ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তোলপাড় ফরিদপুর: ককটেল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তদন্তে র‌্যাব

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 924

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে দুটি ককটেল জাতীয় বস্তু উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির মালিক মিজান মোল্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দু’জনের বিরুদ্ধে ককটেল রাখার অভিযোগ তুললে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।

ককটেল উদ্ধার ও মিজান মোল্যার ফেসবুক লাইভ

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে কানাইপুরের ওদুদ মোল্লার ছেলে মিজান মোল্যার বাড়িতে দুটি ককটেল জাতীয় বস্তু দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্পের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিস্ফোরিত ককটেল দুটি উদ্ধার করে।

র‌্যাবের অভিযানের সময় মিজান মোল্যা একটি ফেসবুক লাইভে কানাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবীর মাতুব্বর এবং আবজাল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ককটেলগুলো রাখার সন্দেহের কথা বলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হন।

অভিযুক্তদের প্রতিবাদ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একটি সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা মিজান মোল্যার ফেসবুক লাইভের তীব্র নিন্দা জানান। তাদের দাবি, একটি মামলার মিথ্যা সাক্ষী দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার মিজান মোল্যা কাঁচামাল ব্যবসায়ী আমিন মোল্যাকে মারধর করেন। এই ঘটনার জের ধরে শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং এর প্রতিশোধ নিতে মিজান মোল্যা পরিকল্পিতভাবে কবীর ও আবজালকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

বক্তারা আরও দাবি করেন, মিজান মোল্লার পরিবার আওয়ামী ঘরানার হওয়ায় তিনি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা ঘটনার প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মিজান মোল্যার বক্তব্য ও ইউপি চেয়ারম্যানের মন্তব্য

এ বিষয়ে মিজান মোল্যা জানান, একটি মামলার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমিন মোল্যার জামাতা আবজাল মাতুব্বর ও কবীর মাতুব্বরসহ কয়েকজন তাকে হামলা করার চেষ্টা করেন। এমনকি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির সামনে মহড়াও দেন। এই ঘটনার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন, তাই নাশকতার উদ্দেশ্যে তারাই ককটেল দুটি রাখতে পারেন বলে তার সন্দেহ।

কানাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ককটেলগুলো কে রেখেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মিজান মোল্যা কিছুদিন আগে আমিন মোল্যাকে মারধর করেছিলেন, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয় এবং প্রশাসনের নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে বলে তিনি আশা করেন।

র‌্যাবের পদক্ষেপ

র‌্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার তারিকুল ইসলাম জানান, ককটেলগুলো উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও কাউকে আটক করা যায়নি, তবে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের নজরে রয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আটক করা হবে।

তোলপাড় ফরিদপুর: ককটেল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তদন্তে র‌্যাব

আপডেট সময় : ১১:১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে দুটি ককটেল জাতীয় বস্তু উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির মালিক মিজান মোল্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দু’জনের বিরুদ্ধে ককটেল রাখার অভিযোগ তুললে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।

ককটেল উদ্ধার ও মিজান মোল্যার ফেসবুক লাইভ

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে কানাইপুরের ওদুদ মোল্লার ছেলে মিজান মোল্যার বাড়িতে দুটি ককটেল জাতীয় বস্তু দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্পের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিস্ফোরিত ককটেল দুটি উদ্ধার করে।

র‌্যাবের অভিযানের সময় মিজান মোল্যা একটি ফেসবুক লাইভে কানাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবীর মাতুব্বর এবং আবজাল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ককটেলগুলো রাখার সন্দেহের কথা বলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হন।

অভিযুক্তদের প্রতিবাদ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একটি সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা মিজান মোল্যার ফেসবুক লাইভের তীব্র নিন্দা জানান। তাদের দাবি, একটি মামলার মিথ্যা সাক্ষী দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার মিজান মোল্যা কাঁচামাল ব্যবসায়ী আমিন মোল্যাকে মারধর করেন। এই ঘটনার জের ধরে শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং এর প্রতিশোধ নিতে মিজান মোল্যা পরিকল্পিতভাবে কবীর ও আবজালকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

বক্তারা আরও দাবি করেন, মিজান মোল্লার পরিবার আওয়ামী ঘরানার হওয়ায় তিনি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা ঘটনার প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মিজান মোল্যার বক্তব্য ও ইউপি চেয়ারম্যানের মন্তব্য

এ বিষয়ে মিজান মোল্যা জানান, একটি মামলার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমিন মোল্যার জামাতা আবজাল মাতুব্বর ও কবীর মাতুব্বরসহ কয়েকজন তাকে হামলা করার চেষ্টা করেন। এমনকি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির সামনে মহড়াও দেন। এই ঘটনার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন, তাই নাশকতার উদ্দেশ্যে তারাই ককটেল দুটি রাখতে পারেন বলে তার সন্দেহ।

কানাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ককটেলগুলো কে রেখেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মিজান মোল্যা কিছুদিন আগে আমিন মোল্যাকে মারধর করেছিলেন, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয় এবং প্রশাসনের নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে বলে তিনি আশা করেন।

র‌্যাবের পদক্ষেপ

র‌্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার তারিকুল ইসলাম জানান, ককটেলগুলো উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও কাউকে আটক করা যায়নি, তবে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের নজরে রয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আটক করা হবে।