ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 320

আসন ভাগাভাগি ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন ও মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অতিরিক্ত আসন দাবির মুখে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিরোধের মূল কারণ:

জোটের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী জোটের স্বার্থে ৪০টি আসন ছাড়তে রাজি হলেও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম এতে সন্তুষ্ট নন। দেশব্যাপী বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে দাবি করে তারা আরও বেশি আসনের দাবি তুলেছেন। দফায় দফায় বৈঠক করেও এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমনকি জামায়াত কিছু আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও ইসলামী আন্দোলন তাতে সায় দেয়নি।

অন্যদিকে, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও তাদের সাংগঠনিক শক্তির চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত বনিবনা না হলে দল দুটি জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচনের পথে হাঁটতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

জোটের বর্তমান অস্থিরতা:

গতকাল মঙ্গলবার ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও আসন জটিলতায় তা সফল হয়নি। জানা গেছে, জামায়াত ইতিমধ্যে ছাড় হিসেবে চরমোনাই ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে প্রার্থী দেয়নি। তবে এই কৌশলকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে দল দুটি জামায়াতের সাথে দরকষাকষি বাড়িয়ে দিয়েছে।

নতুন দলের অন্তর্ভুক্তি ও সমীকরণ:

আট দলীয় ইসলামী জোট থেকে ১১ দলীয় জোটে রূপান্তরের সময় এনসিপি, এলডিপি এবং এবি পার্টি যুক্ত হওয়ার পর থেকেই অস্থিরতার শুরু। নতুন এই দলগুলো আসায় ইসলামী দলগুলোর গুরুত্ব আগের চেয়ে কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। বিশেষ করে এনসিপিকে জামায়াত ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়ায় অন্য ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও বিশৃঙ্খলা:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটবদ্ধ ঘোষণার কথা থাকলেও ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রার্থীরা প্রায় ৬০০টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জোটের পক্ষ থেকে এটিকে সময়ের অভাব বলা হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শেষ পর্যন্ত জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের এই মিত্রদের ধরে রাখতে পারে নাকি জোটটি ভেঙে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়, তা এখন দেখার বিষয়।

ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট

আপডেট সময় : ০১:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন ভাগাভাগি ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন ও মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অতিরিক্ত আসন দাবির মুখে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিরোধের মূল কারণ:

জোটের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী জোটের স্বার্থে ৪০টি আসন ছাড়তে রাজি হলেও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম এতে সন্তুষ্ট নন। দেশব্যাপী বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে দাবি করে তারা আরও বেশি আসনের দাবি তুলেছেন। দফায় দফায় বৈঠক করেও এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমনকি জামায়াত কিছু আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও ইসলামী আন্দোলন তাতে সায় দেয়নি।

অন্যদিকে, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও তাদের সাংগঠনিক শক্তির চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত বনিবনা না হলে দল দুটি জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচনের পথে হাঁটতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

জোটের বর্তমান অস্থিরতা:

গতকাল মঙ্গলবার ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও আসন জটিলতায় তা সফল হয়নি। জানা গেছে, জামায়াত ইতিমধ্যে ছাড় হিসেবে চরমোনাই ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে প্রার্থী দেয়নি। তবে এই কৌশলকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে দল দুটি জামায়াতের সাথে দরকষাকষি বাড়িয়ে দিয়েছে।

নতুন দলের অন্তর্ভুক্তি ও সমীকরণ:

আট দলীয় ইসলামী জোট থেকে ১১ দলীয় জোটে রূপান্তরের সময় এনসিপি, এলডিপি এবং এবি পার্টি যুক্ত হওয়ার পর থেকেই অস্থিরতার শুরু। নতুন এই দলগুলো আসায় ইসলামী দলগুলোর গুরুত্ব আগের চেয়ে কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। বিশেষ করে এনসিপিকে জামায়াত ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়ায় অন্য ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও বিশৃঙ্খলা:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটবদ্ধ ঘোষণার কথা থাকলেও ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রার্থীরা প্রায় ৬০০টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জোটের পক্ষ থেকে এটিকে সময়ের অভাব বলা হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শেষ পর্যন্ত জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের এই মিত্রদের ধরে রাখতে পারে নাকি জোটটি ভেঙে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়, তা এখন দেখার বিষয়।