ঝুলে গেল এনসিপি-এবি পার্টিসহ ৭ দলের জোট
- আপডেট সময় : ০২:৪২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
- / 409
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ ৭টি দলের সমন্বয়ে গঠিতব্য সম্ভাব্য নির্বাচনি জোটের ঘোষণা আলোচনাতেই ঝুলে গেছে। বৃহস্পতিবার এই জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করার কথা থাকলেও, দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তীব্র আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
জোটের আত্মপ্রকাশ আটকে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ‘আপ বাংলাদেশ’ (ইউনাইটেড পিপল বাংলাদেশ) নিয়ে এনসিপির তীব্র আপত্তি এবং জোট-পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে ‘আসন সমঝোতার’ ইস্যু নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে।
জোট ঘোষণা আটকে যাওয়ার কারণ
সূত্র জানায়, বুধবার মধ্য রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়। কিন্তু একাধিক বিষয়ে মীমাংসা না হওয়ায় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এনসিপির আপত্তি: ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের একাংশের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আপ বাংলাদেশ’ কে জোটে রাখার বিষয়ে তীব্র নেতিবাচক মত দেন এনসিপির বেশিরভাগ নেতা।
গণঅধিকারের দ্বিধাবিভক্তি: জোট-পরবর্তী সময়ে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিতর্ক দেখা দেয়। গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ এক নেতা বলেন, আসন সমঝোতা শুধু বিএনপির সঙ্গেই করতে হবে। কিন্তু এনসিপিসহ অন্য দলগুলোর নেতারা বলেন, প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গেও আসন সমঝোতা হতে পারে। এই মতভেদেই গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দেয় এবং রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জোট ঘোষণার আনুষ্ঠানিক তারিখ স্থগিত হলেও উদ্যোক্তারা দ্রুতই এর আত্মপ্রকাশের বিষয়ে আশাবাদী।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “আপ বাংলাদেশ নিয়ে জোট গঠনে এনসিপি আপত্তি জানিয়েছে। এছাড়া জোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে গণঅধিকার পরিষদ দুই দিন সময় নিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও জেএসডি—এই পাঁচটি দলের সমন্বয়ে রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনা চলছে, যা নির্বাচনি জোটে রূপান্তরিত হবে।
“আশা করি, কয়েকদিনের মধ্যেই জোট আত্মপ্রকাশ করবে। যে কয়টি দলের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হবে, তাদের নিয়েই জোট গঠন হবে। জোট যদি হয়, তাহলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোট না একক নির্বাচন—এই প্রশ্নে এনসিপি কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, সংস্কার, বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে থাকলে যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট হতে পারে। অন্যথায় একক নির্বাচনের পথেই হাঁটবে এনসিপি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন জোট ঘোষণার খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানান। তবে তিনি স্বীকার করেন, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট নিয়ে কার্যকর আলোচনা চলছে, যা চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।


























