ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এক নয়!’ নিজের ফাঁদেই বন্দি ভারত: শেখর গুপ্ত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 105

ভোটের ময়দানে পারদ চড়াতে এবং ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে জনমত কুড়াতে প্রতিবেশীকে শত্রু বানানো অতি পরিচিত এক খেলা। কিন্তু সেই রাজনীতিই যখন দেশের সার্বভৌম কূটনৈতিক কৌশলকে বন্দি করে ফেলে, তখন মাশুল গুণতে হয় পুরো রাষ্ট্রকে! ঠিক এই আশঙ্কার কথাই অত্যন্ত কড়া ও তীক্ষ্ণ ভাষায় দিল্লিকে মনে করিয়ে দিলেন ভারতের প্রখ্যাত প্রবীণ সাংবাদিক এবং খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এর প্রধান সম্পাদক শেখর গুপ্ত।

তাঁর স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ—বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে এক বন্ধনীতে রেখে দেখার যে একমুখী ও অতি-উগ্র প্রবণতা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে, তা দিল্লির কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য চরম আত্মঘাতী ও ক্ষতিকর হতে চলেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য প্রিন্ট’-এ প্রকাশিত তাঁর বহুল আলোচিত সাপ্তাহিক কলাম ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-এ শেখর গুপ্ত সরাসরি লিখেছেন—ভারত আজ নিজের তৈরি রাজনৈতিক ফাঁদেই আটকে পড়েছে!

ভোটের কার্ড ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ও দিল্লির কৌশলগত ফাঁদ

শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী ঢাকার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক যখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশকে ‘অন্য এক পাকিস্তান’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে।

শেখর গুপ্তের মতে, ভারতের ঘরোয়া রাজনীতি এবং ঘন ঘন নির্বাচনের আগ্রাসী প্রচারের ধরন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের কাতারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ কার্ড খেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কট্টর বাংলাদেশবিরোধী বিষোদ্গার এ প্রবণতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নয়াদিল্লির প্রভাবশালী মহলের এই ‘ছোট প্রতিবেশী’ সুলভ আধিপত্যবাদী মনস্তত্ত্ব এবং কট্টর অবস্থানই ঢাকায় তীব্র ভারতবিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে বলে তাঁর মত।

তবে শেখর গুপ্ত সতর্ক করে বলেছেন—হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারতে যে রাজনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার বশবর্তী হয়ে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা মারাত্মক ভুল হবে। নরেন্দ্র মোদি সরকারও বোঝে যে, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন ঘটানো ভারতের হাতে নেই।

দুই সীমান্তে একই সাথে শত্রু তৈরির আত্মঘাতী ঝুঁকি

ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় সীমান্তেই দুটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে এক কাতারে ফেলে ‘কৌশলগত হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার যে উন্মাদনা ভারতীয় গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে, তার পরিণতি নিয়ে ঘোর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ সম্পাদক।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—ভারতের দুই পাশের দুই বড় প্রতিবেশী যদি দিল্লির একমুখী আচরণের কারণে একজোট হয় এবং বৈরী অবস্থান নেয়, তবে তা ভারতের জন্য কতটা লাভজনক হবে? ভারতকে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে একই কৌশলগত পরিসরে বা একই রাজনৈতিক অক্ষে চলে যাওয়া ঠেকানোই উচিত। আর তার জন্য প্রথমেই ভারতকে নিজের দেশের বিষাক্ত ও মেরুকৃত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে প্রতিবেশী নীতিকে মুক্ত করতে হবে।

এমনকি বরফ গলানোর জন্য বিশাল কোনো সামরিক বা কৌশলগত চুক্তির দরকার নেই উল্লেখ করে শেখর গুপ্তের পরামর্শ—বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দল পাঠানোর মতো ছোট ও ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ দিয়েই সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক করার পথ উন্মোচিত হতে পারে।

‘বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এক নয়!’ নিজের ফাঁদেই বন্দি ভারত: শেখর গুপ্ত

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোটের ময়দানে পারদ চড়াতে এবং ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে জনমত কুড়াতে প্রতিবেশীকে শত্রু বানানো অতি পরিচিত এক খেলা। কিন্তু সেই রাজনীতিই যখন দেশের সার্বভৌম কূটনৈতিক কৌশলকে বন্দি করে ফেলে, তখন মাশুল গুণতে হয় পুরো রাষ্ট্রকে! ঠিক এই আশঙ্কার কথাই অত্যন্ত কড়া ও তীক্ষ্ণ ভাষায় দিল্লিকে মনে করিয়ে দিলেন ভারতের প্রখ্যাত প্রবীণ সাংবাদিক এবং খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এর প্রধান সম্পাদক শেখর গুপ্ত।

তাঁর স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ—বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে এক বন্ধনীতে রেখে দেখার যে একমুখী ও অতি-উগ্র প্রবণতা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে, তা দিল্লির কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য চরম আত্মঘাতী ও ক্ষতিকর হতে চলেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য প্রিন্ট’-এ প্রকাশিত তাঁর বহুল আলোচিত সাপ্তাহিক কলাম ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-এ শেখর গুপ্ত সরাসরি লিখেছেন—ভারত আজ নিজের তৈরি রাজনৈতিক ফাঁদেই আটকে পড়েছে!

ভোটের কার্ড ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ও দিল্লির কৌশলগত ফাঁদ

শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী ঢাকার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক যখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশকে ‘অন্য এক পাকিস্তান’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে।

শেখর গুপ্তের মতে, ভারতের ঘরোয়া রাজনীতি এবং ঘন ঘন নির্বাচনের আগ্রাসী প্রচারের ধরন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের কাতারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ কার্ড খেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কট্টর বাংলাদেশবিরোধী বিষোদ্গার এ প্রবণতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নয়াদিল্লির প্রভাবশালী মহলের এই ‘ছোট প্রতিবেশী’ সুলভ আধিপত্যবাদী মনস্তত্ত্ব এবং কট্টর অবস্থানই ঢাকায় তীব্র ভারতবিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে বলে তাঁর মত।

তবে শেখর গুপ্ত সতর্ক করে বলেছেন—হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারতে যে রাজনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার বশবর্তী হয়ে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা মারাত্মক ভুল হবে। নরেন্দ্র মোদি সরকারও বোঝে যে, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন ঘটানো ভারতের হাতে নেই।

দুই সীমান্তে একই সাথে শত্রু তৈরির আত্মঘাতী ঝুঁকি

ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় সীমান্তেই দুটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে এক কাতারে ফেলে ‘কৌশলগত হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার যে উন্মাদনা ভারতীয় গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে, তার পরিণতি নিয়ে ঘোর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ সম্পাদক।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—ভারতের দুই পাশের দুই বড় প্রতিবেশী যদি দিল্লির একমুখী আচরণের কারণে একজোট হয় এবং বৈরী অবস্থান নেয়, তবে তা ভারতের জন্য কতটা লাভজনক হবে? ভারতকে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে একই কৌশলগত পরিসরে বা একই রাজনৈতিক অক্ষে চলে যাওয়া ঠেকানোই উচিত। আর তার জন্য প্রথমেই ভারতকে নিজের দেশের বিষাক্ত ও মেরুকৃত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে প্রতিবেশী নীতিকে মুক্ত করতে হবে।

এমনকি বরফ গলানোর জন্য বিশাল কোনো সামরিক বা কৌশলগত চুক্তির দরকার নেই উল্লেখ করে শেখর গুপ্তের পরামর্শ—বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দল পাঠানোর মতো ছোট ও ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ দিয়েই সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক করার পথ উন্মোচিত হতে পারে।