ছুটির পর বাথরুমেই আটকে রাখা হলো ছাত্রীকে! হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / 233
স্কুল ছুটি হয়ে গেছে বহুল আগেই। একে একে বেরিয়ে গেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, এমনকি মূল ফটকে লেগে গেছে তালাও। আর তার ঠিক ভেতরেই—একটি অন্ধকার শৌচাগারের দরজার ওপারে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ছটফট করছিল দশম শ্রেণির এক কিশোরী। ঘটনার ঠিক ৫ ঘণ্টা পর হাত দিয়ে বন্ধ দরজায় ক্রমাগত ধাক্কার শব্দ পেয়ে তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করলেন নির্মাণশ্রমিকেরা!
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাতটার দিকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এই হিমশীতল ও রোমহর্ষক ঘটনা। বর্তমানে গুরুতর আহত ও আতঙ্কিত অবস্থায় ওই ছাত্রী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পেছন থেকে হামলা, নাকে স্প্রে ও ব্লেডের ক্ষত
হাসপাতালের বেডে শুয়েই সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানায় ভুক্তভোগী ছাত্রী। সে জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে এক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে শৌচাগারের দিকে যায় সে। শৌচাগারে ঢোকার মুহূর্তেই পেছন থেকে আচমকা হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা।
চিৎকার করার চেষ্টা করতেই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে নাকে কোনো বিষাক্ত পদার্থ স্প্রে করা হয়। মুহূর্তেই আংশিক অবচেতন হয়ে পড়ে সে। তবে আবছা চেতনার মধ্যেই সে অনুভব করে, কেউ বা কারা ব্লেড দিয়ে তার হাতে আঘাত করছে। হামলাকারীদের আচরণ ও কথাবার্তায় তাদের নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছে বলে জানায় ওই ছাত্রী।
জ্ঞান ফেরার পর সে দেখে—তার হাত, পা ও মুখ শক্ত করে বাঁধা। আশেপাশে একাধিক মানুষের ফিসফিসানি কণ্ঠস্বরও শুনতে পায় সে। এরপর হামলাকারীরা বাইরে থেকে শৌচাগারের দরজায় তালা আটকে চম্পট দেয়।
তালাবন্ধ স্কুলে ৫ ঘণ্টা, সিসিটিভি নষ্টের রহস্য
খবর পেয়ে জানা যায়, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসের কারণে বেলা তিনটা পর্যন্ত স্কুলেই ছিলেন প্রধান শিক্ষক। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওয়াশব্লকের দরজায় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। বিকেল চারটার দিকে অপর এক শিক্ষক কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে চলে যান। তবে স্কুলের ভেতরে যে এক ছাত্রী হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বন্দি, তা টের পাননি কেউ-ই।
অবশেষে নতুন ভবনের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে নির্মাণশ্রমিকেরা বন্ধ শৌচাগারের দরজায় ধাক্কাধাক্কির আওয়াজ পেয়ে তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনায় বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে। প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে ৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও রহস্যজনকভাবে বারান্দার ২টি ক্যমেরা নষ্ট ছিল! ফলে অপরাধীদের কোনো স্পষ্ট দৃশ্য ফুটেজে পাওয়া যায়নি।
বহুমুখী তদন্তে পুলিশ
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়েই পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখছে।
তিনি জানান, ভুক্তভোগীর বাবা একসময় একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন এবং আর্থিক বিষয় নিয়ে অনেকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ রয়েছে। পারিবারিক সেই শত্রুতার জেরে এই হামলা কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেয়েটির হাতের ক্ষতের ধরণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।











