কক্সবাজার সদরে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি
- আপডেট সময় : ১১:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 339
কক্সবাজার সদর উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ও নদীর চরের মাটি কেটে বিক্রি করছে একাধিক চক্র। এসব মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে কোটি টাকার জায়গা। এতে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট ও নদীর ভাঙ্গন সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি, ঢিলা, নদীর তীরের মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনে অপরাধ বলা হলেও ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে অন্তরালে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১২-এর ৬ ধারায়) অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষিজমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই কাজ দ্বিতীয়বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। এ ক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমির মালিক ও মাটি কাটার সাথে জড়িত উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগের দিন ছিলো ফসলি জমি, রাত পেরিয়ে পরের দিনই তার দৃশ্যপট ১০/১২ ফোটের উচ্চতার ব্যবধানে ভরাটকৃত ভিটি। স্থানীয়রা জানান, পিএমখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড নয়াপাড়া গ্রামের নুরুল হুদা নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরপরই ৪০/৫০টি ডাম্পার গাড়ি দিয়ে একাধিক জমি ভরাটের কাজ করছে। সে জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক মুল্যে নির্ধারিত করে প্রতিটি জমি ভরাট করে দিচ্ছে। একাজের সাথে এইসময়ে নয়, দশক ধরে ফসলি জমি ও নদীর তীরের মাটি কাটার সাথে জড়িত রয়েছে সে। মাটি কাটার স্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পিএমখালীর ছনখোলা এলাকার নুনাবিলের ফসলি জমি ও বাঁকখালী নদীচরের জমি থেকে এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেয়া হয়। এইমাটি দিয়ে ড
রাস্তার পাশের কয়েকটি জমি ভরাটের কাজ করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরপরই মাটি নিয়ে ৪০-৫০টি ডাম্পারের ছুটাছুটি। বেপরোয়া ডাম্পার চলাচলে দিনদিনই স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এক দুই দিনের মধ্যেই ভরাট করছে বাউন্ডারি ঘেরা কয়েকটি বাড়িভিটি।
আবদুল হামিদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে অবগত করি কিন্তু প্রশাসন মাটি খেকোদের কাছে আমাদের নাম-ঠিকানা বলে দেয়। এর ফলে দোষী ব্যক্তিরা আমাদেরকে নানান হুমকি-ধুমকি দেয়। তিনি আরও বলেন, ‘তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটছে।
পিএমখালী ৫ নম্বর ওয়ার্ড নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অসংখ্য ডাম্পার ও এস্কাভেটর মালিক
নুরুল হুদা মুঠোফোনে বলেন, জমিতে ফসল ভালো না হওয়ার শঙ্কায় এক জমির মালিক তাকে জমির মাটি বিক্রি করছেন। সেই জমি থেকে চুক্তিবদ্ধ আপাতত ৩/৪টি জমি ভরাট করছি। মুলত: মাটি বিক্রিই আমার পেশা নেশা।
নিজের কাজে মাটি বহন ও কেটে নিতে কোটি টাকা খরচে ক্রয় করি এস্কেভেটর। রাতে গাড়ি চালাইলে কেউ কিছু বলে না।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়। এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলার সদ্য যোগদানকরা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম।











