ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মন্দিরে ভাঙচুর: দুর্গা প্রতিমার হাত-পা ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
  • / 495

ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দিতে একটি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। রাতের অন্ধকারে সংঘটিত এই হামলায় মন্দিরের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; কোনোটির হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আবার কোনোটির দাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছে বা চুল ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

হামলার সময় ও প্রাথমিক তথ্য

গতকাল মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত ৮টা থেকে আজ বুধবার (৩০ জুলাই) ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় কানাইপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, কে বা কারা এই প্রতিমাগুলো ভেঙেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আজ বুধবার ফরিদপুর পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হুসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, “সকালে স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। আমাদের ইউনিয়নটি একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এলাকা। এখানে এমন একটি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটবে ভাবতেই পারি না।” তিনি এই নেক্কারজনক ঘটনাকে ‘খুবই দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলেও উল্লেখ করেন।

৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, তিনি সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন খাসকান্দি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের চারটি থেকে পাঁচটি প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি মন্দিরটি মেরামত ও সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মন্দির কমিটির সভাপতির বক্তব্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক আবেদন

খাসকান্দি সার্বজনীন মন্দির কমিটির সভাপতি বাসুদেব বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে হাঁটতে বের হয়ে তিনি দেখেন মন্দিরের কয়েকটি প্রতিমার হাত-পা ভাঙা, চুল ছেঁড়া সহ ভাঙা অংশগুলো মন্দিরের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে।

বাসুদেব বিশ্বাস দাবি করেন, মন্দিরটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষিত ছিল না। আশেপাশে কোনো বাড়ি না থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, মন্দিরটি সুরক্ষিত রাখতে ইতিপূর্বে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করা হলেও কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের তদন্ত

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকে বলেন, কে বা কারা খাসকান্দি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরটি ভেঙেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।” এসআই আব্দুল লতিফ আরও জানান, মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।

উল্লেখ্য, খাসকান্দি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরটি এলাকার সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয়। এখানে প্রতি বছর দুর্গা পূজা উৎসবের আয়োজন করা হয় এবং সারা বছরই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন পূজা-অর্চনা করে থাকেন।

ফরিদপুরে মন্দিরে ভাঙচুর: দুর্গা প্রতিমার হাত-পা ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা

আপডেট সময় : ০৬:২১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দিতে একটি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। রাতের অন্ধকারে সংঘটিত এই হামলায় মন্দিরের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; কোনোটির হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আবার কোনোটির দাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছে বা চুল ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

হামলার সময় ও প্রাথমিক তথ্য

গতকাল মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত ৮টা থেকে আজ বুধবার (৩০ জুলাই) ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় কানাইপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, কে বা কারা এই প্রতিমাগুলো ভেঙেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আজ বুধবার ফরিদপুর পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হুসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, “সকালে স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। আমাদের ইউনিয়নটি একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এলাকা। এখানে এমন একটি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটবে ভাবতেই পারি না।” তিনি এই নেক্কারজনক ঘটনাকে ‘খুবই দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলেও উল্লেখ করেন।

৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, তিনি সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন খাসকান্দি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের চারটি থেকে পাঁচটি প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি মন্দিরটি মেরামত ও সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মন্দির কমিটির সভাপতির বক্তব্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক আবেদন

খাসকান্দি সার্বজনীন মন্দির কমিটির সভাপতি বাসুদেব বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে হাঁটতে বের হয়ে তিনি দেখেন মন্দিরের কয়েকটি প্রতিমার হাত-পা ভাঙা, চুল ছেঁড়া সহ ভাঙা অংশগুলো মন্দিরের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে।

বাসুদেব বিশ্বাস দাবি করেন, মন্দিরটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষিত ছিল না। আশেপাশে কোনো বাড়ি না থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, মন্দিরটি সুরক্ষিত রাখতে ইতিপূর্বে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করা হলেও কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের তদন্ত

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকে বলেন, কে বা কারা খাসকান্দি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরটি ভেঙেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।” এসআই আব্দুল লতিফ আরও জানান, মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।

উল্লেখ্য, খাসকান্দি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরটি এলাকার সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয়। এখানে প্রতি বছর দুর্গা পূজা উৎসবের আয়োজন করা হয় এবং সারা বছরই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন পূজা-অর্চনা করে থাকেন।