এসপি হতে ৫০ লাখ টাকা ঘুস, শাস্তি হিসেবে পেলেন ‘তিরস্কার’!
- আপডেট সময় : ০৬:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 357
বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার এবং নরসিংদীর সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকার তাঁকে ‘তিরস্কার’ দণ্ড দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ শাস্তির কথা জানানো হয়। সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শাস্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহার
বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মো. আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ওঠা চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে:
পদায়ন ঘিরে ঘুষ: তদন্তে জানা যায়, ২০২৩ সালে নরসিংদীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের উদ্দেশ্যে তিনি কথিতভাবে রবিউল মুন্সী নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ লাখ টাকা ঘুস দিয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেই পদায়ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ঘুষ আদায়: গত বছরের ৯ নভেম্বর তিনি নরসিংদীতে এসপি হিসেবে যোগদানের পর তাঁর অধীনস্থ ডিবি ইনচার্জ এস এম কামরুজ্জামানকে নিয়ে অনুমতি ছাড়াই ঢাকায় যান। সেখানে মনিপুরীপাড়া এলাকায় রবিউল মুন্সীর অফিস থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করেন।
লিখিত দলিল: অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁদের উপস্থিতিতেই একটি স্বহস্তে লিখিত দলিল গ্রহণ করা হয়।
ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও স্বীকারোক্তি
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যকলাপ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে:
স্বীকারোক্তিমূলক আলোচনা: পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান সাংবাদিক নেছারুল হক খোকনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় বদলি সংক্রান্ত ঘুষের বিষয় এবং ব্যক্তিগত কাজে অধস্তন পুলিশ সদস্য ব্যবহারের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক আলোচনা করেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশ: পরবর্তীকালে এই কথোপকথনটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাস্তি ও আইনি প্রক্রিয়া
অভিযোগ ওঠার পর এসপি আব্দুল হান্নানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
শুনানি: তিনি লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানান। গত ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: তদন্ত কর্মকর্তা ও শুনানি কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাঁকে ‘তিরস্কার’ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।















