ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ দিন সরকারহীন বাংলাদেশ! নৈরাজ্য, জেল ভাঙা পেরিয়ে ইউনূসের সূর্যোদয়

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 102

ইতিহাসের পাতায় এমন ৭২ ঘণ্টা বড় একটা দেখা যায় না। একদিকে সাড়ে ১৫ বছরের পরাক্রমশালী শেখ হাসিনা সরকারের নাটকীয় পতন ও দেশত্যাগ, অন্যদিকে বঙ্গভবনে পর্দার আড়ালে নতুন ক্ষমতার অলিন্দ পুনর্গঠনের টানটান মহড়া—আর এই দুয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক অভিভাবকহীন, দিশেহারা বাংলাদেশ। ৫ আগস্ট বিকেল থেকে ৮ আগস্ট রাত পর্যন্ত টানা তিন দিন কার্যত কোনো সরকার ছিল না এ দেশে। আইনশৃঙ্খলার চরম ধস, থানা পুড়িয়ে দেওয়া, কারারক্ষীদের জিম্মি করে বন্দিদের গণপলায়ন আর সাধারণ মানুষের রাত জেগে এলাকা পাহারা দেওয়ার সেই নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর তিন দিনের আদ্যোপান্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

ডেটলাইন ৫ আগস্ট: পতন, বঙ্গভবনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও রাজপথে জনসমুদ্র

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মুখে ৫ আগস্ট বিকেলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমাতেই রাজনীতির সমীকরণ মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। হাজার হাজার মানুষ ঢুকে পড়ে গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনে। জায়গায় জায়গায় শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও তাণ্ডব। পুলিশ সদর দপ্তরসহ দেশজুড়ে বহু থানায় হামলায় ঝরে যায় বহু প্রাণ। ১৭ দিনের কারফিউ এক লহমায় ফিকে হয়ে যায়।

ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যপটে নামেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে বসে এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। তিন বাহিনী প্রধান, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। বৈঠক থেকে আসে সংসদ বিলুপ্তি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

ঠিক একই সময়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ঘোষণা দেন—২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের প্রস্তাবিত সরকার না হলে অন্য কোনো সরকার তাঁরা মেনে নেবেন না।

ডেটলাইন ৬ আগস্ট: ‘পুলিশহীন’ শহর, শিক্ষার্থীদের হাতে ট্রাফিক ও ড. ইউনূসের নাম ঘোষণা

৬ আগস্ট বঙ্গভবনে ছাত্র প্রতিনিধি ও তিন বাহিনী প্রধানদের বৈঠকের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি। শর্তহীনভাবে পূর্ণ মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক বন্দিসহ ২২০০-এর বেশি মানুষ জামিনে মুক্ত হন। বিমানবন্দর থেকে আটক হন শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

কিন্তু ওদিকে রাজপথের ছবিটা ছিল শিউরে ওঠার মতো। ঢাকার ডিবি কার্যালয়, থানা ও সড়কে কোনো পুলিশ সদস্য ছিল না। জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতি ঘোষণা করে। অভিভাবকহীন রাজধানীর ট্রাফিক সামলানোর দায়িত্বে রাতারাতি নেমে পড়ে স্কুল-কলেজের খুদে শিক্ষার্থীরা।

আইনশৃঙ্খলার চরম শূন্যতায় দেশজুড়ে ছড়ায় ডাকাতি আতঙ্ক। সাধারণ মানুষ লাঠি-সোটা হাতে রাত জেগে মহল্লা পাহারা দিতে শুরু করেন। গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের গেট ভেঙে ও কারারক্ষীদের জিম্মি করে পালিয়ে যায় ২০৯ জন ভয়ংকর বন্দি। তবে দীর্ঘদিনের গুমঘর বা ‘আয়নাঘর’ থেকেও আলোর মুখ দেখতে পান বহু বছর ধরে নিখোঁজ থাকা বন্দিরা। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশপ্রধান পদ থেকে সরিয়ে মো. ময়নুল ইসলামকে নতুন আইজিপি করা হয় এবং সেনাবাহিনীতে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানসহ শীর্ষ পদে বড় ধরনের রদবদল ঘটে।

