জামিনে বেরিয়েই ‘সাদা কাগজে সই’, ফরিদপুরে পান্নু হত্যার সাক্ষীদের ভিটেছাড়ার হুমকি
- আপডেট সময় : ১২:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 176
কোলে মাত্র তিন মাসের দুগ্ধপোষ্য অবুঝ শিশু, আর চোখে স্বামী হারানোর অসীম জলভরা শূন্যতা! মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা জজ কোর্টের চত্বর মুহূর্তের মধ্যে ভারী হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক ও করুণ দৃশ্যে। স্বামী হত্যার বিচারে সুবিচার তো দূর, উল্টে জামিনে মুক্ত আসামিদের চরম হুমকি-ধামকি ও রক্তচক্ষুর শিকার হয়ে শিশুসন্তানকে কোলে নিয়েই আদালতের বারান্দায় ছুটে এসেছেন এক অসহায় নারী।
ঘটনাটি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার। রগ কেটে নৃশংসভাবে খুন হওয়া স্থানীয় বিএনপি কর্মী পান্নু ফকির (৩৮) হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়েই এখন বাদী ও সাক্ষীদের এলাকাছাড়া করার তোড়জোড় চালাচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জড়িতদের দ্রত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে এদিন ফরিদপুর জজ কোর্ট চত্বরে এক স্পর্শকাতর মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন নিহতের স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। কোলে শিশু নিয়ে নিহতের স্ত্রী রূপা বেগমের বুকফাটা কান্না দেখে আদালতে আসা সাধারণ বিচারপ্রার্থীরাও যোগ দেন সেই মানবেতর মানববন্ধনে।
রগ কেটে নৃশংস খুন, আসামির জামিন পেতেই হুমকির জোয়ার!
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৫ জুন রাতে বাড়ি ফেরার পথে সালথার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা পান্নু ফকিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। হাত ও পায়ের রগ কেটে তাকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় দুষ্কৃতীরা। পরদিন সকালে যদুনন্দী সড়কের পাশে রক্তে ভেসে থাকা তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বড় ছেলে রোমান ফকির বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ জনকে অভিযুক্ত করে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তবে ঘটনার পর পুলিশ মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও, বেশিরভাগ আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাগিয়ে নেয়।
নিহতের স্ত্রী রূপা বেগম অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করেন—
“সম্প্রতি জামিনের মেয়াদ শেষ হলে ৯ জন আসামি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যায়। বিচারক ৭ জনকে কারাগারে পাঠালেও মূল অভিযুক্ত সিদ্দিক মাতুব্বরসহ ২ জনকে জামিন দিয়ে দেন! আর জেল থেকে বেরিয়েই বদলে গেছে পুরো দৃশ্যপট। প্রধান আসামি সিদ্দিক মাতুব্বর আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মামলা তুলে নিতে বলছে। সাক্ষীদের ডেকে সাদা কাগজে জোর করে সই করিয়ে নিচ্ছে যাতে তারা আদালতে সাক্ষ্য না দেয়! অন্যদিকে বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।”
চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি, তদন্ত কর্মকর্তার সাফাই
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ভুক্তভোগীদের তোলা সুরের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথা সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ রায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
তিনি জানান—
“এই মামলায় শুরুতে একজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছিলাম। বাকি আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। মেয়াদ শেষে ৯ জন নিম্ন আদালতে গেলে আদালত ৭ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠায় এবং ২ জনকে জামিন দেয়। এ ছাড়া বাকি ৫ জন আসামি নতুন করে উচ্চ আদালত থেকে আরও ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়ে এসেছে। তবে পুলিশ বসে নেই, তদন্ত পর্ব শেষ পর্যায়ে। দ্রুতই আদালতে নিখুঁত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।”











