ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে রূপসীর ফাঁদে জিম্মি ব্যবসায়ী: টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 352

পুরোনো এক কলেজবান্ধবীর মধুর ডাক। বিশ্বাস করে ঘরে পা রাখতেই অমনি বাইরে থেকে পড়ে গেল শক্ত কড়া! আর ভেতরে? এক রূপসীর মিথ্যা কান্নার নাটক, তার পরেই ঘরে ঢুকল ১০-১২ জন সশস্ত তরুণ! ফরিদপুরের সদরপুরে রূপ আর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মিশেলে ফাঁদ পেতেছিলেন কথিত এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর তাঁর রূপসী চক্র। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না—১৮ ঘণ্টার বিভীষিকাময় জিম্মিদশা ভেঙে ধৃত দুই নারী, পুলিশের জালে উন্মোচিত হলো এক দুর্ধর্ষ হানিট্র্যাপ সিন্ডিকেট!

ফরিদপুরের সদরপুরে সুপরিকল্পিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর ফাঁদে ফেলে এক তরুণ মোবাইল ব্যবসায়ীকে ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্মম মারধর, নায়ের টাকা ও ফোন ছিনতাইয়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বন্ধুর ছদ্মবেশে ডেকে নিয়ে এই নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়।

তবে ভুক্তভোগীর বুদ্ধিমত্তা ও স্বজনদের দ্রুত পদক্ষেপে বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসার তিনতলার একটি গোপন কক্ষ থেকে জিম্মি ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের মূল দুই নারী কারিগরকে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের সুমনের স্ত্রী কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর অঞ্জনা আক্তার (২৫) এবং ঢেউখালী ইউনিয়নের বক্সডাঙ্গী গ্রামের মনির মাতুব্বরের স্ত্রী মালা আক্তার (১৯)।

কলেজবান্ধবীর ইনভাইট, তারপরই ঘরে বন্ধ দরজার ফাঁদ!

পৈশাচিক এই ঘটনার শিকার মোবাইল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খান (২৮) জানান, অভিযুক্ত অঞ্জনা আক্তার তাঁর পুরোনো কলেজ জীবনের পরিচিত বন্ধু। কদিন আগে অঞ্জনা চতুরতার সাথে মায়াবী রূপের মালা আক্তারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন। সেই সূত্রে মোবাইলে টুকটাক কথা হতো।

গত ২০ অক্টোবর রাতে বন্ধুর অঞ্জনার ফোন পেয়ে সরল বিশ্বাসে কদমতলার ওই ভবনের কক্ষে যান ইব্রাহিম। সেখানে আগেই অবস্থান করছিলেন মালা। রুমে ঢুকে বসতেই অঞ্জনা কৌশলে “বাইরে যাচ্ছি” বলে রুম থেকে বেরিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেন! এরপর ভেতরে শুরু হয় মালা আক্তারের সাজানো কান্নার নাটক।

মারধর, ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই ও আরও দেড় লাখের দাবি

কান্নার ড্রামা শেষ হতে না হতেই আড়াল থেকে অঞ্জনার স্বামী সুমনের নেতৃত্বে একদল উগ্র যুবক অস্ত্র হাতে রুমে চড়াও হয়। ইব্রাহিমকে জিম্মি করে চলে বেধড়ক কিল-ঘুষি ও রড দিয়ে পিটুনি। তাঁর পকেটে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দামি স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নেয় তারা। এখানেই শেষ নয়, আরও দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা তাঁকে না খাইয়ে ঘরে আটকে রাখা হয়।

কৌশলে স্বজনকে সংকেত ও পুলিশের ঝটিকা অভিযান

অবশেষে বুধবার সকালে অতিরিক্ত টাকার জন্য ইব্রাহিমকে তাঁর স্বজন সোহেল মোল্যার কাছে কল করতে দেয় অপহরণকারীরা। তবে ইব্রাহিমের কথা বলার অস্বাভাবিক ধরন দেখে সন্দেহ হয় সোহেলের। বিপদের গন্ধ পেয়েই তিনি কালবিলম্ব না করে সরাসরি সদরপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান।

সংবাদ পাওয়া মাত্রই সদরপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল কদমতলার ওই মাদ্রাসার তিনতলায় ঝটিকা অভিযান চালায়। পুলিশি সাইরেনের শব্দ পেয়ে সুমনের দলবল পালিয়ে গেলেও হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয় দুই নারী মাস্টারমাইন্ড অঞ্জনা ও মালা। বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় রক্তাক্ত ইব্রাহিমকে।

মামলা দায়ের ও পুলিশের বক্তব্য

এ ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খান বাদী হয়ে অঞ্জনা আক্তার, তাঁর স্বামী সুমন, মালা আক্তারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে সদরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ীকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই দুই নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আত্মগোপনে থাকা সুমনের দলবলসহ অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিমের সাঁড়াশি অভিযান চলছে।”

