ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে নয়, সারাদেশে ছড়ালো ষড়যন্ত্র: জিয়াউর রহমানকে টার্গেট করল কারা?

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 396

রাজধানী ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ব্যবসায়ী সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা যখন সারা দেশে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, তখন এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন, বিতর্কিত ও সুপরিকল্পিত অধ্যায়। অভিযোগ উঠেছে, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দায়ভার সুকৌশলে বিএনপি এবং বিশেষত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে আসন্ন নির্বাচন বানচালের একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন। এই ষড়যন্ত্রের ঢেউ শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না থেকে ফরিদপুরসহ সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ফরিদপুরের রাজপথে ছাত্র সমাজের ধারাবাহিক বিক্ষোভে।

সোহাগ হত্যাকাণ্ড: ষড়যন্ত্রের জাল ও জিয়াউর রহমানকে টেনে আনা

মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী সোহাগকে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যায় সারা দেশের মানুষ যখন জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছে, ঠিক তখনই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে শুরু হয়েছে এক নোংরা খেলা। কয়েকটি দল ও মহল এই ঘটনার পুরো দায়ভার বিএনপি এবং এককভাবে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এই অপপ্রচার ও বিএনপি নেতাদের চরিত্রহননের ছবি ও ভিডিওগুলো সুকৌশলে দ্রুততার সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে দুঃখজনক ও সন্দেহজনক বিষয়টি হলো, সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে মিছিল বের করে অশালীন ও কুরুচীপূর্ণ স্লোগান শুরু হয়ে যায়। এমনকি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকেও টার্গেট করা হয়। হাতে গোনা ২০-২৫ জন কিশোর-ছাত্র ও কিছু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি অবমাননা করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যও সোশ্যাল মিডিয়া ও টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হতে দেখা যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, যেসব কিশোর জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কিছুই জানে না, তাদের কারা এই হীন উদ্দেশে ব্যবহার করছে? রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনাটি বিএনপিকে দুর্বল করা এবং আসন্ন নির্বাচন বানচালের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

এই হত্যাকাণ্ডে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে, বিএনপি হাইকমান্ড তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত নেতাদেরকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামীদেরকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি, এবং নিহত সোহাগের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানার বিরুদ্ধে প্রকৃত খুনীদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত না করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে, সম্প্রতি খুলনায় বিএনপির একজন নেতাকে পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং চাঁদপুরে একটি মসজিদের ইমামকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই সকল হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি-বিরোধীরা বা ষড়যন্ত্রকারী মহলটি একেবারেই নিশ্চুপ, যা তাদের উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার প্রমাণ।

ফরিদপুরের রাজপথে ছাত্রদলের বজ্রকণ্ঠ: স্থিতিশীলতা রক্ষায় অঙ্গীকার

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল আজ সোমবার (১৪ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে এক বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিকেল ৫:৪৫ থেকে ৬:১৫ মিনিট পর্যন্ত ফরিদপুর শহরের সিভিল সার্জন অফিসের মোড় থেকে জনতা ব্যাংকের মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ
ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আরেফিন কায়েস মাহমুদ, ফজলুল হামিদ তামিম, সাধারণ সম্পাদক তামজিদুল হাসান কায়েস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিতু খান সহ জেলা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তাদের বার্তা: ‘ছাত্রদল সর্বদা মাঠে থাকবে’
বিক্ষোভ মিছিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায়। তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই অপচেষ্টা রুখে দিতে ছাত্রদল সর্বদা মাঠে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বক্তারা আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা যায়।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তীব্র প্রতিবাদ: চাঁদাবাজি-খুনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

এর আগে শনিবার (১২ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে ফরিদপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এক বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত পথসভার আয়োজন করে। রাজধানী ঢাকায় ব্যবসায়ী সোহাগের হত্যাকাণ্ড এবং সারাদেশে চলমান রাজনৈতিক আশ্রয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি, হামলা ও খুনের প্রতিবাদে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সদস্য সচিব সোহেল রানা এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জনি বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে অরাজকতা, সন্ত্রাস, হত্যা, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। তারা আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতা ‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে’ দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে এবং দেশে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচারের জন্য তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

বক্তারা বলেন, দিন দিন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। এর দায়ভার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নিতে হবে। তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে দেশের অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তারা দৃঢ়ভাবে বলেন, ৫ আগস্টের পূর্বে ছাত্র জনতা মাঠে ছিল, এখনো মাঠে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দেশের পরিস্থিতি খারাপ হলে আবারও পূর্বের মতো ছাত্র জনতা তা প্রতিহত করবে। সারাদেশে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, বা মস্তান থাকতে পারবে না; তাদের কঠোরভাবে নির্মূল করা হবে।

