ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সিআইডি কর্মকর্তার স্ত্রীর বিতর্কিত মামলায় ৩ সংবাদকর্মীর জামিন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 273

ফরিদপুরে মাদক কারবারি ও অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের পৈশাচিক হামলায় পঙ্গুত্ব বরণকারী অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনসহ তিন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত চাঁদাবাজি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এক সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর দায়ের করা বিতর্কিত মামলায় কোনো প্রকার প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই জারি হয়েছিল পরোয়ানা।

রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুই সাংবাদিক হলেন—রাজধানী টেলিভিশনের ফরিদপুর প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম এবং এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।

সত্য প্রকাশের মাশুল পঙ্গুত্ব, তারপর মিথ্যা মামলা!

অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলার ১ নম্বর আসামি ফরিদপুরের সাহসী সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন। বছর দেড়েক আগে মাদক সিন্ডিকেট ও বালু সাম্রাজ্যের আড়ালে থাকা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করায় তাঁর ওপর নেমে এসেছিল নারকীয় তাণ্ডব। হামলা চালিয়ে তাঁর দুটি হাত ও পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পঙ্গুত্ব বরণ করে দীর্ঘ চিকিৎসার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ জন্মমাটি ফরিদপুর ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন তিনি।

কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি এক সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে সামনে রেখে সাজ্জাদসহ তিন সাংবাদিকের নামে ঢাকার আদালতে হঠাৎ চাঁদাবাজির মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। কোনো আগাম তদন্ত ছাড়াই রাতারাতি জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা!

আদালতে সাংবাদিকদের ঢল ও আইনি লড়াই

বিষয়টি চাউর হতেই তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের মাঝে। নির্যাতিত সাংবাদিকদের পক্ষে অভিভাবক হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।

রবিবার ঢাকার আদালতে আসামিদের পক্ষে জোরালো আইনি লড়াই চালান অ্যাডভোকেট আছিবুর রহমান আসিফ, অ্যাডভোকেট খায়ের উদ্দিন সিকদার, অ্যাডভোকেট নাজমা সুলতানা নীলা এবং অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা বাবু ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিক নেতারা।

বিএমএসএফ-এর হুঁশিয়ারি: ‘ওয়ারেন্ট জারির বেআইনি প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করব’

সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হয়রানি নিয়ে বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এক কড়া বিবৃতিতে জানান, “কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে। কিন্তু কোনো তদন্ত ছাড়াই সরাসরি ওয়ারেন্ট জারি করা কতখানি আইনসিদ্ধ—তা নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে চাই।”

তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রের দায়িত্ব সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া, ক্ষমতার দাপটে তাঁদের বাকরুদ্ধ করা নয়। এই মিথ্যা মামলার শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে আমাদের সংগঠন।”

ফরিদপুরে সিআইডি কর্মকর্তার স্ত্রীর বিতর্কিত মামলায় ৩ সংবাদকর্মীর জামিন

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুরে মাদক কারবারি ও অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের পৈশাচিক হামলায় পঙ্গুত্ব বরণকারী অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনসহ তিন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত চাঁদাবাজি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এক সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর দায়ের করা বিতর্কিত মামলায় কোনো প্রকার প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই জারি হয়েছিল পরোয়ানা।

রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুই সাংবাদিক হলেন—রাজধানী টেলিভিশনের ফরিদপুর প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম এবং এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।

সত্য প্রকাশের মাশুল পঙ্গুত্ব, তারপর মিথ্যা মামলা!

অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলার ১ নম্বর আসামি ফরিদপুরের সাহসী সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন। বছর দেড়েক আগে মাদক সিন্ডিকেট ও বালু সাম্রাজ্যের আড়ালে থাকা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করায় তাঁর ওপর নেমে এসেছিল নারকীয় তাণ্ডব। হামলা চালিয়ে তাঁর দুটি হাত ও পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পঙ্গুত্ব বরণ করে দীর্ঘ চিকিৎসার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ জন্মমাটি ফরিদপুর ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন তিনি।

কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি এক সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে সামনে রেখে সাজ্জাদসহ তিন সাংবাদিকের নামে ঢাকার আদালতে হঠাৎ চাঁদাবাজির মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। কোনো আগাম তদন্ত ছাড়াই রাতারাতি জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা!

আদালতে সাংবাদিকদের ঢল ও আইনি লড়াই

বিষয়টি চাউর হতেই তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশের মফস্বল সাংবাদিকদের মাঝে। নির্যাতিত সাংবাদিকদের পক্ষে অভিভাবক হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।

রবিবার ঢাকার আদালতে আসামিদের পক্ষে জোরালো আইনি লড়াই চালান অ্যাডভোকেট আছিবুর রহমান আসিফ, অ্যাডভোকেট খায়ের উদ্দিন সিকদার, অ্যাডভোকেট নাজমা সুলতানা নীলা এবং অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা বাবু ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিক নেতারা।

বিএমএসএফ-এর হুঁশিয়ারি: ‘ওয়ারেন্ট জারির বেআইনি প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করব’

সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হয়রানি নিয়ে বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এক কড়া বিবৃতিতে জানান, “কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে। কিন্তু কোনো তদন্ত ছাড়াই সরাসরি ওয়ারেন্ট জারি করা কতখানি আইনসিদ্ধ—তা নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে চাই।”

তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রের দায়িত্ব সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া, ক্ষমতার দাপটে তাঁদের বাকরুদ্ধ করা নয়। এই মিথ্যা মামলার শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে আমাদের সংগঠন।”