

সোমবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে মাহমুদুর রহমান এই হুঁশিয়ারি দেন।

ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের দাবি

মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে দ্রুত বাংলাদেশে কর্মরত সকল ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের ১৬ মাস পরেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা দেশজুড়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের ‘টার্গেট কিলিংয়ে’ লিপ্ত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত দক্ষতা ও তৎপরতার ঘাটতি স্পষ্ট। শুধু এই সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের খুনের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

জননিরাপত্তার গণকমিটি গঠনের ডাক

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান এই হুমকি মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গণকমিটি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। আগামীকাল (১৬ ডিসেম্বর) থেকেই দেশের সব ওয়ার্ডে এই কমিটি গড়ার ঘোষণা দেন আমার দেশ সম্পাদক।

এই কমিটিগুলোর প্রধান কাজ হবে:

১. নেতাকর্মী পর্যবেক্ষণ: ফ্যাসিস্ট রাজনীতির নেতাকর্মী, সমর্থক ও অনুচরদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে এদের ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা। এক্ষেত্রে কোনো শারীরিক নির্যাতন থেকে বিরত থাকতে হবে। ২. প্রশাসনের ওপর নজরদারি: স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা। কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও পতিত সরকারের সহযোগী হিসেবে সক্রিয় এবং তারা যেনো কোনোভাবেই সন্দেহভাজন অপরাধীকে ছেড়ে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। ৩. আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ: স্থানীয় আদালতের আইনজীবীদের অনুরোধ করা, যেন তারা টাকার বিনিময়ে অপরাধীর জামিন বা মামলা দুর্বল করার মতো কোনো অসৎ কার্যকলাপে জড়িয়ে না পড়েন।

হাসিনাকে ফেরাতে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম

মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আদালতে প্রমাণিত অপরাধী শেখ হাসিনাকে ভারত যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে, তা বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাকে ফিরিয়ে এনে আইন, বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি করা না গেলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে না।

তিনি দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে ভারতীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে খুনি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই দাবিতে আজ থেকেই সারা দেশে সভা, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে নালিশের আহ্বান

আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা’ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে অন্য দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মানে সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ উত্থাপন করার আহ্বান জানান।

তিনি রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে যদি ক্ষমতায় টিকে থাকা যেত, তাহলে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হতো না।