ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ ওসি আটক
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 214
দরজার ওপাশে টানা দুই ঘণ্টা ধরে দরজা ধাক্কানো হলো, ফায়ার সার্ভিস আর পুলিশের মাইকিং চলল। কিন্তু ভেতরের ছিটকিনি খোলার কোনো লক্ষণই ছিল না। অবশেষে ৯৯৯-এর ফোন এবং ফায়ার সার্ভিসের কুঠারের আঘাতে দরজা ভাঙতেই বেরিয়ে এলো ভেতরের রুদ্ধশ্বাস চিত্র! ভেতরে থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে এক পুরুষ ও নারী। পুরুষটি অন্য কেউ নন—নানা কেলেঙ্কারিতে বিতর্কিত সাবেক থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে এই তোলপাড় করা নাটকের জন্ম হয়।
জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুবের ‘কথিত পালিত মেয়ের’ নামে ভাড়া নেওয়া, যেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সেখানে এক রহস্যময় নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা। সকালে তার ষষ্ঠ স্ত্রী দাবিদার আন্নি আক্তার খবর পেয়ে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নিয়ে হইচই শুরু করলে পুরো এলাকা থমথমে হয়ে ওঠে।
কাবিননামা বনাম তালাক নাটক: থানার ঘরে পৃথক বন্দি
দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ডাকাডাকির পর পুলিশ ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে জোরপূর্বক দরজা ভাঙেন। এরপর পুলিশ মাহবুব আলম ও সঙ্গে থাকা ওই নারীকে উদ্ধার করে সোজা নগরীর চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়।
আটকের পর মাহবুব দাবি করেন, ওই নারী তার বর্তমান স্ত্রী। কিন্তু পুলিশ কাবিননামা দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে তাণ্ডব চালানো নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি আক্তার দাবি করেন, তিনিই মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী।
আন্নির বিস্ফোরক অভিযোগ—
“চলতি বছরের শুরুতে আমাকে বিয়ে করেন মাহবুব। পরে জানি, তিনি যে জেলায় পোস্টিং পান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান। বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে নিয়ে তিনি ফ্ল্যাটে ঢুকেছেন জেনে আমি এসে ৯৯৯-এ ফোন করি।”
থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় মাহবুব দাবি করেন, তিনি চারদিন আগেই আন্নিকে তালাক দিয়েছেন এবং পুলিশের কাছে তালাকনামা জমা দিয়েছেন। তবে আন্নি জানান, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি এবং শুক্রবার দুপুরে তিনি মাহবুবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চন্দ্রিমা থানায় বর্তমানে সাবেক ওসি ও ওই নারীকে পৃথক দুটি কক্ষে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিভাগীয় মামলা ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ
আটক মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষের খাম নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নওগাঁয় কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং সাজা হিসেবে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।
তবে এই পুরো ঘটনার মাঝে উঠে এসেছে মারাত্মক শৃঙ্খলাভঙ্গের চিত্র। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান—
“মাহবুব আলমের কোনো ছুটি মঞ্জুর করা হয়নি। কাউকে না জানিয়ে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে, তারা দ্রুত বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।”











