পূজার আনন্দের মাঝে রাজেন্দ্র কলেজে শোক: নদে মিলল ছাত্র কৌশিকের দেহ
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 240
শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দের মাঝেই ফরিদপুরে নেমে এলো এক নিকষ কালো শোকের ছায়া। পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দু’দিন পর কুমার নদ থেকে কৌশিক সাহা জিতু (২৩) নামের এক কলেজছাত্রের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষ্মীপুর মদনখালী স্লুইসগেট সংলগ্ন কুমার নদ থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত কৌশিক সাহা জিতু ফরিদপুরের বিখ্যাত সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহরের ওয়ারলেস পাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে।
মায়ের চাবি পকেটে নিয়ে বের হওয়া, তারপরই নীরবতা!
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মায়ের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা দর্শন করেন কৌশিক। বাড়িতে ফিরে পোশাক পরিবর্তন করে ফের বন্ধুদের সঙ্গে পূজা দেখার উদ্দেশ্যে বের হন। বের হওয়ার সময় মায়ের কাছ থেকে পকেটে করে বাসার গেটের চাবিটি নিজ হাতে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু সেই রাতে আর বাড়ি ফেরেননি ওই তরুণ।
পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কৌশিকের কোনো সন্ধান মেলেনি। দিশেহারা পরিবার শেষমেশ ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নদের জলে মিলল পচা দেহ, শনাক্ত পকেটের চাবিতে!
মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা কুমার নদে একটি মানুষের পচা মরদেহ ভাসতে দেখে চমকে ওঠেন। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি ও থানা-পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্ধগলিত দেহটি উদ্ধার করে।
মরদেহের প্যান্টের পকেটে মেলে একটি ধাতব চাবি। খবর পেয়ে উদ্ধারস্থলে ছুটে যান নিখোঁজ কৌশিকের বাবা কমলেশ সাহা ও স্বজনেরা। পচে ফুলে যাওয়া দেহের পরিহিত টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে প্রাথমিকভাবে সন্তানকে শনাক্ত করেন বাবা।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ হোসেন জানান, পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত হতে পকেটে থাকা চাবিটি কৌশিকদের বাসায় নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সেই চাবি দিয়ে বাসার গেটের তালা অনায়াসে খুলে গেলে পুলিশ ও পরিবার চূড়ান্তভাবে কৌশিকের পরিচয় নিশ্চিত করে।
তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম, সিআইডি ও পিবিআই
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমির হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসানসহ সিআইডি ও পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন স্পষ্ট জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো নৃশংস হত্যাকাণ্ড লুকিয়ে আছে—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই পরিষ্কার হবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে।”











