ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’র পুনঃযাত্রা ষোড়শ সংশোধনী ‘বাতিল আদেশ’ বহাল

দুর্নীতিবাজ বিচারপতির বিচার

সাঈদ আহমেদ
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪
  • / 146

সংবিধানের বহুল আলোচিত ষোড়শ সংশোধনী ‘বাতিল আদেশ’ বহাল হয়েছে। গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সরকারের করা রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ আদেশ দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।্ ইতিপূর্বে ষোড়শ সংশোধনী বিল বাতিল ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্ট। সেই বাতিল আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশনও দায়ের করে। কিন্তু নানা অজুহাতে সেই শুনানি ঝুলিয়ে রাখে আ’লীগ সরকার। এর মধ্য দিয়ে মূলতঃ শেখ হাসিনার সরকার পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ অকার্যকর করে রাখে। সেটি পুনরুদ্ধারে তৎপর হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্যদিকে রিভিউ পিটিশনটি শুনানির উদ্যোগ নেন রিটকারীও। এর ফলশ্রুতিতে বিগত সরকারের করা রিভিউ পিটিশনটির শুনানি হয় গতকাল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। সুপ্রিমকোর্ট বারের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রূহুল কুদ্দুস কাজল। সরকারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান। পিটিশনটির নিষ্পত্তির ফলে পুনরায় উন্মুক্ত হলো দুর্নীতিবাজ, দলকানা ও অদক্ষ বিচারপতিদের বিচারের পথ। এর ফলে উচ্চ আদালতে কর্মরত অসাধু বিচারপতিদের জবাবদিহিতার বিষয়টিও নিশ্চিত হলো বলে মন্তব্য করেছেন মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তারা আরো জানান, সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে এখন থেকে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এলে সেটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের সবচেয়ে সিনিয়র দুইজন বিচারপতিকে নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে অপসারণ বা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ মহামান্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাবেন। প্রেসিডেন্ট সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ দুর্বৃত্তায়ন ও রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এলো।

রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, হাইকোর্টে কিছু বিচারক আছেন যাদের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। তাই বর্তমান সময়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

ট্যাগস :

‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’র পুনঃযাত্রা ষোড়শ সংশোধনী ‘বাতিল আদেশ’ বহাল

দুর্নীতিবাজ বিচারপতির বিচার

আপডেট সময় : ১১:২৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

সংবিধানের বহুল আলোচিত ষোড়শ সংশোধনী ‘বাতিল আদেশ’ বহাল হয়েছে। গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সরকারের করা রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ আদেশ দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।্ ইতিপূর্বে ষোড়শ সংশোধনী বিল বাতিল ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্ট। সেই বাতিল আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশনও দায়ের করে। কিন্তু নানা অজুহাতে সেই শুনানি ঝুলিয়ে রাখে আ’লীগ সরকার। এর মধ্য দিয়ে মূলতঃ শেখ হাসিনার সরকার পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ অকার্যকর করে রাখে। সেটি পুনরুদ্ধারে তৎপর হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্যদিকে রিভিউ পিটিশনটি শুনানির উদ্যোগ নেন রিটকারীও। এর ফলশ্রুতিতে বিগত সরকারের করা রিভিউ পিটিশনটির শুনানি হয় গতকাল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। সুপ্রিমকোর্ট বারের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রূহুল কুদ্দুস কাজল। সরকারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান। পিটিশনটির নিষ্পত্তির ফলে পুনরায় উন্মুক্ত হলো দুর্নীতিবাজ, দলকানা ও অদক্ষ বিচারপতিদের বিচারের পথ। এর ফলে উচ্চ আদালতে কর্মরত অসাধু বিচারপতিদের জবাবদিহিতার বিষয়টিও নিশ্চিত হলো বলে মন্তব্য করেছেন মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তারা আরো জানান, সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে এখন থেকে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এলে সেটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের সবচেয়ে সিনিয়র দুইজন বিচারপতিকে নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে অপসারণ বা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ মহামান্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাবেন। প্রেসিডেন্ট সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ দুর্বৃত্তায়ন ও রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এলো।

রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, হাইকোর্টে কিছু বিচারক আছেন যাদের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। তাই বর্তমান সময়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।