ফরিদপুরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ও মারধরের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:২৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 611
ফরিদপুর সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালচামট খোদা বক্স রোড এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কথিত সাংবাদিক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি এবং মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সালিশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি এবং সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় রেজওয়ানুল হককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী রেজওয়ানুল হক এ বিষয়ে ২২ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনা
জমির বিরোধ: ১০৩ নং মৌজার ৪২৯১ নম্বর দাগের ১০ শতাংশ জমি নিয়ে মাসুদ মিয়া এবং রেজওয়ানুল হক গং-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিক সালিশ বৈঠকের পর রেজওয়ানুল হক গং-এর পক্ষে মীমাংসা হয়।
ঘটনার দিন: সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘর সরানোর কাজ শুরু হলে গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনিসুর রহমান লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন।
চাঁদা দাবি: প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, উপস্থিতরা বাধা দিলে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আনিসুর রহমান বলেন, “আমাকে ২ লক্ষ টাকা দিতে হবে, না দিলে এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে নিউজ করে দেব।”
মারধর ও হুমকি: স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আনিসুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মোঃ রেজওয়ানুল হককে কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন এবং হুমকি দেন— “তোদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাব।”
সাংবাদিকতার আড়ালে সম্পদ ও আতঙ্ক
ভুক্তভোগী রেজওয়ানুল হক জানান, তাঁর পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখেও কোতোয়ালি থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। এখন এই কথিত সাংবাদিক চাঁদা দাবি করছেন।
এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।
বিপুল সম্পদ: স্থানীয়দের অভিযোগ, “তিনি সাংবাদিকতার আড়ালে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি একটি তিনতলা বিশিষ্ট আলিশান ভবনে বসবাস করেন, যার চারপাশে উঁচু প্রাচীর ঘেরা। সাংবাদিকতা করে এত সম্পদের উৎস কোথায়—এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর।”
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে এই কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।











