ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউর রহমান নন, বঙ্গবন্ধু ঘোষক: বিতর্কিত রায়ের নেপথ্যে কে?

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
  • / 422

দেশের বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর এবং পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ফ্যাসিস্ট শাসক’ হয়ে ওঠার পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। বিচারঙ্গনে বিতর্কিত এই বিচারপতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলার পর তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তার দেওয়া কয়েকটি রায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সুবিধাজনক হওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৩ আগস্ট খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর পরপরই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

বিতর্কিত রায় ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু

খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো, রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে তিনি রায় দিয়েছিলেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন। এই রায় রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন বিভেদ সৃষ্টি করেছিল, তেমনি তার প্রতি সরকারের ‘বিশেষ সুদৃষ্টি’ নিয়েও মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে। সেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন তিনি অবসর গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করেন। অভিযোগ ওঠে, দেশের বিচার বিভাগের উচ্চাসনে বসে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করাই ছিল তার মূল কাজ।

গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত রায়সমূহ:

জিয়া নন, বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক: ২০০৯ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় দেন যে, জিয়াউর রহমান নন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক। এই রায়ে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ড, যেখানে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। খায়রুল হক নির্দেশ দেন যে, এই খণ্ডটি দেশ-বিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহার করতে হবে। রায়ে আরও বলা হয়, যারা এরকম ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত, তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল: তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়েও খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এবং সৈয়দ মাহমুদ হোসেন যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, আপিল বিভাগে সাত বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রকাশ্যে দেওয়া রায়ের মূল অংশে উল্লেখ ছিল যে, পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। কিন্তু সেই অংশকে চূড়ান্ত রায়ে ‘গায়েব’ করে দেন খায়রুল হক, যার সঙ্গে মোজাম্মেল হোসেন, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সৈয়দ মাহমুদ হোসেন একমত হন।
আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া: প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার দেওয়া বিতর্কিত রায়ের মধ্যে একটি হলো হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া। খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন ও সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মিলে একটি আগাম জামিনের আপিলের রায়ের মাধ্যমে এই এখতিয়ার কেড়ে নেন, যার ফলে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
আইনজীবীদের মামলা ও আন্দোলনের মুখে খায়রুল হক

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই খায়রুল হককে নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন এবং জালিয়াতির অভিযোগ এনে মামলা করেন। ২৮ আগস্ট দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন আরেক আইনজীবী। এর আগে ২৫ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা হয়। তাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সুপ্রিমকোর্টে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক সভায় বলেন, “বিচারাঙ্গনে কোনো মাফিয়া থাকবে না, কোনো চক্রের সিন্ডিকেট থাকবে না। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক এবং সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে ভোটের অধিকার হরণ নিশ্চিত করেছিলেন।” সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল অবেদীন যুগান্তরকে বলেন, “বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসকারী ছিলেন বিচারপতি খায়রুল হক। তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা দরকার।”

ক্ষমতার অপব্যবহার ও আত্মগোপন

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান থাকাকালে এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ২০১৩ সালে তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন কমিশনের গাড়িচালক এসএম সামসুল আলমকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠান। সামসুল আলম সম্প্রতি চাকরি ফেরত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছেন।

২০১১ সালে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরের পরপরই শেখ হাসিনা তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়ে ‘পুরস্কৃত’ করেছিলেন। তবে, গত ১৩ আগস্ট পদত্যাগ করে আড়ালে চলে যান খায়রুল হক। সূত্র বলছে, খায়রুল হক প্রথমে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন, যেখানে তিনি তার মেয়ের বাসায় ওঠেন। বর্তমানে তিনি ওই বাসায় নেই এবং অন্য কোথাও আত্মগোপনে রয়েছেন।

তার ছেলে মো. আশিক উল হক, যিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। খায়রুল হক কোথায় আছেন জানতে চাইলে মো. আশিক উল হক বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, “বাবা যেখানে থাকার, সেখানেই আছেন। মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আদালত থেকে আমরা কিছু পাইনি। বিচারযোগ্য।”

জিয়াউর রহমান নন, বঙ্গবন্ধু ঘোষক: বিতর্কিত রায়ের নেপথ্যে কে?

