ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি ও গয়না গায়েব: ফরিদপুরে মন্দিরে লুটপাট

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 158

শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তার একদম পাশেই অবস্থান। কাছেই হাসপাতাল, দিনরাত মানুষের আনাগোনা। কিন্তু অন্ধকার নামতেই সেই সুরক্ষিত চত্বরকেই নিশানা করল পেশাদার চোরের দল। একে একে তিনটি দরজার একাধিক শক্ত তালা কেটে ভেতরে ঢুকে গায়েব করে দিল ১২৩ বছরের প্রাচীন দেবালয়ের মূল আকর্ষণ—প্রায় ২০ কেজি ওজনের বিরল কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি। সঙ্গে সাফ হয়ে গেল প্রতিমার গায়ে থাকা ভরি ভরি সোনা-রূপার অলংকার ও মূল্যবান ধর্মীয় সামগ্রী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ফরিদপুর শহরের জেনারেল হাসপাতালের ঠিক পশ্চিম পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক পুরানো কালীবাড়ি মন্দিরে এই চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন মন্দিরের সেবায়েত ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী।

তালা কেটে নিখুঁত হানা, অচল সিসি ক্যামেরার মোক্ষম সুযোগ

মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নিত্যদিনের ধর্মীয় আচার ও পূজা-অর্চনা শেষ করেন পুরোহিত ও সেবায়েতরা। মায়ের শয়ন দিয়ে নিয়ম মেনে পূর্ব পাশের কাঠের দরজা, লোহার দরজা এবং সবশেষে বাইরের শাটারযুক্ত গেটে একাধিক তালা লাগিয়ে বাড়ি চলে যান তাঁরা।

কিন্তু রবিবার ভোরে মন্দিরে প্রবেশ করতেই চোখ কপালে ওঠে সেবায়েতদের। দেখা যায়, দরজার প্রতিটি তালা কেটে ফেলা এবং ভেতরে ভাঙাচোরা অবস্থা।

মন্দিরের মূল বেদিতে শ্বেতপাথরের শিবমূর্তির ওপর বসানো ছিল কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি। পুরো বিগ্রহের যৌথ ওজন প্রায় ৪০ কেজি হলেও চোরেরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে শিবমূর্তিটি ফেলে রেখে শুধু ওপরের প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উপড়ে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রতিমার গায়ে থাকা আনুমানিক ৭-৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, পিতলের তৈরি ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি এবং মহাদেবের লিঙ্গের সঙ্গে থাকা ৮-১০ ভরির রূপার সাপসহ বিপুল ধর্মীয় দ্রব্যাদি লুট করা হয়।

পরবর্তীকালে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কষ্টিপাথরের কালীমাতার পায়ের পাতার অংশ ও মহাদেবের কিছু ভাঙা অবশিষ্টাংশ উদ্ধার হলেও সোনা-রূপা বা মূল মূর্তির কোনো হদিস মেলেনি।

সেবায়েতের ভাতিজা কৌশিক চক্রবর্তী আফসোসের সুর নিয়ে জানান, ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৮ শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই শতবর্ষী মন্দিরের সিসি ক্যামেরাগুলো কিছুদিন ধরেই অচল ছিল। আর সেই দুর্বলতার সুযোগটাই শতভাগ কাজে লাগিয়েছে অপরাধীরা।

সিআইডি ও শীর্ষ পুলিশের তৎপরতা

ভোর পৌনে ৬টার দিকে ৯৯৯-এ জরুরি বার্তা পাঠায় মন্দির কমিটি। খবর পেয়েই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মো. মিয়াজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরবর্তীতে সিআইডির (CID) বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট এসে আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আলামত সংগ্রহ করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন—

“প্রাচীন মন্দিরটি থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম চোরচক্রকে শনাক্ত ও মূল মালামাল উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।”

কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি ও গয়না গায়েব: ফরিদপুরে মন্দিরে লুটপাট

আপডেট সময় : ০৭:২৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তার একদম পাশেই অবস্থান। কাছেই হাসপাতাল, দিনরাত মানুষের আনাগোনা। কিন্তু অন্ধকার নামতেই সেই সুরক্ষিত চত্বরকেই নিশানা করল পেশাদার চোরের দল। একে একে তিনটি দরজার একাধিক শক্ত তালা কেটে ভেতরে ঢুকে গায়েব করে দিল ১২৩ বছরের প্রাচীন দেবালয়ের মূল আকর্ষণ—প্রায় ২০ কেজি ওজনের বিরল কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি। সঙ্গে সাফ হয়ে গেল প্রতিমার গায়ে থাকা ভরি ভরি সোনা-রূপার অলংকার ও মূল্যবান ধর্মীয় সামগ্রী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ফরিদপুর শহরের জেনারেল হাসপাতালের ঠিক পশ্চিম পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক পুরানো কালীবাড়ি মন্দিরে এই চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন মন্দিরের সেবায়েত ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী।

তালা কেটে নিখুঁত হানা, অচল সিসি ক্যামেরার মোক্ষম সুযোগ

মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নিত্যদিনের ধর্মীয় আচার ও পূজা-অর্চনা শেষ করেন পুরোহিত ও সেবায়েতরা। মায়ের শয়ন দিয়ে নিয়ম মেনে পূর্ব পাশের কাঠের দরজা, লোহার দরজা এবং সবশেষে বাইরের শাটারযুক্ত গেটে একাধিক তালা লাগিয়ে বাড়ি চলে যান তাঁরা।

কিন্তু রবিবার ভোরে মন্দিরে প্রবেশ করতেই চোখ কপালে ওঠে সেবায়েতদের। দেখা যায়, দরজার প্রতিটি তালা কেটে ফেলা এবং ভেতরে ভাঙাচোরা অবস্থা।

মন্দিরের মূল বেদিতে শ্বেতপাথরের শিবমূর্তির ওপর বসানো ছিল কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি। পুরো বিগ্রহের যৌথ ওজন প্রায় ৪০ কেজি হলেও চোরেরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে শিবমূর্তিটি ফেলে রেখে শুধু ওপরের প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উপড়ে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রতিমার গায়ে থাকা আনুমানিক ৭-৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, পিতলের তৈরি ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি এবং মহাদেবের লিঙ্গের সঙ্গে থাকা ৮-১০ ভরির রূপার সাপসহ বিপুল ধর্মীয় দ্রব্যাদি লুট করা হয়।

পরবর্তীকালে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কষ্টিপাথরের কালীমাতার পায়ের পাতার অংশ ও মহাদেবের কিছু ভাঙা অবশিষ্টাংশ উদ্ধার হলেও সোনা-রূপা বা মূল মূর্তির কোনো হদিস মেলেনি।

সেবায়েতের ভাতিজা কৌশিক চক্রবর্তী আফসোসের সুর নিয়ে জানান, ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৮ শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই শতবর্ষী মন্দিরের সিসি ক্যামেরাগুলো কিছুদিন ধরেই অচল ছিল। আর সেই দুর্বলতার সুযোগটাই শতভাগ কাজে লাগিয়েছে অপরাধীরা।

সিআইডি ও শীর্ষ পুলিশের তৎপরতা

ভোর পৌনে ৬টার দিকে ৯৯৯-এ জরুরি বার্তা পাঠায় মন্দির কমিটি। খবর পেয়েই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মো. মিয়াজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরবর্তীতে সিআইডির (CID) বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট এসে আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আলামত সংগ্রহ করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন—

“প্রাচীন মন্দিরটি থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম চোরচক্রকে শনাক্ত ও মূল মালামাল উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে।”