ফরিদপুরে রূপসীর ফাঁদে জিম্মি ব্যবসায়ী: টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ০২:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

পুরোনো এক কলেজবান্ধবীর মধুর ডাক। বিশ্বাস করে ঘরে পা রাখতেই অমনি বাইরে থেকে পড়ে গেল শক্ত কড়া! আর ভেতরে? এক রূপসীর মিথ্যা কান্নার নাটক, তার পরেই ঘরে ঢুকল ১০-১২ জন সশস্ত তরুণ! ফরিদপুরের সদরপুরে রূপ আর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মিশেলে ফাঁদ পেতেছিলেন কথিত এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর তাঁর রূপসী চক্র। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না—১৮ ঘণ্টার বিভীষিকাময় জিম্মিদশা ভেঙে ধৃত দুই নারী, পুলিশের জালে উন্মোচিত হলো এক দুর্ধর্ষ হানিট্র্যাপ সিন্ডিকেট!

ফরিদপুরের সদরপুরে সুপরিকল্পিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর ফাঁদে ফেলে এক তরুণ মোবাইল ব্যবসায়ীকে ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্মম মারধর, নায়ের টাকা ও ফোন ছিনতাইয়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বন্ধুর ছদ্মবেশে ডেকে নিয়ে এই নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়।

তবে ভুক্তভোগীর বুদ্ধিমত্তা ও স্বজনদের দ্রুত পদক্ষেপে বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসার তিনতলার একটি গোপন কক্ষ থেকে জিম্মি ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের মূল দুই নারী কারিগরকে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের সুমনের স্ত্রী কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর অঞ্জনা আক্তার (২৫) এবং ঢেউখালী ইউনিয়নের বক্সডাঙ্গী গ্রামের মনির মাতুব্বরের স্ত্রী মালা আক্তার (১৯)।

কলেজবান্ধবীর ইনভাইট, তারপরই ঘরে বন্ধ দরজার ফাঁদ!

পৈশাচিক এই ঘটনার শিকার মোবাইল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খান (২৮) জানান, অভিযুক্ত অঞ্জনা আক্তার তাঁর পুরোনো কলেজ জীবনের পরিচিত বন্ধু। কদিন আগে অঞ্জনা চতুরতার সাথে মায়াবী রূপের মালা আক্তারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন। সেই সূত্রে মোবাইলে টুকটাক কথা হতো।

গত ২০ অক্টোবর রাতে বন্ধুর অঞ্জনার ফোন পেয়ে সরল বিশ্বাসে কদমতলার ওই ভবনের কক্ষে যান ইব্রাহিম। সেখানে আগেই অবস্থান করছিলেন মালা। রুমে ঢুকে বসতেই অঞ্জনা কৌশলে “বাইরে যাচ্ছি” বলে রুম থেকে বেরিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেন! এরপর ভেতরে শুরু হয় মালা আক্তারের সাজানো কান্নার নাটক।

মারধর, ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই ও আরও দেড় লাখের দাবি

কান্নার ড্রামা শেষ হতে না হতেই আড়াল থেকে অঞ্জনার স্বামী সুমনের নেতৃত্বে একদল উগ্র যুবক অস্ত্র হাতে রুমে চড়াও হয়। ইব্রাহিমকে জিম্মি করে চলে বেধড়ক কিল-ঘুষি ও রড দিয়ে পিটুনি। তাঁর পকেটে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দামি স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নেয় তারা। এখানেই শেষ নয়, আরও দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা তাঁকে না খাইয়ে ঘরে আটকে রাখা হয়।

কৌশলে স্বজনকে সংকেত ও পুলিশের ঝটিকা অভিযান

অবশেষে বুধবার সকালে অতিরিক্ত টাকার জন্য ইব্রাহিমকে তাঁর স্বজন সোহেল মোল্যার কাছে কল করতে দেয় অপহরণকারীরা। তবে ইব্রাহিমের কথা বলার অস্বাভাবিক ধরন দেখে সন্দেহ হয় সোহেলের। বিপদের গন্ধ পেয়েই তিনি কালবিলম্ব না করে সরাসরি সদরপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান।

সংবাদ পাওয়া মাত্রই সদরপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল কদমতলার ওই মাদ্রাসার তিনতলায় ঝটিকা অভিযান চালায়। পুলিশি সাইরেনের শব্দ পেয়ে সুমনের দলবল পালিয়ে গেলেও হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয় দুই নারী মাস্টারমাইন্ড অঞ্জনা ও মালা। বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় রক্তাক্ত ইব্রাহিমকে।

মামলা দায়ের ও পুলিশের বক্তব্য

এ ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খান বাদী হয়ে অঞ্জনা আক্তার, তাঁর স্বামী সুমন, মালা আক্তারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে সদরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ীকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই দুই নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আত্মগোপনে থাকা সুমনের দলবলসহ অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিমের সাঁড়াশি অভিযান চলছে।”