ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলা উচ্চারণ’ নিয়ে মন্তব্য, স্কুলশিক্ষক আটক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 124

আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাষ্ট্রপ্রধানের দেওয়া ঐতিহাসিক বক্তৃতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও, দূর কুষ্টিয়ার এক বিদ্যাপীঠের শ্রেণিকক্ষে সেই বক্তব্যের পর্যালোচনা ডেকে আনল চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিপত্তি! জাতিসংঘের অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ভাষণের ‘উচ্চারণ’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো এক মাধ্যমিক শিক্ষকের। শিক্ষার্থীদের তোপ ও অভিভাবকদের তীব্র অসন্তোষের মুখে শেষমেশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো অভিযুক্ত শিক্ষককে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করে পুলিশ। তিনি প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ক্লাসরুম থেকে বাড়ি, তারপর প্রাঙ্গণজুড়ে অসন্তোষের দাবানল

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা নাগাদ। প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন সম্প্রতি জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। অভিযোগ উঠেছে, আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ভাষার স্পষ্টতা ও উচ্চারণ শৈলী নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ও ‘কটূক্তিপূর্ণ’ শব্দ প্রয়োগ করেন।

ক্লাস শেষ করে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে স্কুল খুলতেই শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একজোট হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক লালনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান মুকুল তড়িঘড়ি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন।

‘কটূক্তি করিনি, উচ্চারণের ফারাক বলেছি!’ তদন্তে দৌলতপুর থানা পুলিশ

বিদ্যালয় চত্বরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ভেড়ামারা-প্রাগপুর মহাসড়ক এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান—

“সকালে সাবেক সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে আমরা ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনো অপশব্দ বা কটূক্তি করার কথা স্পষ্ট অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন প্রবাসে বা বিদেশে অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ভাষার স্বাভাবিক উচ্চারণে সামান্য ফারাক তৈরি হতে পারে—এমন একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণই তিনি ক্লাসে বলেছিলেন।”

তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের আত্মপক্ষ সমর্থন সত্ত্বেও পার মেলেনি। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগে শিক্ষক লালনকে আটক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলা উচ্চারণ’ নিয়ে মন্তব্য, স্কুলশিক্ষক আটক

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাষ্ট্রপ্রধানের দেওয়া ঐতিহাসিক বক্তৃতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও, দূর কুষ্টিয়ার এক বিদ্যাপীঠের শ্রেণিকক্ষে সেই বক্তব্যের পর্যালোচনা ডেকে আনল চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিপত্তি! জাতিসংঘের অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ভাষণের ‘উচ্চারণ’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো এক মাধ্যমিক শিক্ষকের। শিক্ষার্থীদের তোপ ও অভিভাবকদের তীব্র অসন্তোষের মুখে শেষমেশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো অভিযুক্ত শিক্ষককে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করে পুলিশ। তিনি প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ক্লাসরুম থেকে বাড়ি, তারপর প্রাঙ্গণজুড়ে অসন্তোষের দাবানল

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা নাগাদ। প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন সম্প্রতি জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। অভিযোগ উঠেছে, আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ভাষার স্পষ্টতা ও উচ্চারণ শৈলী নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ও ‘কটূক্তিপূর্ণ’ শব্দ প্রয়োগ করেন।

ক্লাস শেষ করে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে স্কুল খুলতেই শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একজোট হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক লালনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান মুকুল তড়িঘড়ি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন।

‘কটূক্তি করিনি, উচ্চারণের ফারাক বলেছি!’ তদন্তে দৌলতপুর থানা পুলিশ

বিদ্যালয় চত্বরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ভেড়ামারা-প্রাগপুর মহাসড়ক এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল জানান—

“সকালে সাবেক সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে আমরা ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনো অপশব্দ বা কটূক্তি করার কথা স্পষ্ট অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন প্রবাসে বা বিদেশে অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ভাষার স্বাভাবিক উচ্চারণে সামান্য ফারাক তৈরি হতে পারে—এমন একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণই তিনি ক্লাসে বলেছিলেন।”

তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের আত্মপক্ষ সমর্থন সত্ত্বেও পার মেলেনি। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগে শিক্ষক লালনকে আটক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।