মূল আসামীদের গ্রেফতারে ধীরগতি ও গুরুতর অভিযোগ

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামীদেরকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিহত সোহাগের পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট থানা মামলার এজাহারে প্রকৃত খুনীদের কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেনি। এই অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং বিএনপির বিরুদ্ধে যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানো হচ্ছে তার আরেকটি প্রমাণ।

এদিকে, সম্প্রতি খুলনায় বিএনপির একজন নেতাকে পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং চাঁদপুরে একটি মসজিদের ইমামকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই সকল হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি-বিরোধীরা বা ষড়যন্ত্রকারী মহলটি একেবারেই নিশ্চুপ, যা তাদের উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার প্রমাণ।

তদন্তের দাবি ও রাজনৈতিক বিভেদ

রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দোষারোপের এই অপরাজনীতি বন্ধ না হলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা, যারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি দেখবে।

ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা যে ভাষায় বিএনপি এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অশালীনভাবে বক্তব্য রেখেছেন, তা রীতিমতো হতবাক করার মতো এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পথচলা: তারেক রহমানের উপলব্ধি ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দোষারোপের এই অপরাজনীতি বন্ধ না হলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা।

আশার বিষয় হচ্ছে, জনাব তারেক রহমান নিজেই ইতোমধ্যে এই ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরেছেন এবং গত শনিবার দেওয়া এক ভার্চুয়াল ভিডিও বক্তৃতায় তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর জন্য ড. ইউনূস সরকারের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছেন, ‘দেশের এবং বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি এবং অদৃশ্য শত্রু ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে।’

তারেক রহমানের এই উপলব্ধি জনগণের কাছে নিজ মুখে স্পষ্ট করে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমতাবস্থায় বিএনপির উচিত হবে অবিলম্বে নিজ দলকে সুসংগঠিত করে তাদের সমমনা সকল রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরকে সঙ্গে নিয়ে জোট ভারী করে দ্রুত নির্বাচন আদায়ে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়া। প্রয়োজনে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে কঠোর ও এক দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া, এবং সেটি কালবিলম্ব না করে খুবই দ্রুততার সাথে শুরু করা উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফরিদপুরে নয়, সারাদেশে ছড়ালো ষড়যন্ত্র: জিয়াউর রহমানকে টার্গেট করল কারা?

আপডেট সময় : ০১:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

রাজধানী ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ব্যবসায়ী সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা যখন সারা দেশে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, তখন এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন, বিতর্কিত ও সুপরিকল্পিত অধ্যায়। অভিযোগ উঠেছে, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দায়ভার সুকৌশলে বিএনপি এবং বিশেষত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে আসন্ন নির্বাচন বানচালের একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন। এই ষড়যন্ত্রের ঢেউ শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না থেকে ফরিদপুরসহ সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ফরিদপুরের রাজপথে ছাত্র সমাজের ধারাবাহিক বিক্ষোভে।

সোহাগ হত্যাকাণ্ড: ষড়যন্ত্রের জাল ও জিয়াউর রহমানকে টেনে আনা

মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী সোহাগকে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যায় সারা দেশের মানুষ যখন জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছে, ঠিক তখনই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে শুরু হয়েছে এক নোংরা খেলা। কয়েকটি দল ও মহল এই ঘটনার পুরো দায়ভার বিএনপি এবং এককভাবে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এই অপপ্রচার ও বিএনপি নেতাদের চরিত্রহননের ছবি ও ভিডিওগুলো সুকৌশলে দ্রুততার সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে দুঃখজনক ও সন্দেহজনক বিষয়টি হলো, সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে মিছিল বের করে অশালীন ও কুরুচীপূর্ণ স্লোগান শুরু হয়ে যায়। এমনকি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকেও টার্গেট করা হয়। হাতে গোনা ২০-২৫ জন কিশোর-ছাত্র ও কিছু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি অবমাননা করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যও সোশ্যাল মিডিয়া ও টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হতে দেখা যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, যেসব কিশোর জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কিছুই জানে না, তাদের কারা এই হীন উদ্দেশে ব্যবহার করছে? রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনাটি বিএনপিকে দুর্বল করা এবং আসন্ন নির্বাচন বানচালের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

