ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে এসপি অফিসে চাঁদাবাজির নালিশ ভুয়া: ফেঁসে যাচ্ছেন পৌর কর্মকর্তা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 429

কথায় বলে, বানরের হাতে খন্তি আর অসৎ হস্তের কলমের আঁচড়—দুই-ই মারাত্মক। ঠিক তেমনই এক চক্রান্তের শিকার হয়ে অবশেষে সত্য প্রকাশের সুমতি হলো ফরিদপুরের এক ক্লিনিক মালিকের। স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে যে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা আদতে কোনো ঘটনাই নয়! না বুঝে, চোখ বুজে সই করে ফেলাই ছিল তাঁর মস্ত ভুল। অবশেষে ভুল শুধরে পুলিশ সুপারের (এসপি) দপ্তরে জমা পড়া অভিযোগপত্র লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন নাজনীন আক্তার।

একইসঙ্গে তাঁর সরলতা ও দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই ভুয়া লিখিত ফাঁদ প্রস্তুত করায় ফরিদপুর পৌরসভার কর্মকর্তা আহাদুজ্জামান কিরণ এবং মাহবুব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন তিনি।

ঘটনাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ‘ডে-নাইট ক্লিনিক’ সম্পর্কিত।

কীভাবে বোকা বানানো হলো ক্লিনিক মালিককে?

ঘটনাক্রমের সুত্রপাত গত ১৭ সেপ্টেম্বর। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মিজানুর রহমান মিনান, টিটু মিয়া, স্বপন মাহমুদ ও মুনায়েমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ এনে একটি লিখিত দরখাস্ত জমা পড়ে। কিন্তু সম্প্রতি নাজনীন আক্তার স্বয়ং এসপির কার্যালয়ে হাজির হয়ে সেটি প্রত্যাহারের লিখিত আবেদন করেন।

নতুন আবেদনের বয়ানে নাজনীন আক্তার স্পষ্ট উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তিদের নাম নালিশি পত্রে বসানো হয়েছে, তাদের কেউ কখনো তাঁর কাছে এক পয়সা চাঁদা চায়নি বা কোনো হুমকি দেয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটিই তাঁর অজান্তে একটি বিশেষ মহলের উস্কানি ও অসৎ উদ্দেশ্যে ঘটিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পৌরসভায় তৈরি হয় ‘ভুয়া’ দরখাস্তের ছক!

কিন্তু কীভাবে এই দরখাস্ত তৈরি হলো? নাজনীন আক্তারের লিখিত ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী মো. শফিকুল আলম আয়কর বা ট্যাক্স সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে গেলে মাহবুব নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ট্যাক্সের ঝামেলা খুব সহজে মিটিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শফিকুলকে ফরিদপুর পৌরসভা কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় অবস্থিত পৌর কর্মকর্তা আহাদুজ্জামান কিরণের কক্ষে নিয়ে যান ওই মাহবুব।

পরবর্তীতে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র তৈরি করে সেখানে প্রিন্ট নেওয়া হয়। এরপর নাজনীন আক্তারকে ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে ওই কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। বয়সজনিত কারণে তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি বেশ ক্ষীণ। অভিযোগপত্রটি পড়ে শোনানো বা তাঁকে পড়ার সুযোগ না দিয়েই হুরমুড় করে তাড়াহুড়ো করে তাঁর স্বাক্ষর বানিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

তথ্য ফাঁস ও সামাজিক হেয় করার অভিযোগ

পরবর্তীকালে যখন এই ভুয়া অভিযোগটি সরাসরি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছায়, তখন বিষয়টি নজরে আসে ক্লিনিক মালিক পরিবারের। শুধু তাই নয়, পরে জানা যায়—মাহবুব নামের সেই ব্যক্তি চক্রান্তমূলকভাবে তৈরি ওই ভুয়া অভিযোগপত্রের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এতে তাঁর ক্লিনিক ও পুরো পরিবারের সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে নাজনীন আক্তার পরিষ্কার জানিয়েছেন, যে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যে সাজানো আবেদনটি বাতিল করার পাশাপাশি, পৌর কর্মকর্তা কিরণ ও চক্রান্তকারী মাহবুবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

