মিছিলে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 91
৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আনন্দ আর উদ্দীপনার বর্ণিল মিছিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নেতার অনুসারী আর ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে সেই শোভাযাত্রা রূপ নিল এক ভয়ংকর রণক্ষেত্রে! থানার ভবনের সামনে দুই পক্ষের দুটি মিছিল মুখোমুখি হতেই কে কার আগে রাস্তা পার হবে—এই তুচ্ছ অহংকার আর আধিপত্যের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেন নিজ দলের নেতাকর্মীরা। ইটপাটকেল আর লাঠিসোঁটার আঘাতে মুহূর্তেই থমকে গেল সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি ও মিছিলকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (০৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের থানা ভবনের ঠিক সামনের প্রধান সড়কে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে স্থানীয় বিএনপির দুটি আলাদা পক্ষ পৃথক দুটি মিছিল বের করে। মিছিল দুটি যখন উপজেলা সদরের থানা ভবনের সামনের প্রধান সড়কে এসে মুখোমুখি হয়, তখন এক পক্ষ অন্য পক্ষকে রাস্তা ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে থামানোর ও শান্ত করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে উন্মত্ত কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রকাশ্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
ঘটনার পর দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। অপর পক্ষের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার দাবি করেন, “আমাদের মিছিলটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এগোচ্ছিল। এতে চারজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের মিছিলের পথরোধ করে অতর্কিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের তিন-চারজন কর্মী আহত হয়েছেন।”
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুলফিকার চৌধুরী সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করে জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করে উপজেলা পার্কে নির্ধারিত সমাবেশ করছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে এসে ইচ্ছেকৃতভাবে উসকানিমূলক মিছিল ও স্লোগান দিতে শুরু করে। এর ফলেই উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে অনভিপ্রেত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।”
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মূলত দুটি পৃথক মিছিল একই সময়ে মুখোমুখি হওয়ার ফলেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির সূত্রপাত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং উভয় পক্ষ নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”


















