জাল সনদে নিয়োগ: ফরিদপুরের সহকারী শিক্ষক হালিমার বেতন বন্ধ
- আপডেট সময় : ০৭:৩০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / 612
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পশ্চিম বিভাগদী আব্বাসিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) হালিমা খাতুনের নিয়োগ অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় তার বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদরাসার সভাপতি মো. আনিছুর রহমান বালী। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতি ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
অভিযোগ ও তদন্তের সূত্রপাত
জানা যায়, ১৯৮৩ সালে স্থাপিত এই মাদরাসাটি ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) হালিমা খাতুনের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজ ও শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন মাদরাসার সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি গত ২১ নভেম্বর সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, হালিমা খাতুন ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) হিসেবে যোগদান করেন। অথচ তার দাখিলকৃত বিপিএড (শারীরিক শিক্ষা) পরীক্ষার সনদটিতে উল্লেখ ছিল যে তিনি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত গোপালগঞ্জের সাবেরা রউফ শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বিপিএড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এটি ১৯৯৫ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসাসমূহ) নীতিমালা বহির্ভূত। এছাড়া, ওই সনদে উল্লেখিত রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যাচাই করে দেখা যায় যে, সনদটির কোনো অস্তিত্ব নেই।
তদন্ত প্রতিবেদন ও নীতিমালা ভঙ্গ
সাইফুল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩ ডিসেম্বর সালথা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সৈয়দ ফজলে রাব্বী নোমান বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে দেখা যায়, হালিমা খাতুন ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি চাকরিতে প্রবেশ করলেও, সে সময় তার বিপিএড/ফিজিক্যাল এডুকেশন প্রশিক্ষণের কোনো সনদ ছিল না। তিনি পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ওই সনদ অর্জন করেন, যা ১৯৯৫ সালের মাদরাসার জনবল কাঠামো সম্পর্কিত নীতিমালা অনুযায়ী সঠিক নয়। নীতিমালা অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) পদে নিয়োগের জন্য স্নাতকসহ বিপিএড বা ফিজিক্যাল এডুকেশন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সব পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ থাকা বাধ্যতামূলক।
বেতন বন্ধ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পশ্চিম বিভাগদী আব্বাসিয়া দাখিল মাদরাসার সভাপতি মো. আনিছুর রহমান বালী গত ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এই তদন্ত প্রতিবেদন মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠান। একইসঙ্গে গত ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ১৮.২(ক) নীতি অনুযায়ী হালিমা খাতুনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তবে, ভারপ্রাপ্ত সুপার হালিমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে জুন মাসের বেতন শিটে তার পরিপূর্ণ বেতন-ভাতা নিয়ে ইউএনও-র স্বাক্ষরের জন্য গেলে, ইউএনও আনিছুর রহমান বালী হালিমা খাতুনের নাম বেতন শিট থেকে কেটে দেন এবং অন্যান্য শিক্ষকদের বেতন ভাতার শিটে স্বাক্ষর করেন।
শিক্ষক হালিমার বক্তব্য
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক হালিমা খাতুন জানান, তিনি ২০০০ সালে চাকরিতে যোগদান করলেও ২০১৩ সালে কুষ্টিয়া আলাউদ্দিন ফিজিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে বিপিএড পাস করেছেন। ২০০৪ সালের জমাকৃত বিপিএড সনদের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না দাবি করে বলেন, “আমার নামে কে বা কারা এটি জমা দিয়েছে, আমি কিছুই জানি না।” ২০০০ সালে চাকরিতে যোগদান করে ২০১৩ সালে বিপিএড পাস করা নীতিমালা বহির্ভূত কি-না জানতে চাইলে তিনি জানান, “বিষয়টি তখন আমি জানতাম না।”
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাদরাসার সভাপতি মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, “প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় হালিমা খাতুনের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”




















