ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির কঠোর শুদ্ধি অভিযান: চাঁদাবাজ ‘হাইব্রিড’দের তালিকা শুরু

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / 367

দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে দলটি। বিশেষ করে ‘হাইব্রিড’ ও ‘নব্য বিএনপি’ নামধারীরাই এসব অপকর্মে বেশি বেপরোয়া বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের কারণে তৃণমূল বিএনপিতে কোন্দল ও গ্রুপিং সৃষ্টি হয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে, যা দলকে বিব্রত করছে। এ অবস্থায় দলের হাইকমান্ড অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছে এবং তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

হাইকমান্ডের কঠোর বার্তা

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, হাইকমান্ডের নির্দেশে ইতোমধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়ে গেছে। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, জেলাসহ সব পর্যায়ের কমিটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জনগণের কাছে যারা রুষ্ট, তাদের সতর্ক করাসহ অনেককে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। সূত্রমতে, যারা দলের সুনাম নষ্ট করছে এবং দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের ছেঁটে ফেলতে হাইকমান্ড কোনো দ্বিধা করবে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি গণমাধ্যমকে বলেন, “দল এবং দেশের স্বার্থে বিএনপি যা যা করার তাই করবে। সেক্ষেত্রে যারা দলের ইমেজ নষ্ট করবে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে মোটেই পিছপা হবে না বিএনপি। ধরে নিতে পারেন এ বিষয়ে কাজ চলছে। প্রয়োজনে তালিকা করতে হলে তাও করা হবে। যে কোনো অপকর্ম ও অন্যায়ের সঙ্গে যারা জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষকে আশা ও বিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে গেছেন। পাঁচ আগস্টের আগের রাজনীতি ও পরের রাজনীতির মধ্যে অনেক গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। নেতৃত্বের ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। সুতরাং যারা না বুঝে অথবা জেনে-শুনেও অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সামনেও হবে।”

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও বহিষ্কারের চিত্র

বিএনপি গত ১১ মাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত পাঁচ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে এবং প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীকে শোকজ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভোলার তজুমদ্দিন ও লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‘হাইব্রিড’ অনুপ্রবেশকারী ও অপপ্রচারের অভিযোগ

তবে, কোথাও কোথাও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আওয়ামী লীগের ছদ্মবেশী কর্মীরা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতাদের কাছে এ বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ আসছে। দলের ইমেজ নষ্ট করা এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের ‘সাইলেন্ট গ্রুপকে’ বিএনপিতে ‘পুশইন’ করা হচ্ছে। দলীয় তদন্তে অনেক জায়গায় এর প্রমাণও মিলেছে। এজন্য বেশিরভাগ অপকর্মের ঘটনায় ‘হাইব্রিড’ এবং এসব ‘পুশইন চক্রের’ জড়িত থাকার প্রমাণও মিলেছে। যদিও পাঁচ আগস্টের পর এসব বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু সে অর্থে কাজ হয়নি। অনেকের বিরুদ্ধে ‘টাকা খেয়ে দলে ভেড়ানোর’ অভিযোগও রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে অপকর্মে জড়িত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেশ কিছু জায়গায় অপকর্মে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকেই মামলা করা হয়েছে। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি, বিএনপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও এসব ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। ৫ আগস্টের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে আমরা সব মিটিং ও সমাবেশে বলেছি, আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে এ দেশে বদনাম করেছে, সে ধরনের কোনো কাজ বিএনপি নেতাকর্মীরা করতে পারবে না। তার মধ্যে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানারকমের বিষয় আছে।” তিনি আরও বলেন, “যারা বেপরোয়া বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।” তবে, যা ঘটছে, তার চেয়ে বেশি অপপ্রচার হচ্ছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।

বিএনপির কঠোর শুদ্ধি অভিযান: চাঁদাবাজ ‘হাইব্রিড’দের তালিকা শুরু

আপডেট সময় : ১২:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে দলটি। বিশেষ করে ‘হাইব্রিড’ ও ‘নব্য বিএনপি’ নামধারীরাই এসব অপকর্মে বেশি বেপরোয়া বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের কারণে তৃণমূল বিএনপিতে কোন্দল ও গ্রুপিং সৃষ্টি হয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে, যা দলকে বিব্রত করছে। এ অবস্থায় দলের হাইকমান্ড অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছে এবং তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

হাইকমান্ডের কঠোর বার্তা

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, হাইকমান্ডের নির্দেশে ইতোমধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়ে গেছে। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, জেলাসহ সব পর্যায়ের কমিটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জনগণের কাছে যারা রুষ্ট, তাদের সতর্ক করাসহ অনেককে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। সূত্রমতে, যারা দলের সুনাম নষ্ট করছে এবং দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের ছেঁটে ফেলতে হাইকমান্ড কোনো দ্বিধা করবে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি গণমাধ্যমকে বলেন, “দল এবং দেশের স্বার্থে বিএনপি যা যা করার তাই করবে। সেক্ষেত্রে যারা দলের ইমেজ নষ্ট করবে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে মোটেই পিছপা হবে না বিএনপি। ধরে নিতে পারেন এ বিষয়ে কাজ চলছে। প্রয়োজনে তালিকা করতে হলে তাও করা হবে। যে কোনো অপকর্ম ও অন্যায়ের সঙ্গে যারা জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষকে আশা ও বিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে গেছেন। পাঁচ আগস্টের আগের রাজনীতি ও পরের রাজনীতির মধ্যে অনেক গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। নেতৃত্বের ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। সুতরাং যারা না বুঝে অথবা জেনে-শুনেও অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সামনেও হবে।”

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও বহিষ্কারের চিত্র

বিএনপি গত ১১ মাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত পাঁচ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে এবং প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীকে শোকজ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভোলার তজুমদ্দিন ও লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‘হাইব্রিড’ অনুপ্রবেশকারী ও অপপ্রচারের অভিযোগ

তবে, কোথাও কোথাও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আওয়ামী লীগের ছদ্মবেশী কর্মীরা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি নেতাদের কাছে এ বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ আসছে। দলের ইমেজ নষ্ট করা এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের ‘সাইলেন্ট গ্রুপকে’ বিএনপিতে ‘পুশইন’ করা হচ্ছে। দলীয় তদন্তে অনেক জায়গায় এর প্রমাণও মিলেছে। এজন্য বেশিরভাগ অপকর্মের ঘটনায় ‘হাইব্রিড’ এবং এসব ‘পুশইন চক্রের’ জড়িত থাকার প্রমাণও মিলেছে। যদিও পাঁচ আগস্টের পর এসব বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু সে অর্থে কাজ হয়নি। অনেকের বিরুদ্ধে ‘টাকা খেয়ে দলে ভেড়ানোর’ অভিযোগও রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে অপকর্মে জড়িত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেশ কিছু জায়গায় অপকর্মে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকেই মামলা করা হয়েছে। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি, বিএনপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও এসব ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। ৫ আগস্টের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে আমরা সব মিটিং ও সমাবেশে বলেছি, আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে এ দেশে বদনাম করেছে, সে ধরনের কোনো কাজ বিএনপি নেতাকর্মীরা করতে পারবে না। তার মধ্যে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানারকমের বিষয় আছে।” তিনি আরও বলেন, “যারা বেপরোয়া বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।” তবে, যা ঘটছে, তার চেয়ে বেশি অপপ্রচার হচ্ছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।