ডেটলাইন ৭ আগস্ট: সাজা বাতিল, কারাগার ভাঙন ও ফ্রান্স থেকে ইউনূসের বার্তা

প্যারিসে অবস্থানরত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকমের মামলায় দেওয়া ৬ মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। ঢাকা আসার প্রস্তুতি নেন তিনি। এদিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের গেট ভেঙেও পালিয়ে যায় ৯৯ জন বন্দি।

অস্থিরতার মাঝেই নয়াপল্টনে বিশাল সমাবেশ করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি, যেখানে দীর্ঘ বছর পর ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। পুলিশের ভূমিকায় অনুশোচনা প্রকাশ করে নবনিযুক্ত আইজিপি সব অন্যায়ের সুষ্ঠু তদন্তের অঙ্গীকার করেন। আর ঢাকার রাস্তায় যানবাহন সামলাতে তখনও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের কড়া ট্রাফিক পুলিশিং।

ডেটলাইন ৮ আগস্ট: শূন্যতা পেরিয়ে ঐতিহাসিক সূর্যোদয় ও শপথ গ্রহণ

৮ আগস্ট দুপুরে প্যারিস থেকে দেশে ফেরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমানবন্দরে তাঁকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানান তিন বাহিনী প্রধান ও সমন্বয়করা। আবেগঘন কণ্ঠে ড. ইউনূস স্পষ্ট জানান—”আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রথম কাজ। দেশের প্রতিটি মানুষ আমাদের ভাই, প্রতিটি মানুষ আমাদের বোন। তাঁদের রক্ষা করাই মূল দায়িত্ব।”

এর আগেই সেনাসদরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের সব থানা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিয়োগ দেওয়া হয় নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে।

অবশেষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ক্ষণ। রাত ৯টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সঙ্গে শপথ নেন ১৩ জন উপদেষ্টা, যার মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবার জায়গা করে নেন দুই ছাত্র সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এক অভূতপূর্ব ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের ইতি টেনে সূচনা হয় এক নতুন বাংলাদেশের।

৩ দিন সরকারহীন বাংলাদেশ! নৈরাজ্য, জেল ভাঙা পেরিয়ে ইউনূসের সূর্যোদয়

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় এমন ৭২ ঘণ্টা বড় একটা দেখা যায় না। একদিকে সাড়ে ১৫ বছরের পরাক্রমশালী শেখ হাসিনা সরকারের নাটকীয় পতন ও দেশত্যাগ, অন্যদিকে বঙ্গভবনে পর্দার আড়ালে নতুন ক্ষমতার অলিন্দ পুনর্গঠনের টানটান মহড়া—আর এই দুয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক অভিভাবকহীন, দিশেহারা বাংলাদেশ। ৫ আগস্ট বিকেল থেকে ৮ আগস্ট রাত পর্যন্ত টানা তিন দিন কার্যত কোনো সরকার ছিল না এ দেশে। আইনশৃঙ্খলার চরম ধস, থানা পুড়িয়ে দেওয়া, কারারক্ষীদের জিম্মি করে বন্দিদের গণপলায়ন আর সাধারণ মানুষের রাত জেগে এলাকা পাহারা দেওয়ার সেই নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর তিন দিনের আদ্যোপান্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

ডেটলাইন ৫ আগস্ট: পতন, বঙ্গভবনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও রাজপথে জনসমুদ্র

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মুখে ৫ আগস্ট বিকেলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমাতেই রাজনীতির সমীকরণ মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। হাজার হাজার মানুষ ঢুকে পড়ে গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনে। জায়গায় জায়গায় শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও তাণ্ডব। পুলিশ সদর দপ্তরসহ দেশজুড়ে বহু থানায় হামলায় ঝরে যায় বহু প্রাণ। ১৭ দিনের কারফিউ এক লহমায় ফিকে হয়ে যায়।

ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যপটে নামেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে বসে এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। তিন বাহিনী প্রধান, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। বৈঠক থেকে আসে সংসদ বিলুপ্তি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

