বিএনপি নেতাকে মারধর, সাবেক চেয়ারম্যানসহ আটক ৩
- আপডেট সময় : ১২:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 402
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় বিএনপি’র দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এসএম সারওয়ার ফকির গুরুতর আহত হয়েছেন। মারধরের জেরে সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পাটিরা বাজারে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আহত সারওয়ার ফকিরকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও মারধর
এই সংঘর্ষের মূল কারণ দলীয় কোন্দল এবং দুই প্রভাবশালী নেতার সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি।
গ্রুপ বিভাজন: আহত এসএম সারওয়ার ফকির কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল করিম সরকারের অনুসারী। অন্যদিকে হামলাকারীরা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুকের সমর্থক।
কথা-কাটাকাটি: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তমাল নামের একজন বিএনপি নেতা করিম সরকারকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলে সারওয়ার প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
বেধড়ক হামলা: কিছুক্ষণ পর তোফায়েল আহামেদ তমাল তাঁর লোকজন নিয়ে বাজারের একটি ঘরে বসে থাকা সারওয়ারের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন।
সারওয়ারের অভিযোগ: আহত সারওয়ার অভিযোগ করেছেন, “বিএনপি নেতা ফারুকের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাকে ব্যাপক মারধর করেছে।”
নেতাকর্মীদের অবরোধ ও পুলিশের তৎপরতা
সারওয়ারকে মারধরের খবর পেয়ে করিম সরকারপন্থী শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
অবরোধ: ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হামলাকারী তোফায়েল আহামেদ তমাল, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ও শিবলীকে বাজারের একটি ঘরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং স্লোগান দিতে থাকে।
পুলিশের আটক: রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফুলবাড়ীয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, তাঁর ছেলে তোফায়েল আহামেদ তমাল এবং শিবলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আহতের অবস্থা ও আইনগত পদক্ষেপ
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়াদিয়া জানান, সারওয়ারের বাম হাত ও বাম কাঁধে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসির বক্তব্য: ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান জানান, “মারধরের ঘটনায় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











