ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 104

ধর্মীয় স্থান থেকে উচ্চমাত্রার মাইক অপসারণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও আইনি অঙ্গনে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কলকাতা শহর ও রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে গড়িয়েছে রাজ্যটির সর্বোচ্চ আদালত—কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত।

Government of West Bengal

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আইনি বাদানুবাদ: হাইকোর্টের এজলাসে কী ঘটল?

শুনানিকালে মামলাকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, কোনো ধরনের পূর্বলিখিত নোটিশ ছাড়াই কেবল পুলিশের মৌখিক নির্দেশে রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদ থেকে মাইক বা লাউডস্পিকার খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০০১ সালের হাইকোর্টের পুরোনো এক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আদালতের কাছে আবেদন জানান, শব্দবিধি মেনে যেন পুনরায় মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

Supreme Today AI

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) শুনানিতে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি আদালতকে জানান:

The Economic Times+ 1

পুলিশ মাইক খোলার কোনো ঢালাও সরকারি লিখিত আদেশ জারি করেনি।

৪ হাজার মসজিদের মাইক খোলার দাবির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো প্রশাসনিক তথ্য প্রমাণ পেশ করা হয়নি।

কোনো নির্দিষ্ট ইমাম বা মসজিদ কমিটি সরাসরি এসে অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি।

Government of West Bengal

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলা স্থগিত বা কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ না দিয়ে রাজ্যকে নিজেদের লিখিত অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানতে চান—ঠিক কোন কোন এলাকার ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক সরানো হয়েছে এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন (Noise Pollution Rules) সেখানে অনুসৃত হচ্ছে কি না। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।

The Times of India+ 1
প্রশাসনের দাবি ও পরিসংখ্যানের হিসাব

আদালতের বাইরে এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে এই পদক্ষেপের বিষয়ে সরকারি তরফে জানানো হয়েছে যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে করা আন্দোলন বা সিদ্ধান্ত নয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের শব্দবিধি (৫০ থেকে ৭৫ ডেসিবেল সীমা) ও অতীতের আদালত নির্দেশিকাকে সামনে রেখে পুলিশ যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে।

The Times of India+ 1

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কোনো নতুন আইন করা হয়নি, বরং পরিবেশ ও পরিবেশ আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতেই ৪,২০০-র বেশি মসজিদ এবং ১,০৯৬টি মন্দিরের লাউডস্পিকার ও সাউন্ড সিস্টেম খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা বা অপসারণ করা হয়েছে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

আইনি লড়াইয়ের বাইরে সামাজিক পর্যায়ে এ নিয়ে মিশ্র ও আবেগঘনিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক প্রাক্কালে কলকাতার একাধিক স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো ইমাম ও ধর্মীয় প্রতিনিধি জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি জাতীয় ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রতি জোর দিয়েছেন।

Government of West Bengal

তবে একই সঙ্গে নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট অভিযোগ বা সীমা লঙ্ঘনের বাইরে ঢালাওভাবে মাইক খুলে নেওয়ার পদক্ষেপ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি করে।

কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

আপডেট সময় : ১০:২৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ধর্মীয় স্থান থেকে উচ্চমাত্রার মাইক অপসারণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও আইনি অঙ্গনে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কলকাতা শহর ও রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে গড়িয়েছে রাজ্যটির সর্বোচ্চ আদালত—কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত।

Government of West Bengal

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আইনি বাদানুবাদ: হাইকোর্টের এজলাসে কী ঘটল?

শুনানিকালে মামলাকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, কোনো ধরনের পূর্বলিখিত নোটিশ ছাড়াই কেবল পুলিশের মৌখিক নির্দেশে রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদ থেকে মাইক বা লাউডস্পিকার খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০০১ সালের হাইকোর্টের পুরোনো এক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আদালতের কাছে আবেদন জানান, শব্দবিধি মেনে যেন পুনরায় মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

Supreme Today AI

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) শুনানিতে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি আদালতকে জানান:

The Economic Times+ 1

পুলিশ মাইক খোলার কোনো ঢালাও সরকারি লিখিত আদেশ জারি করেনি।

৪ হাজার মসজিদের মাইক খোলার দাবির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো প্রশাসনিক তথ্য প্রমাণ পেশ করা হয়নি।

কোনো নির্দিষ্ট ইমাম বা মসজিদ কমিটি সরাসরি এসে অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি।

Government of West Bengal

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলা স্থগিত বা কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ না দিয়ে রাজ্যকে নিজেদের লিখিত অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানতে চান—ঠিক কোন কোন এলাকার ধর্মীয় স্থান থেকে মাইক সরানো হয়েছে এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন (Noise Pollution Rules) সেখানে অনুসৃত হচ্ছে কি না। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।

The Times of India+ 1
প্রশাসনের দাবি ও পরিসংখ্যানের হিসাব

আদালতের বাইরে এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে এই পদক্ষেপের বিষয়ে সরকারি তরফে জানানো হয়েছে যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে করা আন্দোলন বা সিদ্ধান্ত নয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের শব্দবিধি (৫০ থেকে ৭৫ ডেসিবেল সীমা) ও অতীতের আদালত নির্দেশিকাকে সামনে রেখে পুলিশ যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে।

The Times of India+ 1

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কোনো নতুন আইন করা হয়নি, বরং পরিবেশ ও পরিবেশ আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতেই ৪,২০০-র বেশি মসজিদ এবং ১,০৯৬টি মন্দিরের লাউডস্পিকার ও সাউন্ড সিস্টেম খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা বা অপসারণ করা হয়েছে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

আইনি লড়াইয়ের বাইরে সামাজিক পর্যায়ে এ নিয়ে মিশ্র ও আবেগঘনিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক প্রাক্কালে কলকাতার একাধিক স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো ইমাম ও ধর্মীয় প্রতিনিধি জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি জাতীয় ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রতি জোর দিয়েছেন।

Government of West Bengal

তবে একই সঙ্গে নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট অভিযোগ বা সীমা লঙ্ঘনের বাইরে ঢালাওভাবে মাইক খুলে নেওয়ার পদক্ষেপ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি করে।