ফরিদপুরে এসপি অফিসে চাঁদাবাজির নালিশ ভুয়া: ফেঁসে যাচ্ছেন পৌর কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কথায় বলে, বানরের হাতে খন্তি আর অসৎ হস্তের কলমের আঁচড়—দুই-ই মারাত্মক। ঠিক তেমনই এক চক্রান্তের শিকার হয়ে অবশেষে সত্য প্রকাশের সুমতি হলো ফরিদপুরের এক ক্লিনিক মালিকের। স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে যে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা আদতে কোনো ঘটনাই নয়! না বুঝে, চোখ বুজে সই করে ফেলাই ছিল তাঁর মস্ত ভুল। অবশেষে ভুল শুধরে পুলিশ সুপারের (এসপি) দপ্তরে জমা পড়া অভিযোগপত্র লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন নাজনীন আক্তার।

একইসঙ্গে তাঁর সরলতা ও দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই ভুয়া লিখিত ফাঁদ প্রস্তুত করায় ফরিদপুর পৌরসভার কর্মকর্তা আহাদুজ্জামান কিরণ এবং মাহবুব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন তিনি।

ঘটনাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ‘ডে-নাইট ক্লিনিক’ সম্পর্কিত।

কীভাবে বোকা বানানো হলো ক্লিনিক মালিককে?

ঘটনাক্রমের সুত্রপাত গত ১৭ সেপ্টেম্বর। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মিজানুর রহমান মিনান, টিটু মিয়া, স্বপন মাহমুদ ও মুনায়েমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ এনে একটি লিখিত দরখাস্ত জমা পড়ে। কিন্তু সম্প্রতি নাজনীন আক্তার স্বয়ং এসপির কার্যালয়ে হাজির হয়ে সেটি প্রত্যাহারের লিখিত আবেদন করেন।

নতুন আবেদনের বয়ানে নাজনীন আক্তার স্পষ্ট উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তিদের নাম নালিশি পত্রে বসানো হয়েছে, তাদের কেউ কখনো তাঁর কাছে এক পয়সা চাঁদা চায়নি বা কোনো হুমকি দেয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটিই তাঁর অজান্তে একটি বিশেষ মহলের উস্কানি ও অসৎ উদ্দেশ্যে ঘটিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পৌরসভায় তৈরি হয় ‘ভুয়া’ দরখাস্তের ছক!

কিন্তু কীভাবে এই দরখাস্ত তৈরি হলো? নাজনীন আক্তারের লিখিত ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী মো. শফিকুল আলম আয়কর বা ট্যাক্স সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে গেলে মাহবুব নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ট্যাক্সের ঝামেলা খুব সহজে মিটিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শফিকুলকে ফরিদপুর পৌরসভা কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় অবস্থিত পৌর কর্মকর্তা আহাদুজ্জামান কিরণের কক্ষে নিয়ে যান ওই মাহবুব।

পরবর্তীতে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র তৈরি করে সেখানে প্রিন্ট নেওয়া হয়। এরপর নাজনীন আক্তারকে ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে ওই কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। বয়সজনিত কারণে তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি বেশ ক্ষীণ। অভিযোগপত্রটি পড়ে শোনানো বা তাঁকে পড়ার সুযোগ না দিয়েই হুরমুড় করে তাড়াহুড়ো করে তাঁর স্বাক্ষর বানিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

তথ্য ফাঁস ও সামাজিক হেয় করার অভিযোগ

পরবর্তীকালে যখন এই ভুয়া অভিযোগটি সরাসরি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছায়, তখন বিষয়টি নজরে আসে ক্লিনিক মালিক পরিবারের। শুধু তাই নয়, পরে জানা যায়—মাহবুব নামের সেই ব্যক্তি চক্রান্তমূলকভাবে তৈরি ওই ভুয়া অভিযোগপত্রের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এতে তাঁর ক্লিনিক ও পুরো পরিবারের সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে নাজনীন আক্তার পরিষ্কার জানিয়েছেন, যে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যে সাজানো আবেদনটি বাতিল করার পাশাপাশি, পৌর কর্মকর্তা কিরণ ও চক্রান্তকারী মাহবুবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন তিনি।