ঠিক একই সময়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ঘোষণা দেন—২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের প্রস্তাবিত সরকার না হলে অন্য কোনো সরকার তাঁরা মেনে নেবেন না।

ডেটলাইন ৬ আগস্ট: ‘পুলিশহীন’ শহর, শিক্ষার্থীদের হাতে ট্রাফিক ও ড. ইউনূসের নাম ঘোষণা

৬ আগস্ট বঙ্গভবনে ছাত্র প্রতিনিধি ও তিন বাহিনী প্রধানদের বৈঠকের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি। শর্তহীনভাবে পূর্ণ মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক বন্দিসহ ২২০০-এর বেশি মানুষ জামিনে মুক্ত হন। বিমানবন্দর থেকে আটক হন শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

কিন্তু ওদিকে রাজপথের ছবিটা ছিল শিউরে ওঠার মতো। ঢাকার ডিবি কার্যালয়, থানা ও সড়কে কোনো পুলিশ সদস্য ছিল না। জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতি ঘোষণা করে। অভিভাবকহীন রাজধানীর ট্রাফিক সামলানোর দায়িত্বে রাতারাতি নেমে পড়ে স্কুল-কলেজের খুদে শিক্ষার্থীরা।

আইনশৃঙ্খলার চরম শূন্যতায় দেশজুড়ে ছড়ায় ডাকাতি আতঙ্ক। সাধারণ মানুষ লাঠি-সোটা হাতে রাত জেগে মহল্লা পাহারা দিতে শুরু করেন। গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের গেট ভেঙে ও কারারক্ষীদের জিম্মি করে পালিয়ে যায় ২০৯ জন ভয়ংকর বন্দি। তবে দীর্ঘদিনের গুমঘর বা ‘আয়নাঘর’ থেকেও আলোর মুখ দেখতে পান বহু বছর ধরে নিখোঁজ থাকা বন্দিরা। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশপ্রধান পদ থেকে সরিয়ে মো. ময়নুল ইসলামকে নতুন আইজিপি করা হয় এবং সেনাবাহিনীতে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানসহ শীর্ষ পদে বড় ধরনের রদবদল ঘটে।

ডেটলাইন ৭ আগস্ট: সাজা বাতিল, কারাগার ভাঙন ও ফ্রান্স থেকে ইউনূসের বার্তা

প্যারিসে অবস্থানরত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকমের মামলায় দেওয়া ৬ মাসের কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। ঢাকা আসার প্রস্তুতি নেন তিনি। এদিকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের গেট ভেঙেও পালিয়ে যায় ৯৯ জন বন্দি।

অস্থিরতার মাঝেই নয়াপল্টনে বিশাল সমাবেশ করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি, যেখানে দীর্ঘ বছর পর ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। পুলিশের ভূমিকায় অনুশোচনা প্রকাশ করে নবনিযুক্ত আইজিপি সব অন্যায়ের সুষ্ঠু তদন্তের অঙ্গীকার করেন। আর ঢাকার রাস্তায় যানবাহন সামলাতে তখনও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের কড়া ট্রাফিক পুলিশিং।

ডেটলাইন ৮ আগস্ট: শূন্যতা পেরিয়ে ঐতিহাসিক সূর্যোদয় ও শপথ গ্রহণ

৮ আগস্ট দুপুরে প্যারিস থেকে দেশে ফেরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমানবন্দরে তাঁকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানান তিন বাহিনী প্রধান ও সমন্বয়করা। আবেগঘন কণ্ঠে ড. ইউনূস স্পষ্ট জানান—”আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রথম কাজ। দেশের প্রতিটি মানুষ আমাদের ভাই, প্রতিটি মানুষ আমাদের বোন। তাঁদের রক্ষা করাই মূল দায়িত্ব।”

এর আগেই সেনাসদরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের সব থানা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিয়োগ দেওয়া হয় নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে।

অবশেষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ক্ষণ। রাত ৯টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সঙ্গে শপথ নেন ১৩ জন উপদেষ্টা, যার মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবার জায়গা করে নেন দুই ছাত্র সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এক অভূতপূর্ব ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের ইতি টেনে সূচনা হয় এক নতুন বাংলাদেশের।