ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে গলা কাটা অবস্থায় বাগানে ছটফট করছিলেন যুবক

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / 780

ফরিদপুর সদর উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. ইকবাল শেখ (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট এলাকায় এই হাড়হিম করা ঘটনা ঘটে। পালানোর সময় জনতা এক হামলাকারীকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

ঘটনার বিবরণ:

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আহত ইকবাল শেখ ওই ইউনিয়নের ওয়েজউদ্দীন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামের মৃত রশিদ শেখের ছেলে। বুধবার রাতে আফজাল মন্ডলের হাটের পাশে একটি নির্জন বাগানের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। সেখানে ইকবালকে বীভৎস অবস্থায় গলা ও পা কাটা পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

হামলাকারী আটক ও গণপিটুনি:

উপস্থিত জনতা চিৎকার করলে জিয়া মন্ডল (৫০) ও তার এক সহযোগী মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় মোটরসাইকেল উল্টে জিয়া মন্ডল পড়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। তবে তার সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশি পাহারায় বর্তমানে জিয়া মন্ডল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

দ্বন্দ্বের নেপথ্যে মাদক:

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিয়া মন্ডল এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদক কারবার নিয়ে ইকবালের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে গত কয়েকদিন ধরে ইকবালকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাগানে নিয়ে রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা:

আহত ইকবালের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার ভাই রফিক শেখ জানান, ফরিদপুর থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে প্রচুর রক্ত দিতে হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য:

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এই নৃশংস হামলার সাথে জড়িত বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে গলা কাটা অবস্থায় বাগানে ছটফট করছিলেন যুবক

আপডেট সময় : ০১:২৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুর সদর উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. ইকবাল শেখ (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট এলাকায় এই হাড়হিম করা ঘটনা ঘটে। পালানোর সময় জনতা এক হামলাকারীকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

ঘটনার বিবরণ:

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আহত ইকবাল শেখ ওই ইউনিয়নের ওয়েজউদ্দীন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামের মৃত রশিদ শেখের ছেলে। বুধবার রাতে আফজাল মন্ডলের হাটের পাশে একটি নির্জন বাগানের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। সেখানে ইকবালকে বীভৎস অবস্থায় গলা ও পা কাটা পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

হামলাকারী আটক ও গণপিটুনি:

উপস্থিত জনতা চিৎকার করলে জিয়া মন্ডল (৫০) ও তার এক সহযোগী মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় মোটরসাইকেল উল্টে জিয়া মন্ডল পড়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। তবে তার সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশি পাহারায় বর্তমানে জিয়া মন্ডল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

দ্বন্দ্বের নেপথ্যে মাদক:

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত জিয়া মন্ডল এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদক কারবার নিয়ে ইকবালের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে গত কয়েকদিন ধরে ইকবালকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাগানে নিয়ে রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা:

আহত ইকবালের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার ভাই রফিক শেখ জানান, ফরিদপুর থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে প্রচুর রক্ত দিতে হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য:

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এই নৃশংস হামলার সাথে জড়িত বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।