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

দেশের বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর এবং পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ফ্যাসিস্ট শাসক’ হয়ে ওঠার পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। বিচারঙ্গনে বিতর্কিত এই বিচারপতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলার পর তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তার দেওয়া কয়েকটি রায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সুবিধাজনক হওয়ায় তিনি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৩ আগস্ট খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর পরপরই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

বিতর্কিত রায় ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু

খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো, রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে তিনি রায় দিয়েছিলেন যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন। এই রায় রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন বিভেদ সৃষ্টি করেছিল, তেমনি তার প্রতি সরকারের ‘বিশেষ সুদৃষ্টি’ নিয়েও মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে। সেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন তিনি অবসর গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করেন। অভিযোগ ওঠে, দেশের বিচার বিভাগের উচ্চাসনে বসে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করাই ছিল তার মূল কাজ।

গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত রায়সমূহ:

জিয়া নন, বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক: ২০০৯ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় দেন যে, জিয়াউর রহমান নন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক। এই রায়ে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ড, যেখানে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। খায়রুল হক নির্দেশ দেন যে, এই খণ্ডটি দেশ-বিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহার করতে হবে। রায়ে আরও বলা হয়, যারা এরকম ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত, তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল: তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়েও খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এবং সৈয়দ মাহমুদ হোসেন যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, আপিল বিভাগে সাত বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রকাশ্যে দেওয়া রায়ের মূল অংশে উল্লেখ ছিল যে, পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। কিন্তু সেই অংশকে চূড়ান্ত রায়ে ‘গায়েব’ করে দেন খায়রুল হক, যার সঙ্গে মোজাম্মেল হোসেন, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সৈয়দ মাহমুদ হোসেন একমত হন।
আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া: প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার দেওয়া বিতর্কিত রায়ের মধ্যে একটি হলো হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া। খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন ও সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মিলে একটি আগাম জামিনের আপিলের রায়ের মাধ্যমে এই এখতিয়ার কেড়ে নেন, যার ফলে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
আইনজীবীদের মামলা ও আন্দোলনের মুখে খায়রুল হক

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই খায়রুল হককে নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন এবং জালিয়াতির অভিযোগ এনে মামলা করেন। ২৮ আগস্ট দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন আরেক আইনজীবী। এর আগে ২৫ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা হয়। তাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সুপ্রিমকোর্টে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক সভায় বলেন, “বিচারাঙ্গনে কোনো মাফিয়া থাকবে না, কোনো চক্রের সিন্ডিকেট থাকবে না। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক এবং সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে ভোটের অধিকার হরণ নিশ্চিত করেছিলেন।” সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল অবেদীন যুগান্তরকে বলেন, “বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসকারী ছিলেন বিচারপতি খায়রুল হক। তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা দরকার।”

ক্ষমতার অপব্যবহার ও আত্মগোপন

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান থাকাকালে এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ২০১৩ সালে তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন কমিশনের গাড়িচালক এসএম সামসুল আলমকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠান। সামসুল আলম সম্প্রতি চাকরি ফেরত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছেন।

২০১১ সালে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরের পরপরই শেখ হাসিনা তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়ে ‘পুরস্কৃত’ করেছিলেন। তবে, গত ১৩ আগস্ট পদত্যাগ করে আড়ালে চলে যান খায়রুল হক। সূত্র বলছে, খায়রুল হক প্রথমে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন, যেখানে তিনি তার মেয়ের বাসায় ওঠেন। বর্তমানে তিনি ওই বাসায় নেই এবং অন্য কোথাও আত্মগোপনে রয়েছেন।

তার ছেলে মো. আশিক উল হক, যিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। খায়রুল হক কোথায় আছেন জানতে চাইলে মো. আশিক উল হক বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, “বাবা যেখানে থাকার, সেখানেই আছেন। মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আদালত থেকে আমরা কিছু পাইনি। বিচারযোগ্য।”