ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট
- আপডেট সময় : ০৫:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 100
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, আইনি জটিলতা এবং হাইকোর্টের আগের বেঞ্চের স্বপ্রণোদিত রায় প্রত্যাহারের নাটকীয় পর্ব শেষেও শেষ রক্ষা হলো না। নোবেলজয়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’-কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করতেই হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচার বিভাগীয় জটলা কাটিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই চূড়ান্ত আদেশের ফলে এনবিআরের টানা কয়েক বছরের বকেয়া কর দাবির আইনি বৈধতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো।
রুল খারিজ ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট
আদালত সূত্রে পরিষ্কার জানা গেছে, রাজস্ব বোর্ডের কর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ঘোষিত রায়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তিনটি অর্থ বছরে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের পাওনা বাবদ পুরো ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর হিসেবে জমা দিতে হবে।
আজ আদালতে গ্রামীণ কল্যাণ ও ড. ইউনূসের পক্ষে আইনি লড়াই চালান দেশের দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।
আইনি নথি বলছে, ঘটনাটি বেশ পুরনো। ২০১২-১৩ থেকে শুরু করে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত মোট পাঁচটি করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে বিশাল অংকের কর দাবি করেছিল এনবিআর। ২০১৭ সালে এই দাবির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন বিষয়টি ঝুলন্ত থাকার পর এনবিআরের পুনর্মূল্যায়নে প্রদেয় কর দাঁড়িয়েছিল ৬৬৬ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নজিরবিহীন আইনি মোড়
এই কর মামলার ইতিহাস রাজনৈতিক উত্তাপের সাথে বেশ গভীরভাবে যুক্ত। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট—শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক একদিন আগে—বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের রিট খারিজ করে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকার দাবি বহাল রেখেছিলেন।
কিন্তু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর চিত্র বদলে যায়। ২৯ আগস্ট বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নিজেদের পূর্বের রায় স্বপ্রণোদিতভাবে (Suo Moto) প্রত্যাহার করে নেন!
রায় প্রত্যাহারের পর মামলার পুরো ফাইল পাঠানো হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে বিষয়টি শুনানির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। নতুন এই বেঞ্চে পুনরায় দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ অবশেষে রিটটি চূড়ান্তভাবে খারিজ করে দেওয়া হলো।
















