এনসিপি ফরিদপুর কমিটিতে ‘অসম্মান’, ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ!
- আপডেট সময় : ০৪:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 802
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় ধাক্কা খেল দলটি। কমিটি ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করলেন সিনিয়র সংগঠক ও কমিটির নবনিযুক্ত সদস্য রনি মোল্যা। কমিটিতে তাঁকে ‘যথার্থ মূল্যায়ন’ এবং ‘সম্মান’ দেওয়া হয়নি—এই অভিযোগ তুলে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
📝 পদত্যাগপত্রে যা বলা হলো
সোমবার (০৯/১২/২০২৫) রনি মোল্যা এনসিপি ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক/সদস্য সচিব বরাবর তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠান।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন:
“আমি রনি মোল্যা দীর্ঘদিন যাবত ফরিদপুর জেলা সমন্বয় কমিটিতে সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেছি। গতকাল রাতে (০৮/১২/২০২৫) তারিখ ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। উক্ত কমিটিতে আমাকে ৬ নং সদস্য পদে রাখা হয়। আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে উক্ত কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি। অতএব, অনুগ্রহ করে আমার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করবেন।”
📣 ‘আমার মতামতও নেওয়া হয়নি’—রনি মোল্যার বিস্ফোরক মন্তব্য
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রনি মোল্যা বলেন, কমিটিতে তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সম্মান জানানো হয়নি। তিনি তাঁর ক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন:
“আমি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির যুগ্ম-সদস্য সচিব পদে এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নগরকান্দা উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলাম।”
“এরপর ফরিদপুর জেলা সমন্বয় কমিটি হলে সেখানেও আমি সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করে এসেছি।”
“কিন্তু গতকাল রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার সময় আমার কোনো মতামত না নিয়েই এবং আমাকে যথার্থ মূল্যায়ন না করে উক্ত কমিটিতে সদস্য পদ দেওয়া হয়, যা আমি মনে করি আমাকে যথার্থ সম্মান দেওয়া হয়নি।”
এছাড়াও, নিজের একান্ত ব্যক্তিগত কিছু বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকার কারণেও তিনি পদত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
⚠️ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের এভাবে পদত্যাগ করায় ফরিদপুর জেলার এনসিপি’র অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের একাংশ মনে করছে, কমিটি গঠনে সিনিয়রদের মতামত অগ্রাহ্য করার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই পদত্যাগ জেলার সামগ্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।



