এই হত্যাকাণ্ডে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে, বিএনপি হাইকমান্ড তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত নেতাদেরকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামীদেরকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি, এবং নিহত সোহাগের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানার বিরুদ্ধে প্রকৃত খুনীদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত না করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে, সম্প্রতি খুলনায় বিএনপির একজন নেতাকে পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং চাঁদপুরে একটি মসজিদের ইমামকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই সকল হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি-বিরোধীরা বা ষড়যন্ত্রকারী মহলটি একেবারেই নিশ্চুপ, যা তাদের উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার প্রমাণ।

ফরিদপুরের রাজপথে ছাত্রদলের বজ্রকণ্ঠ: স্থিতিশীলতা রক্ষায় অঙ্গীকার

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল আজ সোমবার (১৪ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে এক বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিকেল ৫:৪৫ থেকে ৬:১৫ মিনিট পর্যন্ত ফরিদপুর শহরের সিভিল সার্জন অফিসের মোড় থেকে জনতা ব্যাংকের মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ
ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আরেফিন কায়েস মাহমুদ, ফজলুল হামিদ তামিম, সাধারণ সম্পাদক তামজিদুল হাসান কায়েস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিতু খান সহ জেলা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তাদের বার্তা: ‘ছাত্রদল সর্বদা মাঠে থাকবে’
বিক্ষোভ মিছিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায়। তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই অপচেষ্টা রুখে দিতে ছাত্রদল সর্বদা মাঠে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বক্তারা আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা যায়।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তীব্র প্রতিবাদ: চাঁদাবাজি-খুনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

এর আগে শনিবার (১২ জুলাই, ২০২৫) বিকেলে ফরিদপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এক বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত পথসভার আয়োজন করে। রাজধানী ঢাকায় ব্যবসায়ী সোহাগের হত্যাকাণ্ড এবং সারাদেশে চলমান রাজনৈতিক আশ্রয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি, হামলা ও খুনের প্রতিবাদে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সদস্য সচিব সোহেল রানা এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জনি বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে অরাজকতা, সন্ত্রাস, হত্যা, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। তারা আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতা ‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে’ দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে এবং দেশে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচারের জন্য তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

বক্তারা বলেন, দিন দিন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। এর দায়ভার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নিতে হবে। তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে দেশের অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তারা দৃঢ়ভাবে বলেন, ৫ আগস্টের পূর্বে ছাত্র জনতা মাঠে ছিল, এখনো মাঠে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দেশের পরিস্থিতি খারাপ হলে আবারও পূর্বের মতো ছাত্র জনতা তা প্রতিহত করবে। সারাদেশে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, বা মস্তান থাকতে পারবে না; তাদের কঠোরভাবে নির্মূল করা হবে।

মূল আসামীদের গ্রেফতারে ধীরগতি ও গুরুতর অভিযোগ

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামীদেরকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিহত সোহাগের পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট থানা মামলার এজাহারে প্রকৃত খুনীদের কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেনি। এই অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং বিএনপির বিরুদ্ধে যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানো হচ্ছে তার আরেকটি প্রমাণ।

এদিকে, সম্প্রতি খুলনায় বিএনপির একজন নেতাকে পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং চাঁদপুরে একটি মসজিদের ইমামকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই সকল হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি-বিরোধীরা বা ষড়যন্ত্রকারী মহলটি একেবারেই নিশ্চুপ, যা তাদের উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার প্রমাণ।

তদন্তের দাবি ও রাজনৈতিক বিভেদ

রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দোষারোপের এই অপরাজনীতি বন্ধ না হলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা, যারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি দেখবে।

ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা যে ভাষায় বিএনপি এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অশালীনভাবে বক্তব্য রেখেছেন, তা রীতিমতো হতবাক করার মতো এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পথচলা: তারেক রহমানের উপলব্ধি ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দোষারোপের এই অপরাজনীতি বন্ধ না হলে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা।

আশার বিষয় হচ্ছে, জনাব তারেক রহমান নিজেই ইতোমধ্যে এই ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরেছেন এবং গত শনিবার দেওয়া এক ভার্চুয়াল ভিডিও বক্তৃতায় তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর জন্য ড. ইউনূস সরকারের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছেন, ‘দেশের এবং বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি এবং অদৃশ্য শত্রু ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে।’

তারেক রহমানের এই উপলব্ধি জনগণের কাছে নিজ মুখে স্পষ্ট করে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমতাবস্থায় বিএনপির উচিত হবে অবিলম্বে নিজ দলকে সুসংগঠিত করে তাদের সমমনা সকল রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরকে সঙ্গে নিয়ে জোট ভারী করে দ্রুত নির্বাচন আদায়ে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়া। প্রয়োজনে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে কঠোর ও এক দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া, এবং সেটি কালবিলম্ব না করে খুবই দ্রুততার সাথে শুরু করা উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।