জামাই ‘মাদকাসক্ত’, ফরিদপুরে মেয়েকে মুক্ত করে দুধ দিয়ে গোসল মায়ের
- আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 144
টানা ১৪টি বছর ধরে নীরবে সহ্য করা নির্যাতন, গালিগালাজ আর মাস্তানির অমানবিক অধ্যায়ের অবশেষে ঘটল পরিসমাপ্তি! মাতৃত্বের ওপর জমে থাকা দীর্ঘদিনের নরকযন্ত্রণা আর ক্ষোভের দাগ ধুয়ে ফেলতে যেন আক্ষরিক অর্থেই দুধের ধারায় ভরসা রাখলেন এক মা। নেশাগ্রস্ত ও অত্যাচারী জামাইয়ের হাত থেকে নিজের মেয়েকে মুক্ত করার পর প্রকাশ্যে জনাকীর্ণ বাজারে দুধ দিয়ে স্নান করে নিজের মানত ও ওয়াদা পূরণ করলেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইখীর চৌরাস্তা বাজারে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দুধ দিয়ে গোসল করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা এখন গোটা জেলাজুড়ে তুমুল চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
দুধ দিয়ে গোসল করা ওই অদম্য নারীর নাম জুলেখা বেগম (৪৬)। তিনি উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বড় বাইখীর গ্রামের মহাশিন মোল্লার (৭৪) স্ত্রী।
১৪ বছরের অভিশাপ ও অবশেষে মুক্তির নিশ্বাস
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে চতুল ইউনিয়নের বড় বাইখীর গ্রামের মহাশিন মোল্লা ও জুলেখা বেগম দম্পতির মেয়ে মনিরা খাতুনের (৩০) বিয়ে হয় পাশের গ্রামের সুমন শেখ (৩২) নামে এক যুবকের সঙ্গে। তবে বিয়ের সুখ বেশিদিন টেকেনি। পরিবারের অভিযোগ, সুমন বিয়ের পর থেকেই মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। নেশার টাকা ও তুচ্ছ ঘটনায় স্ত্রী মনিরার ওপর নিয়মিত শুরু হতো শারীরিক ও মানসিক বর্বর অত্যাচার।
বছরের পর বছর সহ্য করার পর অবশেষে পরিবারটি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। কয়েক দিন আগে কাজী ও কাবিন রেজিস্টারের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় সুমন শেখকে তালাক দেন মনিরা খাতুন। একমাত্র মেয়েকে নরককূপ থেকে ছাড়িয়ে আনার পর মা জুলেখা বেগম ঘোষণা করেছিলেন—অভিশপ্ত এই সম্পর্কের ইতি টানতে পারলে তিনি প্রকাশ্যে গোসল করবেন।
শুক্রবার সকালে বাইখীর চৌরাস্তা বাজারে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বালতি ভর্তি খাঁটি দুধ নিজের মাথায় ঢেলে সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেন জুলেখা বেগম। আকস্মিক এই দৃশ্যে বাজারজুড়ে উৎসুক জনতার ঢল নামে।
মা-বাবার স্বস্তি ও অভিযুক্ত স্বামীর দাবি
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে জুলেখা বেগম জানান—
“বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েটার ওপর অত্যাচার চালাত সুমন। ও নেশাগ্রস্ত হয়ে মেয়েকে প্রায়ই অমানুষিক মারধর করত। সংসার টিকাতে অনেক সহ্য করেছি। শেষ পর্যন্ত আদালতের নিয়মে তালাক দিয়ে মেয়েকে ছাড়িয়ে এনেছি। আমার মনের ভেতর একটা ওয়াদা ছিল, আজ দুধ দিয়ে গোসল করে সেই ওয়াদা পূরণ করে নিজেকে ও মেয়েকে দায়মুক্ত করলাম।”
মেয়েকে উদ্ধার করা নিয়ে মনিরার বাবা মহাশিন মোল্লা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন—
“নেশা আর মারধরে আমার মেয়ের জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছিল। বাধ্য হয়ে মেয়েকে ছাড়িয়ে এনেছি। ওর মা দুধ দিয়ে গোসল করে মনের ভেতরের জমাট বাঁধা কষ্ট হালকা করেছে।”
তবে মাদকাশক্তি ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সুমন শেখ। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।











